০৪:৪১ পি.এম
বগুড়ার বহুল আলোচিত ৮ বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেন হত্যা মামলার রায়, প্রায় ৮ বছর পর আদালত ঘোষণা করেছে। ২০১৮ সালের ঘটনার এই মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং অপর পাঁচজনকে, যাঁরা অপরাধ ঘটানোর সময় নাবালক ছিলেন, ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেছেন। মৃতদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম (পাঁচফুল)। এই আসামিদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে, অপরাধ সংঘটনের সময় আইনের দৃষ্টিতে শিশু থাকা সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বর্তমান বয়স প্রায় ২৬ বছর। নিহত বাচ্চাটি, রিফাত হোসেন, শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। মামলার সব আসামিরা রিফাতের প্রতিবেশী ও পরিচিত। মামলার নথি ও আদালত সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই এনামুল হকের কাছে প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ এক লাখ টাকা ধার চান। যখন এনামুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেদিন বিকেলে রিফাতকে অপহরণ করা হয় এবং হত্যা করা হয়, পরে মরদেহ গুম করা হয়। রিফাত নিখোঁজ হওয়ার পরে তার পরিবার বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করতে থাকে এবং না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিন দিন পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের স্বামীর মাধ্যমে খবর আসায়, পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের একটি ব্রিজের নিচে শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। এই ঘটনায় তিন দিন পরে ১৮ জুলাই শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা এনামুল হক। আদালত সূত্র থেকে জানা যায়, মামলায় প্রথমে ১১ জনকে আসামি করা হলেও বিচার চলাকালে মাসুদ রানা মারা যাওয়ায় তার নাম বাদ দেওয়া হয়। আসামিরা বিচার চলাকালে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সরকারি কৌঁসুলি মো. আলী আসগর জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৮ ধারাসহ হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। অপরাধ সংঘটনের সময় প্রাপ্তবয়স্ক থাকায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং নাবালক হওয়ায় অপর পাঁচজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন