০৯:৩৩ পি.এম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় একটি চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আট বছরের এক শিশুর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক সুমন আহমেদ (২৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া যুবক মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের নিমুরিয়া (মধ্যপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ঐ যুবককে গ্রেফতার করা হয় এবং শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির পরিবার, পুলিশ এবং মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে শিশুটি তার বাড়ির পাশে খেলছিল। এই সময় সুমন তাকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর, সুমন শিশুটিকে ধমক দেন যে, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু হয়েছে কি না, মা জিজ্ঞাসা করলেও শিশুটি কিছু বলেনি। রাতে শিশুটির জ্বর আসে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেশী শিশুরা যখন তাকে খেলার জন্য ডাকতে আসে, তখন সে অসুস্থতার কথা জানায়। একপর্যায়ে সে অন্য এক শিশুকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। প্রতিবেশী ওই শিশুর মাধ্যমে আরও কয়েকজন জানালে, এক পর্যায়ে তার মা এই খবর জানতে পারেন। এরপর মেয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বিস্তারিত জানায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সুমনকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তাগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটিকে জবানবন্দির জন্য শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়। শনিবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। শিশুটির মা বলেছেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ের পেটে ব্যথা। সে কিছু খেতে পারে না। কিন্তু ভয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। গতকাল আমরা যখন জানতে পারলাম, তখন এলাকার লোকজন সুমনকে ধরে পুলিশের হাতে দিয়ে দেয়। আমার দুটি মেয়ের মধ্যে এই মেয়ে বড় ছিল। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, এর উপযুক্ত বিচার চাই।’ মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। লোকলজ্জা এবং ভয়ের কারণে শিশুটি প্রথমে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি, কিন্তু পরে খেলার ছলে আরেক শিশুকে বিষয়টি জানায়। ওসি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামি সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন এবং তাকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন