ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজকের জন্য কাঁদছেন ফিলিস্তিনিরা


গাজায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজকের জন্য কাঁদছেন ফিলিস্তিনিরা

ফিলিস্তিনিদের দুঃখের যেন শেষ নেই। কান্নাই তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই দুঃখের মধ্যেও তাদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছিলেন একজন মানুষ। যখন বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পুরো বিশ্ব মাতোয়ারা, তখন গাজার উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের জন্যও বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। হাজারো ফিলিস্তিনির মন জয় করা সেই ব্যক্তিকেও হত্যা করেছে ইসরাইল।

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপের চিত্র। খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসার অভাব রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে কোনোরকমে বেঁচে থাকার লড়াই করছে ২০ লক্ষাধিক মানুষ। এসব অসহায় মানুষের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন মিশরীয় ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি।

গাজায় মিশরের প্রধান ত্রাণ সংস্থার এই সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে অনেকের কাছে তিনি পরিচিত মানবিক সহায়তাকর্মীদের একজন। গত মাসে ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হলে তিনি গাজাবাসীর জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন।

আরও পড়ুন: বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত

ইসরাইলি হামলার মধ্যেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার সুযোগ হাজারো ফুটবলপ্রেমীকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু গাজা অন্তপ্রাণ সেই মানুষটাকেই হত্যা করল ইসরাইল।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলার প্রাক্কালে গাজার সাবরা এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে ৫৭ বছর বয়সি মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি সহ চারজনকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১০ ও ৮ বছর বয়সি দুই ভাইবোনও ছিল, যারা ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র (পিসিএইচআর) জানিয়েছে, হামলায় নিহত চতুর্থ ব্যক্তি ছিলেন ৩০ বছর বয়সি আহমেদ জেহাদ রজব দোগমুশ। তিনি ট্যাক্সির ভেতরে ছিলেন। তবে তিনি চালক ছিলেন নাকি যাত্রী, তা স্পষ্ট নয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা একজন হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল এবং নিরীহ ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত।

ইসরাইলি বিমান হামলায় ওয়াহিদির মৃত্যুতে গাজা উপত্যকাজুড়ে মুহূর্তে গভীর শোকের ঢেউ বয়ে যায়। তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তার কাজের ছবি ও ভিডিওতে ভরে ওঠে। সেই সঙ্গে আসতে থাকে শত শত শোকবার্তা। বিশেষ করে যারা ত্রাণ বিতরণের সময় বা বাস্তুচ্যুত মানুষদের শিবিরে থাকার সময় তার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের কাছ থেকে।

আরও পড়ুন: ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা করেছি, আবারো হামলা চালাব: ট্রাম্প

গাজাবাসীর অনেকেই বলেন, তিনি গোটা উপত্যকার আশ্রয়শিবিরগুলোতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তিনি অফিসে বসে কাজ পরিচালনার বদলে মাঠপর্যায়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন।

তার সাথে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি নিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থাকতেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন এবং তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করতেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল পরিবারগুলোকে, বিশেষত শিশুদের, যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে কিছুটা সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া।

মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি মূলত গাজায় মিসরীয় রিলিফ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক ছিলেন। যুদ্ধের সময় ধ্বংসস্তূপ সরানো, সড়ক চালু করা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়শিবির নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মিসরীয় রিলিফ কমিটি জানিয়েছে, আল-ওয়াহিদি সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মানুষের বিরোধ মীমাংসা করতেন, অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করতেন এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় দেখানোর আয়োজন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মুখে কিছুটা আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

গত বুধবার (৮ জুলাই) গাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গাজার হাজার মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন। দাফনের আগে আল-ওয়াহিদির মরদেহ ফিলিস্তিন ও মিসরের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো হয়। দিনভর প্রতিবেশী, বন্ধু ও স্বজনরা তার বাড়িতে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

আল-ওয়াহিদির ছেলে ফাওয়াজ রয়টার্সকে ফোনে বলেন, ‘আমার বাবা বাস্তুচ্যুত মানুষ, যুদ্ধের শিকার পরিবার এবং গাজার কষ্টে থাকা মানুষের জন্য অন্তত কিছুটা আনন্দ এনে দিতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি তাদের তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের পাশে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন।’

ফাওয়াজ আরও বলেন, ত্রাণ সংস্থায় কাজ করা খুবই কঠিন ছিল। তবু তার বাবা সবসময় বলতেন, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।

মিশরের দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আল-ওয়াহিদি ত্রাণ সংস্থাটির লজিস্টিক কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। এই সংস্থাটি গাজায় মিশর সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সূত্রগুলো আরও জানায়, মিশরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল-ওয়াহিদির মৃত্যুর বিষয়টি ইসরাইলের কাছে উত্থাপন করেছেন। তিনি গাজায় চলমান বিমান হামলা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

মিসরের ম্যাচগুলো বিপুল দর্শক টেনেছে, যা এই দলটির প্রতি গাজার বহু ফিলিস্তিনির দীর্ঘদিনের ভালোবাসার প্রতিফলন—যারা দীর্ঘকাল ধরে প্রতিবেশী দেশ মিসরের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, আবেগগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছেন।

ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর মাঝে বড় পর্দার সামনে জড়ো হওয়া শিশু ও পরিবারগুলোর ভিডিও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই সংঘাতের মধ্যেও আনন্দের বিরল দৃশ্য তুলে ধরে। মিশর বনাম আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচ প্রদর্শনীর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আল-ওয়াহিদি নিহত হন, যা অনেক ফিলিস্তিনির মনে ক্ষতির বেদনা আরও গভীর করে তোলে।

আল-ওয়াহিদির কাজের নথিপত্র রাখতেন ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ হুমাইদ। সহকর্মীর মৃত্যুতে তিনি লিখেছেন: ‘তিনি শুধু একটি মানবিক কমিটির ত্রাণকর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাস্তুচ্যুত ও সর্বস্বহারা মানুষদের জন্য প্রতিদিন খুলে যাওয়া আশার এক দুয়ার।’

তিনি আরও লেখেন, ‘যারা তাকে চিনতেন, তারা সবাই তার দয়া, সততা ও উদারতার কথা বলেন।’ ‘গাজায় যারা নিজেদের জীবন অন্যকে সাহায্য করার জন্য উৎসর্গ করেছেন, তারাও রেহাই পান না। কিন্তু ভালো কাজ কখনো মরে না। তা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।’

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা

আল-ওয়াহিদির মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজায় মানবিক সহায়তাকর্মীরা এখনো ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে চলেছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫৯৩ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন—যার মধ্যে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ১০ মাস আগে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পরও আটজন নিহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ চলাকালে পুরুষদের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়: স্কাইলার মে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ পি.এম


বিশ্বকাপ চলাকালে পুরুষদের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়: স্কাইলার মে

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধুমাত্র মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর প্রভাব অনেক ভক্তের ব্যক্তিগত আচরণেও প্রতিফলিত হয়। এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ২৩ বছর বয়সী কনটেন্ট নির্মাতা স্কাইলার মে।

তিনি জানিয়েছেন, চার মিলিয়নের বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা স্কাইলার জানান, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে পুরুষ ফুটবল সমর্থকদের কাছে তার কাছে ব্যক্তিগত কনটেন্টের অনুরোধ ও বার্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে, তার মাসিক আয়েও প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত যোগ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

স্কাইলারের ভাষ্য অনুযায়ী, সমর্থকদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের জার্সি পরে ভিডিও তৈরি করা, প্রতিপক্ষ দলকে নিয়ে মজার কনটেন্ট এবং নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের ঘিরে বিশেষ ভিডিও বানানোর অনুরোধ করেন। কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন, ম্যাচের আগে তার তৈরি ব্যক্তিগত ভিডিও দেখলে তাদের প্রিয় দলের সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও জানান, অনেক সমর্থক তাকে নির্দিষ্ট দলের জার্সি, মোজা বা শর্টস পরে দলের স্লোগান বলতে কিংবা ম্যাচের প্রস্তুতির অভিনয় করতে অনুরোধ করেন। এমনকি অনেকে বলেন, কোন খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করতে হবে বা কাকে এড়িয়ে যেতে হবে—এসব বিষয়েও তারা বিস্তারিত নির্দেশনা দেন।

স্কাইলারের মতে, ফুটবল অনেক মানুষের পরিচয় এবং আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বকাপের সময় সেই আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং ব্যক্তিগত আচরণেও তার প্রভাব প্রকাশ পায়।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের কাছ থেকেও নিয়মিত অনুরোধ পান। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইংলিশ সমর্থকদের মধ্যে কুসংস্কারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। কেউ একই মোজা বা অন্তর্বাস পরে ম্যাচ দেখাকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করেন, আবার কেউ বিশেষ খাবার খাওয়া অথবা দাড়ি না কাটার মতো বিশ্বাসও লালন করেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের তিনি তুলনামূলক ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, তারা প্রতিপক্ষকে নিয়ে কম মন্তব্য করে নিজেদের দলকে উৎসাহিত করতে বেশি আগ্রহী।

স্কাইলারের ধারণা, এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকাপের আবহে থাকার কারণে অনেক সমর্থকের আবেগ, উদযাপন এবং ব্যক্তিগত অনুভূতিতে এর প্রভাব পড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবার দায়ের কোপে প্রাণ গেল কিশোরীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


বাবার দায়ের কোপে প্রাণ গেল কিশোরীর

সিলেটে বাবার দায়ের কোপে খুন হয়েছে এক কিশোরী। পুলিশের মতে মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মানতে না পারার কারণে পিতা এ নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। নিহত কিশোরীর নাম রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) এবং তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রামের আবু বক্করের কন্যা।

স্থানীয় সূত্র উদ্ধৃত করে জানা যায়, রিয়া নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে গোসলে descends যায়। সেই সময় তার পিতা আবু বক্কর ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রিয়া মারা যান। ঘটনার পরই আবু বক্কর পালিয়ে যান।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি মাহফুজুল করিম জানান, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মানতে না পেরে বাবা এ অপরাধ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


ময়মনসিংহে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় একটি চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আট বছরের এক শিশুর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক সুমন আহমেদ (২৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া যুবক মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের নিমুরিয়া (মধ্যপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ঐ যুবককে গ্রেফতার করা হয় এবং শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির পরিবার, পুলিশ এবং মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে শিশুটি তার বাড়ির পাশে খেলছিল। এই সময় সুমন তাকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর, সুমন শিশুটিকে ধমক দেন যে, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু হয়েছে কি না, মা জিজ্ঞাসা করলেও শিশুটি কিছু বলেনি। রাতে শিশুটির জ্বর আসে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেশী শিশুরা যখন তাকে খেলার জন্য ডাকতে আসে, তখন সে অসুস্থতার কথা জানায়। একপর্যায়ে সে অন্য এক শিশুকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। প্রতিবেশী ওই শিশুর মাধ্যমে আরও কয়েকজন জানালে, এক পর্যায়ে তার মা এই খবর জানতে পারেন। এরপর মেয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বিস্তারিত জানায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সুমনকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তাগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটিকে জবানবন্দির জন্য শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়। শনিবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। শিশুটির মা বলেছেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ের পেটে ব্যথা। সে কিছু খেতে পারে না। কিন্তু ভয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। গতকাল আমরা যখন জানতে পারলাম, তখন এলাকার লোকজন সুমনকে ধরে পুলিশের হাতে দিয়ে দেয়। আমার দুটি মেয়ের মধ্যে এই মেয়ে বড় ছিল। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, এর উপযুক্ত বিচার চাই।’ মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। লোকলজ্জা এবং ভয়ের কারণে শিশুটি প্রথমে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি, কিন্তু পরে খেলার ছলে আরেক শিশুকে বিষয়টি জানায়। ওসি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামি সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন এবং তাকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষ, ত্রাণ নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হাফিজুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদন মোঃ শরীফ উদ্দিন

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষ, ত্রাণ নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হাফিজুর রহমান

হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এটি টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হয়েছে। সেইসঙ্গে নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

খোয়াই নদী হবিগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর মধ্যে একটি, যা বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হাফিজুর রহমান বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দল নিয়ে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করেছেন এবং দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।

খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়ে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন তারা।

এদিকে হবিগঞ্জের ইসলামি সংগীতশিল্পী শায়ের মিজান কাদরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে দেশের সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক মানুষকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "যারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন, সবাই এগিয়ে আসুন। হবিগঞ্জের বন্যাকবলিত মানুষের এই দুর্দিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।"

স্থানীয়রা জানান, অনেক এলাকায় এখনও মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

তারা সরকার, প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি দ্রুত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্গত মানুষের প্রত্যাশা, মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়ালে দুর্যোগ মোকাবিলা অনেকটা সহজ হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%