০১:০৯ এম
ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত একটি চার্জ দাবি করা হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।
এই নয়া চার্জ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে চাওয়া হয়েছে।
এভাবে নতুন এই চার্জ যুক্ত হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় কিছুটা বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন: টিনের চালের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই
এদিকে চার্জের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে দেরি হলে, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন করে চুক্তি করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে।
এ বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করতে হবে।
আরও পড়ুন: পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত হলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির
যদি চুক্তি করতে দেরি হয়, তবে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।
পরে পিডিবির আবেদনের উপর ভিত্তি করে তা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পিডিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসএনএ চার্জ কোনো বিদ্যুতের দাম নয়; এটি আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের গ্রিড অপারেশন এবং আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য খরচ।
আরও পড়ুন: সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে; দাবি মায়ের
এর ফলে খুব বেশি খরচ বাড়বে না। আর এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি করার মাধ্যমে লেনদেন সহজ হয়ে যাবে এবং এরপর কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আলাদাভাবে বিল শোধের বিষয় থাকবে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ–বাণিজ্যকে সহজতর করতে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তির জন্য ভারতের সিইআরসি এই এসএনএ ব্যবস্থা শুরু করেছে।
ভারত থেকে নেপাল এবং ভুটানেও বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।
পিডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কোন সময়ে কত বিদ্যুৎ যাবে, তার শিডিউল, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য নেওয়া, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মেলানো এবং গ্রিড পরিচালনার মতো কাজের খরচ মেটাতেই ভারত এই চার্জ দাবি করেছে।
আরও পড়ুন: ১৬ বছর যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, তারা এখন ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে : স্পিকার
বর্তমানে একাধিক চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট দুই হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে, যেখানে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন এবং পিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি আছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: একাত্তরে জনগণকে ধোঁকা, এখন ২৪ নিয়ে প্রতারণা করছে
পিডিবির কর্মকর্তাদের মতে, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এই চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাহলে এ বিদ্যুতের জন্য আলাদা করে এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন