প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যা উজান থেকে আসা ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে হচ্ছে। তবে এখনও জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে। রবিবার (২১ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৭০ মিটারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯৮ মিটার নিচে অবস্থান করছে। তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২৯ দশমিক ৬৮ মিটারে গিয়ে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ১৯ মিটার নিচে অবস্থান করছে।
দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বেড়ে ২৮ দশমিক ৬১ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে পানির উচ্চতা যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৮২ মিটার ও ২১ দশমিক ৪৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। উভয় পয়েন্টেই পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ৩০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ২৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়ায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পানি বৃদ্ধির কারণে জেলায় প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমিতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের বুড়িরবাধ এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে তার বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে তাকে অপরিপক্ব বাদাম তুলতে বাধ্য হতে হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাও রয়েছে।
জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন