১২:১৮ পি.এম
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করার দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি (ফটিকছড়ি অংশ) আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে জেলা ইজতেমা শেষ হচ্ছে কাল: বিদেশি মেহমানসহ লাখো মুসল্লির ঢল, সকালে আখেরি মোনাজাত
হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজি দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা ২০ থেকে ২৫ টি স্থানে পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেছে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের ঘটনা ঘটে নাই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের একাধিক টিম গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শাহাদাত হোসাইন বলেন, "জালিয়াতির মাধ্যমে সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলা নাম ফটিকছড়ি উত্তর হলে সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে হতে হবে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।"
আরেক আন্দোলনকারী জসিম উদ্দিন বলেন, "আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি উপজেলা সদর রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যেই বাধা আসবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সদরদপ্তর স্থানান্তর করতে হবে।"
আরও পড়ুন: নেত্রকোনার পূর্বধলার ৮ নম্বর বিশকাকুনি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু হানিফ, জনসেবায় নানা উদ্যোগ
হরতালকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, "পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন