০৮:২৯ এম
ইউক্রেন যুদ্ধের বয়স সাড়ে চার বছর অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে রাশিয়ার শান্তিকামী মানুষের শেষ রাজনৈতিক বিকল্পটুকুও ক্রেমলিন কাড়িয়ে নিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দেশের একমাত্র যুদ্ধবিরোধী দল ‘ইয়াবলকো’র ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ওই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ক্রেমলিনপন্থী এক জাতীয়তাবাদী দলের দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ভিয়াচেস্লাভ কিরিলভ স্টেট দুমার নবম অধিবেশনের নির্বাচনে ইয়াবলকোর প্রার্থী তালিকা বাতিলের রায় জারি করেন।
রায় প্রকাশের পরপরই আদালতের বাইরে সমবেত হওয়া প্রায় একশ তরুণ সমর্থক ‘ধিক্কার! ধিক্কার!’ স্লোগানে পুরো চত্বরকে উত্তপ্ত করে তোলে। এই রায় শোনার পর ইয়াবলকো প্রধান নিকোলাই রাইবাকভ ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমাদের সামনে দীর্ঘ পথ বাকি রয়েছে। আমাদের প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মানুষের মৃত্যু থামিয়ে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে।
বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ বিরোধীরা কারাবন্দী, নির্বাসিত বা মৃত হয়ে যাওয়ায় ইয়াবলকোই ছিল রাশিয়ায় সক্রিয় শেষ উদারপন্থী শক্তি। প্রয়াত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়াও দলটিকে সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও রাশিয়ায় তাদের দুজনকেই ‘উগ্রপন্থী’ তালিকায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আইফোনের মাধ্যমে নিশ্চিত হলো বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের পরিচয়
রুশ ভাষায় ‘ইয়াবলকো’ শব্দটির অর্থ ‘আপেল’। চলতি বছরের একটি জরিপে দলটির জনসমর্থন ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, যা পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশের বাধা পূরণে ব্যর্থ। ক্রেমলিনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে ২০০৩ সালের পর থেকে তারা কোনো আসন পায়নি; প্রতিবারই জয় পেয়েছে পুতিনের ক্ষমতাসীন ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ দল।
হলেও স্বতন্ত্র সমীক্ষা অনুযায়ী, বেশি সংখ্যক সাধারণ রুশ জনগণ কিয়েভের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে চান। কিন্তু ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে সংলাপ নাকচ করে পুতিনের অনড় অবস্থানের কারণে কূটনৈতিক শান্তিপ্রচেষ্টা বারবার থমকে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফজলুর রহমান: কেপিতে গভর্নরের শাসন সংবিধানের অপব্যবহার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন