সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৫ পি.এম
একটি দল লং মার্চের মাধ্যমে দাবি করেছে যে ডিসেম্বরে সরকারকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবে। অন্যদিকে, এক পতিত স্বৈরাচার বিদেশে বসে ডিসেম্বরে ফিরে আসার কথা বলার মধ্যে একটি যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নরসিংদী জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নরসিংদী রেলস্টেশনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "আপনারাই বলেন তেল নাই অথচ আপনারাই কয়েকশ গাড়ি নিয়ে রোড মার্চ করেন, তখন তেলের অভাব হয় না।" তিনি আরও বলেন, "আপনারা বলেন আমাদেরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিবেন, ক্ষমতাচ্যুত করবেন।" তিনি এ সভা থেকে জানান, "আমরা জাতীয়তাবাদী দল জনগণের কল্যাণে, জনগণের সুখে-শান্তিতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ইনশাল্লাহ, আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখে, আমরা এই দুঃসাহস রাখি— আগামী পাঁচ বছর পর আবার আমরা জনগণের মুখোমুখি হবো। জনগণের কাজের হিসাব দিব। যদি আমরা ভালো কিছু করতে পারি, জনগণ আমাদেরকে সমর্থন দিবে।" তিনি হুশিয়ার করে বলেন, "কিন্তু ভয় দেখিয়ে, ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে, সরকারের পতন ঘটিয়ে দিবেন— ঐ স্বপ্ন যারা দেখেন, তাদেরকে সতর্ক করে দিতে চাই। আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও অগ্রিমের একটি বড় অংশ শিল্প এবং বাণিজ্য খাতে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাস শেষে, ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে শিল্প খাতে ঋণের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। বাণিজ্য ও কমার্স খাতে ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৫৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। এভাবে, শিল্প ও বাণিজ্য—এই দুই খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বড় অংশ শিল্প ও বাণিজ্য খাতে কেন্দ্রীভূত থাকায়, যদি এ দুই খাতে ঋণের মানের অবনতি ঘটে, তবে পুরো আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেই তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, ঋণ অনুমোদনের আগে যথাযথ যাচাই, ঋণ প্রদান পরবর্তী নিয়মিত তদারকি এবং ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৯ লাখ টাকা বা ৫ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। বিপরীতে, ঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫১৫ লাখ টাকা বা ৭ হাজার ৪১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট ওভারডিউ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ২১৯ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
শিল্প খাতে ৪৪.১৫ শতাংশ ঋণ
শিল্প খাতে ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে। জুন মাস শেষে, শিল্প খাতে ঋণের স্থিতি ৩৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা। মোট ঋণের তুলনায় এর অংশ ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে ৪৪ টাকার বেশি শিল্প খাতে রয়েছে। শিল্প খাতে শুধু ঋণের স্থিতিই বড় নয়, বরং এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। জুন মাস শেষে, শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৭ হাজার ৮৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। শিল্প খাতের মোট ঋণের তুলনায় খেলাপির পরিমাণ প্রায় ২২ দশমিক ৮২ শতাংশ।
শিল্প খাতের ঋণকে বিভিন্ন উপখাতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে, মেয়াদি ঋণ বা টার্ম লোনের স্থিতি ছিল ২৮ হাজার ৫৮১ কোটি ১ লাখ টাকা। এই উপখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৬১৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ফাইন্যান্সিংয়ের স্থিতি ছিল ৫ হাজার ৭৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং ওভারডিউ ছিল ১ হাজার ২৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ফ্যাক্টরিংয়ের ঋণ স্থিতি ছিল ১৭৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং এ খাতে ওভারডিউ ছিল ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। জুন মাসে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৪৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। একই সময়ে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বাণিজ্য খাতে ১৯.৯১ শতাংশ
শিল্পের পর, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ বাণিজ্য ও কমার্স খাতে রয়েছে। জুন মাস শেষে, এ খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ১৫ হাজার ৫৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ রয়েছে এই খাতে।
বাণিজ্য খাতেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। জুন মাস শেষে, এ খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ হাজার ৬৪৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, বাণিজ্য খাতের মোট ঋণের প্রায় ৪২ দশমিক ৭৬ শতাংশই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাণিজ্য খাতের উপখাতগুলোর মধ্যে পাইকারি বাণিজ্যে ঋণের স্থিতি ছিল ৮ হাজার ৪৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ছিল ৪ হাজার ২৬১ কোটি ২১ লাখ টাকা। খুচরা বাণিজ্যে ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ০২৬ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৭৩৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অন্যান্য বাণিজ্যিক ঋণের স্থিতি ছিল ১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং খেলাপি ১২ কোটি ৭ লাখ টাকা। মার্জিন ঋণ বা শেয়ার লেনদেনের জন্য ঋণের স্থিতি ছিল ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ছিল ৩১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, লিজ ফাইন্যান্সের ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং খেলাপি ছিল ১ হাজার ৩২২ কোটি ৯ লাখ টাকা। জুন মাসে বাণিজ্য ও কমার্স খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ৪১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। একই সময়ে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা।
দুই খাতে ৬৪.০৬ শতাংশ ঋণ
শিল্প ও বাণিজ্য খাতের ঋণ একত্র করলে মোট ৫০ হাজার ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা দাঁড়ায়। মোট ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ঋণের মধ্যে এই দুই খাতের অংশ ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই শিল্প ও বাণিজ্য খাতে রয়েছে। এর মধ্যে শিল্প খাত একাই মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং বাণিজ্য খাত ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ ধারণ করছে। তবে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও এই দুই খাত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। মোট ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে শিল্প খাতে রয়েছে ৭ হাজার ৮৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বাণিজ্য খাতে ৬ হাজার ৬৪৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দুই খাত মিলে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ রয়েছে।
নির্মাণ খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের তৃতীয় বৃহত্তম খাত নির্মাণ। জুন মাস শেষে, নির্মাণ খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৯৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এই খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। নির্মাণ খাতের মধ্যে আবাসন খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৫ হাজার ১৮০ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৮১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আবাসন ছাড়া অন্যান্য নির্মাণ খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৬১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা।
জুন মাসে নির্মাণ খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩২৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৭৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
ভোক্তা ঋণে ৯ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা
ভোক্তা অর্থায়নেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য ঋণ রয়েছে। জুন মাস শেষে, ভোক্তা অর্থায়ন খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৯ হাজার ৮৫৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৫০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
জুন মাসে ভোক্তা অর্থায়নে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৮২০ কোটি ৩ লাখ টাকা। একই সময়ে ঋণ আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১০ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ
অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ খাতে জুন মাস শেষে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এই খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩২০ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং আদায় হয়েছে ২৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
পরিবহন খাতে ঋণ ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা
পরিবহন খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের স্থিতি ছিল ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৪৫ কোটি টাকা। পরিবহন খাতের মধ্যে সড়ক পরিবহনে ঋণের স্থিতি ছিল ১ হাজার ২৩৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং ওভারডিউ ৩২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। নৌপরিবহনে ঋণের স্থিতি ছিল ২২৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং খেলাপি ১০৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। বিমান পরিবহনে ঋণের স্থিতি ছিল ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং ওভারডিউ ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
কৃষি, মৎস্য ও বন খাত
কৃষি, মৎস্য ও বন খাতেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ রয়েছে। জুন মাস শেষে, এই খাতে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৭০০ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং খেলাপি ২২১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৬৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং খেলাপি ১৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মৎস্য খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৪৬ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৩৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বন ও লগিং খাতে প্রতিবেদনে কোনো ঋণ স্থিতি বা ওভারডিউ দেখানো হয়নি।
মোট খেলাপি ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো খেলাপি। জুন মাস শেষে, মোট ওভারডিউ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট ঋণ স্থিতির তুলনায় খেলাপির পরিমাণ প্রায় ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। মোট খেলাপির মধ্যে শিল্প খাতে রয়েছে ৭ হাজার ৮৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বাণিজ্য খাতে ৬ হাজার ৬৪৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। নির্মাণে ১ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৭ লাখ, পরিবহনে ৪৪৫ কোটি, ভোক্তা অর্থায়নে ৯৫০ কোটি ২৮ লাখ, অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণে ৮৬৩ কোটি ৮৭ লাখ এবং অন্যান্য বা বিবিধ খাতে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খেলাপি রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণকে "ওভারডিউ" নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের প্রান্তিকের তুলনায় খেলাপি কমেছে
চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। জুন মাস শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক প্রান্তিকের ব্যবধানে মোট ঋণের স্থিতি কমেছে ৩১০ কোটি ২১ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ মার্চ প্রান্তিকের ৫ হাজার ৫৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে জুন প্রান্তিকে ৫ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন মাসে বিতরণ বেড়েছে ১৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
তবে ঋণ আদায়ের পরিমাণ কমেছে। মার্চ মাস শেষে আদায় ছিল ৭ হাজার ৮৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। জুন মাস শেষে তা নেমে এসেছে ৭ হাজার ৪১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, আদায় কমেছে ৪৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ মার্চ মাস শেষে ছিল ১৮ হাজার ৭৯৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জুন মাস শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৩৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
ঋণের বড় অংশ উৎপাদন ও বাণিজ্যনির্ভর
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রান্তিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে শিল্প ও বাণিজ্য রয়েছে। মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ শিল্প খাতে এবং ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ বাণিজ্য খাতে থাকায়, দুই খাত মিলিয়ে ঋণের ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
এর বাইরে, নির্মাণ খাতে ৯ হাজার ৯৯৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ভোক্তা অর্থায়নে ৯ হাজার ৮৫৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণে ৬ হাজার ৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, পরিবহন খাতে ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং কৃষি, মৎস্য ও বন খাতে ৭০০ কোটি ৯১ লাখ টাকা ঋণের স্থিতি রয়েছে। বিবিধ খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৩৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী মন্তব্য করেছেন যে, ছোট ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ঋণ অনুমোদন ও পরিশোধের সময় তুলনামূলকভাবে কঠোর নজরদারি থাকলেও, বড় ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী যোগাযোগ ও বিশেষ সুবিধার কারণে আদায় প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ঋণের অর্থ ব্যবসার উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত আয় তৈরি করতে পারে না; ফলে সময়মতো ঋণ পরিশোধও কঠিন হয়ে পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুথি বিদ্রোহী এবং সউদী সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিমান হামলা, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ভয়াবহতার কারণে হাজার হাজার ইয়েমেনি নাগরিক লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছেন, জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)-এর তথ্যমতে, লোহিত সাগর উপকূলে নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার ফলে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে হুথিরা অগ্রসর হওয়ার পর সউদী সমর্থিত বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। জবাবে হুথিরাও সউদী আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্র পাড়ি
ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর ধুবাব থেকে নিজের ডিঙ্গি নৌকায় পরিবার নিয়ে জিবুতির ‘মারকাজি’ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৫০ বছর বয়সী জেলে ইব্রাহিম ঈসা। তিনি বলেন, “যখন বিমানের বিকট শব্দ শুরু হয়, তখন শিশুরা আতঙ্কে চিৎকার ও কাঁপুনি শুরু করে। বাবা-মা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাদের রক্ষা করা। তাই সন্তানদের বাঁচাতে গৃহহীন হয়ে এখানে পালিয়ে এসেছি।”
শিবিরে শতবর্ষী বৃদ্ধ কাসিম আব্রাহাম আবসি বলেন, “কোন পক্ষ হামলা চালাচ্ছে তা আমরা জানি না। আকাশে বিমান আসে আর চারপাশে বোমা ফেলে। শিশুদের সুরক্ষার জন্যই আমাদের এই জীবনযুদ্ধ।”
জিবুতির পরিস্থিতি
ইয়েমেনের ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত ছোট দেশ জিবুতি এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র কয়েক দিনে প্রায় ৩,০০০ ইয়েমেনি শরণার্থী জিবুতির মারকাজি শিবিরে এসে পৌঁছেছেন। অনেকে পরিধানের কাপড় ছাড়া আর কিছুই সাথে আনতে পারেননি।
২০১৪ সাল থেকে চলা এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও দুই পক্ষের সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।"
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় জামায়াত আমির এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও মন্ত্রীদের অসংলগ্ন মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, "বগুড়ার পাশের জেলা হলো সিরাজগঞ্জ। বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি ওখানেই। উনি বলেন, আমাদের দেশে নাকি কোনো লোডশেডিং নেই, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই! তাঁর মতে, গ্রামে বিদ্যুতের তার নাকি একটু লম্বা, তাই বিদ্যুৎ ঠিকমতো পৌঁছানো যায় না! লজ্জা! এ রকম একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।"
জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আজ ৭ মাস পেরিয়ে গেছে, সংসদের তিনটি অধিবেশনও শেষ হলো। কিন্তু জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, আপনারা সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলেন না কেন? আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন করবেন, এক কোটি তরুণকে চাকরি দেবেন। অথচ এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতির রেট বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট যখন বিএনপি-র নেতৃত্বের সারিতে ছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে যে দাবি ছিল, আজ বিরোধী দলগুলো সেই একই দাবিই জানাচ্ছে। "আপনারা বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দেবেন। তৎকালীন বিরোধীদের মুখে স্লোগান ছিল 'গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে'। আমরা তো নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না! মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা যে স্লোগান দিয়েছিলেন, আজ আমরাও সেটাই বলছি। আপনারা তা দিতে ব্যর্থ বলেই আমাদের বাধ্য হয়ে লংমার্চে নামতে হয়েছে।"
কৃষি খাতের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমার কৃষক ভাই আজ সময়মতো সার পাচ্ছে না। ১৪০০ টাকার সার তাদের এখন ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ মেলে না, অন্যদিকে ডাবল-ট্রিপল বিল এনে সাধারণ মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।"
বগুড়ার ঐতিহাসিক জমায়েতকে মোবারকবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমরা শুধু চেয়েছিলাম ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। আপনারা ঘর ছেড়ে বের হয়ে আজকের এই বগুড়াকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছেন। আমাদের এই লংমার্চের ডাকে আজ সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা জায়গায় জায়গায় প্রশ্ন তুলছে—বিরোধীদল এত আগেই কেন লংমার্চ করছে? আমরা তাদের জবাবে জিজ্ঞেস করি, আপনারা ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন?"
তিনি আরও যোগ করেন, "গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছিলেন, আমরাও চেয়েছিলাম। আমরা আমাদের জায়গায় অটল আছি, কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? যদি জনগণের সাথে প্রতারণা না করতেন, তবে আমাদের এই লংমার্চ করার কোনো প্রয়োজন হতো না।"
সিরাজগঞ্জ পার হওয়ার সময়ের একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "সিরাজগঞ্জের পথে আসার সময় লক্ষ্য করলাম সবাই আমাকে এক আঙুল দেখাচ্ছে। প্রথমে বুঝতে পারিনি, পরে গাড়ির কাঁচ নামাতেই তারা চিৎকার করে বলে উঠল—'দাদু, এক দফা! এক দফা!' সেই এক দফার ডাক আসলে আজ দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রবাহ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় আগস্ট মাসে আন্তঃব্যাংক বাজারের ওপর ব্যাংকগুলোর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে তারল্য নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। কলমানি এবং আন্তঃব্যাংক রেপো লেনদেন সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন বাজারে সুদের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে আন্তঃব্যাংক তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবহার জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, সহজ মুদ্রানীতির কারণে আগামী মাসগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য প্রণোদনা এবং ঋণপ্রবাহ সহজ করার উদ্যোগ এর সঙ্গে যুক্ত হলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বাড়তে শুরু করায় বাণিজ্য অর্থায়নের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি সিকিউরিটিজের সুদহার ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসুদের কাছাকাছি আসতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্টে দেশের মানি মার্কেটে তারল্য পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদা মেটাতে আন্তঃব্যাংক উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।
কলমানিতে লেনদেন ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা:
অগাস্টে কলমানি বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ওভারনাইট বা একদিন মেয়াদি কলমানি। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ৮৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৮ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
আগস্টে ওভারনাইট কলমানিতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এক বছর আগের আগস্টের তুলনায় এ খাতের লেনদেন ১৫ হাজার ১৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ভারিত গড় সুদের হার কমেছে ৬৪ বেসিস পয়েন্ট।
কলমানির মোট লেনদেনের ৮০ দশমিক ৪৩ শতাংশই ছিল ওভারনাইট লেনদেন। ফলে স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বেশি ব্যবহার ছিল একদিন মেয়াদি অর্থের।
স্বল্প নোটিশের কলমানিতে ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি:
দুই থেকে ১৪ দিন মেয়াদি স্বল্প নোটিশের কলমানিতেও আগস্টে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ২০ হাজার ৩৩৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা বেড়েছে ১ হাজার ৭৮২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে ৭ হাজার ৪২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এ খাতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০০ বেসিস পয়েন্ট কম।
মেয়াদি কলমানিতে বড় পতন:
অন্যদিকে ১৫ থেকে ৩৬৪ দিন মেয়াদি টার্ম কলমানিতে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগস্টে এ খাতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৭১৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা কমেছে ১ হাজার ১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৮০২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৫২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
টার্ম কলমানিতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১১৬ বেসিস পয়েন্ট কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগস্টে কলমানি বাজারে ওভারনাইট তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। স্বল্প নোটিশের অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি আন্তঃব্যাংক তহবিলের চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। একই সঙ্গে আগের বছরের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি অর্থের ব্যয় কমেছে।
আন্তঃব্যাংক রেপোতে লেনদেন ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা:
কলমানির পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক রেপো বাজারেও আগস্টে বড় ধরনের সম্প্রসারণ হয়েছে। ব্যাংকগুলোর জামানতভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ২৮ হাজার ৯৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এর মধ্যে সাত দিন মেয়াদি রেপো সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ৫৭ হাজার ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা মোট আন্তঃব্যাংক রেপোর ৫০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একদিন মেয়াদি রেপোতে লেনদেন হয়েছে ২৯ হাজার ১২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা মোটের ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
একদিন মেয়াদি আন্তঃব্যাংক রেপোতে আগের মাসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৬ হাজার ২৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা ১২৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ খাতে ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৬০ বেসিস পয়েন্ট কম।
সাত দিন মেয়াদি রেপোতে লেনদেনের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ১৯ হাজার ৯৬১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৫৫ হাজার ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ২ হাজার ১৫২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ খাতে ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় ৮৯ বেসিস পয়েন্ট কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তঃব্যাংক রেপোর কার্যক্রম বৃদ্ধির অর্থ হলো ব্যাংকগুলো জামানতভিত্তিক আন্তঃব্যাংক অর্থায়নের ওপর বেশি নির্ভর করছে। লেনদেন বাড়লেও রেপোর সুদের হার এক বছর আগের তুলনায় কম থাকায় অর্থায়ন ব্যয় তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো নেওয়া কমেছে:
আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বাড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুবিধা নেওয়া কমেছে। আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭১ হাজার ৯৪৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা কমেছে ১৭ হাজার ৮৪৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এর মধ্যে একদিন মেয়াদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপোর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ১৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা মোটের ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সাত দিন মেয়াদি রেপোর পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ৭৪৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা মোটের ৮৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ দিন মেয়াদি রেপো সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে স্থগিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো কার্যক্রম কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরতা আগের মাসের তুলনায় কমেছে।
স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং বেড়েছে, আমানত সুবিধা কমেছে:
আগস্টে ব্যাংকগুলোর স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বা এসএলএফ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। এ মাসে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সুবিধার আওতায় নিয়েছে ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা বেড়েছে ২২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
তবে আগের বছরের আগস্টের তুলনায় এসএলএফ ব্যবহারের পরিমাণ ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং জরুরি তারল্য সহায়তার চাহিদা কমার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য রাখার জন্য ব্যবহৃত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি বা এসডিএফে আগস্টে জমা হয়েছে ৯২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। আগের মাসের তুলনায় এটি কমেছে ১১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এসডিএফ ব্যবহার বেড়েছে ২৪৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বিশেষ তারল্য সহায়তায় ৯০ হাজার কোটি টাকা:
আগস্টে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সুবিধা ও ইসলামী ব্যাংক তারল্য সুবিধার আওতায় মোট ৯০ হাজার ৫২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আগের মাসের তুলনায় এ অর্থায়ন বেড়েছে ১০ হাজার ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি বা আইবিএলএফের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৭২৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অ্যাসিউরড রেপোর আওতায় দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ কোটি ১২ লাখ টাকা। মুদারাবা লিকুইডিটি সাপোর্ট ছিল ১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা এবং বিশেষ তারল্য সহায়তা বা এসএলএস ছিল ২ হাজার ২১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ক্যাপিটাল মার্কেট রেপোর পরিমাণ ছিল ৫৩৯ কোটি টাকা।
তবে এক বছর আগের আগস্টের তুলনায় বিশেষ তারল্য সুবিধা ও আইবিএলএফের ব্যবহার ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হয়নি:
আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম আয়োজন করেনি।
অন্যদিকে সরকার ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সংগ্রহে সক্রিয় ছিল। আগস্টে ট্রেজারি বিলের পাঁচটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামের মাধ্যমে মোট ৪৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা বা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।
ট্রেজারি বিলের সুদে বড় পতন:
আগস্টে স্বল্পমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজের সুদের হার বা কাট-অফ ইয়িল্ডে ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড মাসের শুরুতে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ থাকলেও ৩০ আগস্ট তা কমে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ মাসের মধ্যে এ হার ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমেছে।
১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড ২ আগস্টের ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ থেকে ৩০ আগস্টে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তিন ধরনের ট্রেজারি বিলের ইয়িল্ড কমে আসা স্বল্পমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারে অর্থায়ন ব্যয় কমার এবং সরকারি সিকিউরিটিজের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
আন্তঃব্যাংক অর্থায়নে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো:
আগস্টের মানি মার্কেটের সামগ্রিক চিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। কলমানি বাজার সক্রিয় থাকলেও আন্তঃব্যাংক রেপোর লেনদেন আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে আন্তঃব্যাংক রেপোর কার্যক্রম কলমানির লেনদেনকে ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি সহায়তার পরিবর্তে আন্তঃব্যাংক বাজারভিত্তিক অর্থায়নের দিকে ঝোঁক স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগস্টে দেশের মানি মার্কেট সক্রিয় ছিল। কলমানি ও আন্তঃব্যাংক রেপোতে শক্তিশালী লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর ওপর নির্ভরতা কমেছে। কলমানি বাজারে একদিন মেয়াদি লেনদেনের আধিপত্য বজায় থাকলেও আন্তঃব্যাংক রেপোতে তুলনামূলক দীর্ঘ স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবহার বেড়েছে।
সব মিলিয়ে আগস্টে দেশের স্বল্পমেয়াদি অর্থবাজারে তারল্য প্রবাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্থের আদান-প্রদান বেড়েছে, জামানতভিত্তিক আন্তঃব্যাংক অর্থায়নের ব্যবহার জোরদার হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরতা আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মানি মার্কেট সুদের হার আগের বছরের তুলনায় নিচে অবস্থান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব প্রবণতা দেশের মানি মার্কেটে আন্তঃব্যাংক তারল্য সঞ্চালন উন্নত হওয়া এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবহার বৃদ্ধির প্রতিফলন।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বাড়ার বিষয়টিকে এককভাবে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও ঋণচাহিদা বৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে দেখা যাবে না। বরং ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি অর্থ নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তনও এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ