বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:২৮ পি.এম
খুলনা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস)-এর নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর এবং ‘সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ, চ্যালেঞ্জিং ও দায়িত্বশীল পেশা। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা কঠিন হলেও সংবাদ প্রকাশের আগে ফ্যাক্ট চেক অত্যন্ত জরুরি। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যাতে কারও সম্মানহানি না হয়, সেদিকেও সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত থাকবেই। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও মতের ভিন্নতা স্বাভাবিক। তবে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম। বিদায়ী কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন সভাপতি আলকামা রমিন ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান। দায়িত্ব হস্তান্তর পর্বে বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দাপ্তরিক ফাইল হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও লেখক মোহসীন উল হাকিম।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। এটি একটি উপভোগ্য পেশা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক সময় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা প্রশাসনের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাই তরুণ সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে লেখালেখি করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের সাংবাদিকতা জীবনে সুন্দরবন নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি সুন্দরবনের জেলে সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবন, বনদস্যুতা এবং সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুবিসাসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশিক উর রহমান। এ পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান সারা মনামী হোসেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুবিসাসের সদস্য শাফিউল ইসলাম ও ফৌজিয়া ফারিয়া জেবা। এতে খুলনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নির্বাহী পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ ‘গোপাল ভাঁড়’। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আর সিরিজটির কোনো নতুন পর্ব সম্প্রচার করা হবে না।
মধ্যযুগের কিংবদন্তি রসিক চরিত্র গোপাল ভাঁড়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই অ্যানিমেশন সিরিজটি শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। গোপালের বুদ্ধি, রসবোধ এবং মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের দরবার ঘিরে যে নানা হাস্যরসাত্মক ঘটনা দর্শকদের উপহার দেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘদিন তাঁদের বিনোদন দিয়েছিল।
বছরের পর বছর ধরে টেলিভিশনের পাশাপাশি ইউটিউবের মাধ্যমে সিরিজটির জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। কোটি কোটি ভিউয়ের মাধ্যমে এটি বাংলা অ্যানিমেশন জগতের অন্যতম সফল প্রযোজনার মর্যাদা অর্জন করে নেয়।
সিরিজটি বন্ধ হওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রিয় চরিত্র এবং শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সিরিজের সমাপ্তিতে অনেক দর্শকই নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন।
নতুন পর্বের পথচলা থেমে গেলেও গোপাল ভাঁড়ের বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, হাস্যরস এবং স্মরণীয় ঘটনাগুলো দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। বাংলা বিনোদন ও পপ-কালচারে ‘গোপাল ভাঁড়’ বিশেষ একটি অধ্যায় হিসেবেই থাকছে স্মরণীয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মগবাজারে ঘটে যাওয়া এক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সকলের নজর কেড়ে নিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই দুর্ঘটনায় একজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় ফায়ার সার্ভিসের। এরপর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, এরপরও ভবন থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বলেন, "মগবাজারে বিশাল সেন্টারের পাশে একটি ভবনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।" তিনি আরো বলেন, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে শুধু ধোঁয়া দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, "আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে একজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।"
পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানাধীন ২১৭ ও ২১৭/এ, আউটার সার্কুলার রোড, মগবাজারের একটি ভবনের তৃতীয় তলার মধ্যে আগুন লেগে যায়। ঘটনাস্থলে হাতিরঝিল থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। আগুন দেখতে সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে। নিরাপত্তার কারণে সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : থানচি উপজেলায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে থানচি উপজেলা জোত মালিক সমিতি ৭ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষচারা বিতরণ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার, বেলা ১১টায় থানচি বাজার প্রাঙ্গণে সমিতির উদ্যোগে বৃক্ষচারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়ে থাকে।
এই কর্মসূচির আওতায় রূপালি আম, আমড়া, মিষ্টি তেঁতুল, বারি-৪ আম, বরইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা স্থানীয় কৃষক, বাগানচাষি, অসহায় পরিবার ও আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও থানচি উপজেলা জোত মালিক সমিতির সভাপতি শৈবাথোয়াই মারমা স্থানীয়দের হাতে বৃক্ষচারা তুলে দেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষচারা বিতরণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৃক্ষচারা বিতরণকালে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মংহাইসিং মারমা, জোত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মংছোরী মারমা, সহ-সভাপতি মংসাগ্য মারমা, হ্লাচিংমং মেম্বার, মংপ্রুসে মারমাসহ বিভিন্ন সমিতির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমিতির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিতরণ করা চারাগুলো যদি যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করা হয়, তাহলে থানচির পাহাড়ি পরিবেশ আরও সবুজ, সমৃদ্ধ ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় বিদ্যুতের পরিবর্তে সোলার পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমে যাবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেছেন। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরির জন্য ঢাকা শহরে নির্ধারিত কিছু কারখানা ঠিক করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
আবদুস সালাম বলেন, ওই সময়সীমার মধ্যে বিদ্যুতের পরিবর্তে সোলার পদ্ধতিতে রিকশাগুলো চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কম পড়তে পারে। তিনি যোগ করেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপও কমবে। সরকারের এই বিষয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তবে আবদুস সালাম সবাইকে জানান, তিন মাস বা দশকের কোনো সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ মাসের মধ্যে ১৭ বছরের বা ৫০ বছরের সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি বলেন, "ধৈর্য ধরেন, সরকারকে সময় দেন। ইনশাআল্লাহ সরকার সবকিছু করবে।"
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে, মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিতে হবে না। এর ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের পেশাগত কষ্টও কমবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ