০৮:৩৫ এম
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইয়েমেন ফের বড় ধরনের সংঘাতের মুখে পড়েছে। গত ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরে অনুমতি ছাড়া আসা একটি ইরানি বিমানকে লক্ষ্য করে সৌদি জোটের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে নতুন উত্তেজনার সূচনা ঘটে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া ‘মাহান এয়ার’ নামে পরিচিত ওই বিমানটিতে ছিলেন উচ্চপর্যায়ের হুথি প্রতিনিধিদল। ফলে বিমানটি সানা বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে পারেনি। এর পাশাপাশি, এই ঘটনার বদলা নিতে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্র এবং লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, পাশাপাশি তারা নৌ-অবরোধও ঘোষণা করে। জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদাইদা ও কামারান দ্বীপে পাল্টা বিমান হামলা চালায়, এবং সীমান্তজুড়ে স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেয়। হুথিরা পাল্টা ইয়েমেনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক ক্যাম্প এবং কৌশলগত মোখা বন্দরে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর ফলে সেখানে বহু সেনা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর তেহরানের নির্দেশে হুথিরা আঞ্চলিক চাপ তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, নিজেদের এলাকায় চরম অর্থনৈতিক সংকট ও জনক্ষোভের সমস্যা ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের আকাশসীমা ও সমুদ্রবন্দরের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, এবং সৌদি অবরোধকে দায়ী করছে।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০২২ সালের চুক্তির পর ইয়েমেন এখন সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে। ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এড়াতে ওমানের মধ্যস্থতায় পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও, উভয়পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বর্তমানে কোনো টেকসই সমঝোতায় পেঁৗছানো সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: ইসলামে ব্যবসার ১০টি মূলনীতি: সততা, মিথ্যা ও প্রতারণার নিষেধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন