০১:৪৪ পি.এম
বাংলাদেশের জন্য দুটি প্রকল্পে ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
মূলত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের মূল্য ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
শনিবার (২৭ জুন) একটি বিজ্ঞপ্তিতে দাতা সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জরুরি সতর্কতা জারি
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা, বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের মূল্য ও সরবরাহের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং সংকটের সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসমের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে খাদ্য, সার এবং জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আর্থিক সংকটও গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধান উৎপাদনের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষা করা এবং অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো চালু রাখতে এই প্রভাব মোকাবিলা করতে বিশ্বব্যাংক তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।
খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জরুরি সহায়তা প্রকল্পে ৩০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। এই অর্থ জুলাই-অক্টোবর ২০২৬ এবং অক্টোবর ২০২৬-এ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে ব্যয় করা হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ
বাংলাদেশ তার মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন অত্যাবশ্যকীয় সার আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে, যেখানে অর্ধেকই হবে ইউরিয়া। এই সারগুলো ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সুলেমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই মৌসুমে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ হয়ে থাকে। দেশে প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষি খাতে নিয়োজিত। তাই সারের সরবরাহে যেকোনো ধরনের ব্যাঘাত খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং দারিদ্র্য বাড়াতে পারে, তাছাড়া কর্মসংস্থানও কমিয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট-এর আওতায় ৭১৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করা হবে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা এবং জীবিকা নির্বাহে সহায়তা দিতে ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া এটি সংকটের সময়ে মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখতে এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় সহায়তা করবে। খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি, শক্তি এবং পানিসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো চালু রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পটির অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
আরও পড়ুন: হাজার ডিসেম্বর গেলেও হাসিনা ফিরবেন না : রাশেদ খাঁন
বিশ্বব্যাংকের প্রধান দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ কর্ডেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ নতুনভাবে ব্যবহার করে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতে সম্পদ পৌঁছে দেয়া হবে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের অভিঘাতের প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া টুলকিটের আওতায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক তহবিল সহায়তা দেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন