বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৪ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে সন্ত্রাসবাদ, ইসলামপন্থা ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের বিরুদ্ধে উঠেছে।
একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এসব সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত শিরোনামগুলোতে এল-সাইদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ধরা হলেও, অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রমাণ নেই—এমন তথ্য খুব কমই জানানো হয়েছে।
নিউজকর্ডের সাংবাদিক নিমা আকরামের তৈরি বিশ্লেষণটি ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। বিশ্লেষণে ১৪১টি সংবাদমাধ্যমে এল-সাইদকে নিয়ে প্রকাশিত ৯২০টি শিরোনাম এবং সংরক্ষিত ৭৪০টি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণের সময়সীমা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সাইদকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিরোনাম প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ—১৮১টি। নিউইয়র্ক পোস্ট এ সংখ্যা ১০৮টি। নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনামের সংখ্যা ৫১।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, এল-সাইদকে সন্ত্রাসবাদ, ইসলামপন্থা কিংবা মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করে ৬৮টি শিরোনাম প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি এসেছে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্ট থেকে। অথচ এল-সাইদকে নিয়ে প্রকাশিত মোট শিরোনামের এক-তৃতীয়াংশেরও কম ছিল এই দুই সংবাদমাধ্যমের।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২৪টি শিরোনামে কোনো অভিযোগকারীর বক্তব্য উদ্ধৃত না করেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ভাষায় এল-সাইদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বা ইসলামপন্থার সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি শিরোনাম ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের।
অন্যদিকে, ৪৫টি শিরোনামে অভিযোগগুলোকে মুসলিমবিদ্বেষী বা ভিত্তিহীন বলা হয়েছে কিংবা এল-সাইদের পাল্টা বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের কোনো শিরোনামই এই শ্রেণিতে পড়েনি।
অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নেই—এ তথ্যও প্রকাশ করেছে ফক্স। মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা ফক্স নিউজের ২৬টি প্রতিবেদনের মধ্যে মাত্র দুটিতে সংবাদমাধ্যমটি নিজস্ব ভাষায় জানিয়েছে, অভিযোগটির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। নিউইয়র্ক পোস্টের এ ধরনের ১৭টি প্রতিবেদনের কোনোটিতেই এমন মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি। অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর ৭৬টি প্রতিবেদনের মধ্যে ২৯টিতে অভিযোগটির পক্ষে প্রমাণের অভাব তুলে ধরা হয়েছে।
ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্ট প্রায় তিন মাস ধরে এল-সাইদ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামপন্থার সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। কিন্তু অভিযোগগুলোর ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন বা প্রমাণের অভাব সম্পর্কে পাঠকদের খুব কমই জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সাইদকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের লোক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান পলিটিফ্যাক্ট ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘প্যান্টস অন ফায়ার’ বা সম্পূর্ণ মিথ্যা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘জিহাদি’ মন্তব্য নিয়ে নীরবতার অভিযোগ। ২৫ অক্টোবর মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এল-সাইদকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দেন। এ সময় তিনি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গও তোলেন এবং বলেন, এল-সাইদের সিনেটে প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত।
এর পরবর্তী তিন দিনে ৩৪টি সংবাদমাধ্যম এ ঘটনা নিয়ে ৩৮টি শিরোনাম প্রকাশ করে। এনপিআর শিরোনামে ট্রাম্পের বক্তব্যকে এল-সাইদের বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরে। সিবিএস নিউজও তার ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের আক্রমণের বিষয়টি উল্লেখ করে।
তবে এল-সাইদকে নিয়ে ১৮১টি শিরোনাম প্রকাশ করা ফক্স নিউজ এ ঘটনাকে একটি সংবাদ-সংকলনে সংক্ষেপে উল্লেখ করে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে কোনো শিরোনাম প্রকাশ করেনি। একই দুই দিনে এল-সাইদকে সমর্থনকারী একটি বিজ্ঞাপনে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য ইসরাইলকে দায়ী করার বিষয়টি নিয়ে পাঁচটি শিরোনাম প্রকাশ করেছিল পত্রিকাটি।
মুসলিম প্রার্থীকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করে তিন মাস ধরে সংবাদ প্রকাশ করা এই দুই সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের সরাসরি আক্রমণের সময় বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।
এল-সাইদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ। এল-সাইদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্কের অভিযোগের ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
১৫ অক্টোবর ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এল-সাইদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। ফক্সের ওই প্রতিবেদনে অভিযোগের পক্ষে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল, তা মূলত এল-সাইদের বৈমাত্রেয় বোনের ২০১২ সালের দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট। পোস্টগুলোতে ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে মিসরে তাঁদের মায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ ছিল।
এল-সাইদের জন্ম ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে। ফলে তার জন্মেরও এক দশকের বেশি আগে তার মায়ের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাকে যুক্ত করার বিষয়টি প্রতিবেদনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
ফক্স নিউজের ৩০৫ শব্দের ওই প্রতিবেদনের মধ্যে ১৯৯ শব্দে ট্রাম্পের অভিযোগ ও এল-সাইদের মাকে নিয়ে পোস্টের কথা তুলে ধরা হয়। এল-সাইদের অস্বীকৃতির জন্য রাখা হয় ৯৫ শব্দ। তার প্রচারশিবিরের মন্তব্য চাওয়ার কথা জানাতে ব্যয় হয় ১১ শব্দ। কিন্তু তার মায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে এল-সাইদের ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় না—এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে কোনো শব্দ ব্যয় করা হয়নি বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন অন্য সংবাদমাধ্যমগুলো কেন খবরটি প্রকাশ করেনি, তা নিয়ে ফক্স নিউজ প্রশ্ন তোলে। ওই প্রতিবেদনে সিএনএনের সাংবাদিক অ্যাবি ফিলিপের বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, এল-সাইদ তার জৈবিক মায়ের কাছে বড় হননি; তার বয়স যখন তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। ফলে মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ যাচাই করা হয়নি এবং তার মিশিগানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
অভিযোগের জবাব দেওয়াকে ‘উত্তেজিত আচরণ’ হিসেবে তুলে ধরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের জবাব দেওয়ার সময় এল-সায়েদের প্রতিক্রিয়াকেও কিছু সংবাদমাধ্যম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে।
১৫ অক্টোবর ফক্স নিউজের এক শিরোনামে বলা হয়, পরিবারের মুসলিম ব্রাদারহুড-সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের মুখে এল-সাইদ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একই দিনে নিউইয়র্ক পোস্ট তার প্রতিক্রিয়াকে ‘ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা’ হিসেবে তুলে ধরে। ডেইলি মেইলও ২২ অক্টোবরের এক শিরোনামে তাকে ‘নিয়ন্ত্রণ হারানো’ ধরনের ভাষায় বর্ণনা করে।
অথচ এল-সাইদ প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তিনি ১৯৮৪ সালে মিশিগানে জন্মেছেন, সেখানেই বড় হয়েছেন এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার জন্মেরও আগে মিসরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে তাকে কেন জবাব দিতে হবে।
নিজের জন্মের অনেক আগের পারিবারিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এল-সায়েদ প্রশ্নটির যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তার প্রতিক্রিয়াকে উত্তেজিত বা আক্রমণাত্মক আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তথ্য যাচাইকারী সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন
এল-সাইদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি সমর্থন জানানোর অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও তথ্য যাচাইকারী সংস্থা অনুসন্ধান করেছে।
ব্রিজ মিশিগান এল-সাইদ মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। ১৯ অক্টোবর পলিটিফ্যাক্ট রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের এই দাবি মিথ্যা বলে মূল্যায়ন করে যে, এল-সাইদ মুসলিম ব্রাদারহুডের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
২৭ অক্টোবর ট্রাম্পের এল-সাইদকে ‘জিহাদি’ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলার দাবিকেও পলিটিফ্যাক্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা হিসেবে মূল্যায়ন করে। এ ছাড়া, রজার্সের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের একটি শিরোনাম সংশোধন করে।
তবে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা ৪৩টি প্রতিবেদনের কোনোটিতেই এসব তথ্য যাচাইয়ের ফলাফল উদ্ধৃত করা হয়নি।
বিশ্লেষণের সীমাবদ্ধতা
নিউজকর্ডের বিশ্লেষণ সংবাদমাধ্যমটির নিজস্ব আর্কাইভে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪১টি সংবাদমাধ্যমের ৯২০টি শিরোনাম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত ৭৪০টি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আর্কাইভে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত সব খবর নেই। ফলে বিশ্লেষণটি তাদের সব সংবাদ বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। তবু সংরক্ষিত শিরোনাম ও প্রতিবেদনের তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এল-সাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের শিরোনাম এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণের অভাব সম্পর্কে তাদের প্রতিবেদনের ভাষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ছিল।
সূত্র: নিউজকর্ডের বিশ্লেষণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে নেয়া হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি ও সরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এ মন্তব্য করেন।
গণশুনানিতে সরকারের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৩২ টাকা।
বিইআরসি প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ ও যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার সংবিধানের অপব্যবহার করেছে এবং অসাংবিধানিক পদক্ষেপের আশ্রয় নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামিয়াত উলামায়ে ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমানের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, কেন্দ্র ও কেপি প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সংঘাত কমাতে, গত ১১ অক্টোবর কেন্দ্র সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘অসহযোগিতার’ অজুহাত দেখিয়ে কেপিতে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ফজলুও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) বুধবার দেওয়া ভাষণে মাওলানা ফজলুর রহমান উল্লেখ করেন, কেন্দ্র সরকার দাবি করছে যে তারা সংবিধান অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সরকারের এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানের অপব্যবহার করেছে। সাধারণ আইনের অপব্যবহারের মতোই, এখানে সংবিধানের অপব্যবহার করা হয়েছে।
প্রবীণ এই রাজনীতিক জোর দিয়ে বলেন, কেপিতে গভর্নরের শাসন জারি করার মাধ্যমে জনগণের রায়ের পরিবর্তে ‘জোরপূর্বক’ ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রাদেশিক সরকারের ওপর আমার নিজস্ব দ্বিমত বা ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু বিপ্লব ঘটিয়ে সবকিছু উল্টে দিয়ে পরিবর্তন আনার পথ এটি নয়। কোনো পরিবর্তনের জন্য আপনাদের অবশ্যই জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে।’ সংবিধান ও সংসদের পবিত্রতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফকেও দায়ী করেন।
জেইউআই-এফ প্রধানের এই অভিযোগের জবাবে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, কেপিতে গভর্নরের শাসন মাত্র ছয় মাসের জন্য দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা কেবল সন্ত্রাসবাদপ্রবণ কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলায় কার্যকর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে যেকোনো একদিকে অবস্থান নিতে হবে-হয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে থাকতে হবে, না হয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও আফগানিস্তানের সমর্থক হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বালুচিস্তানের পরিস্থিতি কেপির চেয়ে ভিন্ন। কেপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি ইসলামাবাদের অভিমুখে লংমার্চ করতে প্রদেশের সরকারি তহবিল ও সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন। চৌধুরীর অভিযোগ, ‘আফ্রিদি এমনকি সন্ত্রাসীদের পক্ষে সাফাইও গেয়েছেন।’
ভাষণে সরকারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশ রক্ষা ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ বন্ধে একটি নতুন 'মেথাক-ই-জমহুরিয়ত' (গণতন্ত্রের সনদ) স্বাক্ষরের আহ্বান জানান ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সহনশীলতা দিন দিন শেষ হয়ে আসছে এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’
কেপিতে একই সাথে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি ইতিহাসে প্রথম কোনো ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি, যেখানে পুরো প্রদেশের বদলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তা কার্যকর করা হয়েছে। ১২টি জেলায় বিশেষ পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত জরুরি অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘প্রদেশের অর্ধেক অংশে গভর্নরের শাসন এবং বাকি অর্ধেক অংশে জরুরি অবস্থা চলছে।’
ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআই-এর লংমার্চ চলাকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে নিজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ফজলু জানান, পিটিআই নেতারা তাঁকে বিষয়টি মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করেছিলেন।
তিনি জানান, পিটিআই এবং পিএমএল-এন (পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ)-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী তখন পিটিআই-কে লংমার্চ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।
ফজলু স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘পরদিন সকালে (উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ইসহাক দার আমাকে ফোন করে বলেন যে মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না এবং কেপিতে গভর্নরের শাসন জারি করা ছাড়া উপায় নেই।’
১১ অক্টোবরের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি একটি ফোন পান, যেখানে তাঁকে জানানো হয় যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এর কিছুক্ষণ পরই কেপিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, ‘সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ইসহাক দার আবারও আমাকে ফোন করে বলেন যে মন্ত্রিসভা এই চুক্তিতে রাজি নয়। তারা যেকোনো মূল্যে সেখানে গভর্নরের শাসন জারি করতে চায়। আমি তখন বলেছিলাম, গতকাল থেকে আমাদের নেওয়া সব প্রচেষ্টা মাটি হয়ে গেল। আমি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার আশা করেছিলাম, কিন্তু সরকার তা প্রত্যাখ্যান করল।’
নিজের সব উদ্যোগই ‘রক্তপাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে’ ছিল উল্লেখ করে ফজলু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে বালুচিস্তানে কমিশনারদের অপহরণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, সেখানকার পরিস্থিতি কি কেপির চেয়েও খারাপ নয়?
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সফল হয়েছে-মন দাবি কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে করে?’
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, যাঁরা তাঁর দলের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের জানা উচিত যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর দল বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের দলের শহীদদের এবং অবদানকে এখন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রে জরুরি অবস্থা জারির কয়েক দিন পর ফজলু অভিযোগ করেছিলেন যে সরকার প্রদেশগুলোকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কেপি সরকারের অসহযোগিতার যে দাবি তোলা হয়েছে, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তোপের মুখে পড়ার পর ফজলু স্পষ্ট করেন, সরকারের নীতির সমালোচনা কোনো প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার জন্য নয়, বরং নীতি সংশোধনের জন্য করা হয়েছে।
তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার দল শহীদদের দল। আপনারা আমাদের শহীদদের দেখতে পান না, আর আমাদের ত্যাগ নিয়ে মশকরা করা হচ্ছে।’
জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, পাকিস্তান দেশের প্রতিটি নাগরিকের, বিশেষ কোনো ব্যক্তির একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। খনিজ সম্পদ বণ্টন সম্পর্কিত সরকারের নীতির নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের এই ‘সংবিধান লঙ্ঘন ও আগ্রাসন’ প্রতিরোধে তাঁর দল রাজনৈতিক শক্তি সংগঠিত করছে এবং জেইউআই-এফ কখনো কোনো সীমারেখা অতিক্রম করেনি।
সরকারকে শক্তির নীতি পরিহার করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে আমরাও মুখোমুখি হতে তৈরি। আমরা মরতে রাজি আছি। আপনাদের হাতে মরতে রাজি আছি, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় অপরাধী হিসেবে মরতে রাজি নই। আপনারা যদি সংঘাত চান, তবে আমরা এখানেই প্রস্তুত হয়ে বসে আছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র হচ্ছে মায়ের মতো, কিন্তু এই মা তার সব সন্তানদের সাথে সমান ও ন্যায্য আচরণ করছেন না।
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ফেডারেল মন্ত্রিসভার সুপারিশে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে কেপিতে জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলগুলো। ফজলুর রহমানের পাশাপাশি 'তেহরিক-ই-তাহাফুজ আইন-ই-পাকিস্তান'-এর প্রবীণ নেতা মেহমুদ খান অচাকজাই এবং রাজা নাসির আব্বাসও সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। গভর্নরের শাসন জারির আগে কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই তাঁদের নেতার মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে বিক্ষোভের ডাক দিলে কেন্দ্র ও পিটিআই-পরিচালিত কেপি সরকারের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে ফজলুর রহমানকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কেপিতে নতুন সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে না পেরে এবং গভর্নর পদ না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।’ লাহোরে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, এই রাজনীতিক নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে কয়েক দশক ধরে ‘এস্টাবলিশমেন্টের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।’ পরদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের এসব বক্তব্যকে নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও 'চরিত্রহনন' বলে মন্তব্য করে প্রত্যাখ্যান করেন মাওলানা ফজলুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষার কারণে ঘটেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮ ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সময় ১০টা ১০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়ায়। তবে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
মুম্বাইভিত্তিক কেডিয়া কমোডিটিজের পরিচালক অজয় কেডিয়া মন্তব্য করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের অবস্থান সমন্বয়ের কারণে স্বর্ণের দামে এই পতন ঘটেছে।
এর আগে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত সুদের হারে পরিবর্তন পিছিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৭৮ শতাংশ। ফেডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৮৪ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) দিকে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি পরিমাপে এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩ দশমিক ১৫ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম একই হারে কমে ১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৭০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির গুলশান ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই মেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে জব ফেয়ারের শুভ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির, রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন প্রফেসর ড. মীর মোহাম্মদ আজাদ, স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল-এর ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
‘এক্সিলেন্স বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ‘অফিস অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ এই মেলার আয়োজন করে।
এবারের জব ফেয়ারে পুঁজিবাজার, জীবনবিমা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও বিনোদনসহ একাধিক খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ছিল লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স, কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেড, স্টার সিনেপ্লেক্স, ইউনাইটেড ফিন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি, সম্ভব জবস, আবুল খায়ের গ্রুপ এবং ক্যারিয়ার প্রো বিডি।
দিনব্যাপী মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেন এবং জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সেতুবন্ধন জোরদার করতেই এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের চাহিদা বুঝে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ