১০:৪২ পি.এম
রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪ টার দিকে, তিনি উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত চিকিৎসাসেবা সহ অনেক মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এর আগে, দুপুরে ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান। পরে বিকেল ৪টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত অস্থায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার বর্তমান অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। তিনি চিকিৎসা নিতে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাত্রা এবং নানা সমস্যার বিষয়ে অবগত হন।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান
পরে, তিনি ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানেও তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত চিকিৎসা এবং মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং ক্যাম্পগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা ও উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদান সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
এ সময়, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে তুরস্কই একমাত্র দেশ, যারা সরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছে। অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সম্পৃক্ততার নজির নেই।
তিনি জানান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে অর্ধদিবসের জন্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তুরস্কের রাষ্ট্রদূত।
সফরকালে প্রতিনিধিদলটি তুরস্ক পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তারা ক্যাম্প-৯ এ অবস্থিত তুর্কি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন, রোগীদের খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের কার্যক্রমে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে ক্যাম্প-১৬ পরিদর্শনকালে, তারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়াও, রোহিঙ্গা যুবক-যুবতীদের জন্য পরিচালিত কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সফরের অংশ হিসেবে তারা বৃক্ষরোপণও করেন।
আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক তহবিল সংকটের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অর্থায়নে চাপ সৃষ্টি হলেও তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এবং এ মানবিক সংকট মোকাবিলায় তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন