সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৭ পি.এম
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।"
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় জামায়াত আমির এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও মন্ত্রীদের অসংলগ্ন মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, "বগুড়ার পাশের জেলা হলো সিরাজগঞ্জ। বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি ওখানেই। উনি বলেন, আমাদের দেশে নাকি কোনো লোডশেডিং নেই, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই! তাঁর মতে, গ্রামে বিদ্যুতের তার নাকি একটু লম্বা, তাই বিদ্যুৎ ঠিকমতো পৌঁছানো যায় না! লজ্জা! এ রকম একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।"
জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আজ ৭ মাস পেরিয়ে গেছে, সংসদের তিনটি অধিবেশনও শেষ হলো। কিন্তু জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, আপনারা সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলেন না কেন? আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন করবেন, এক কোটি তরুণকে চাকরি দেবেন। অথচ এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতির রেট বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট যখন বিএনপি-র নেতৃত্বের সারিতে ছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠে যে দাবি ছিল, আজ বিরোধী দলগুলো সেই একই দাবিই জানাচ্ছে। "আপনারা বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দেবেন। তৎকালীন বিরোধীদের মুখে স্লোগান ছিল 'গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে'। আমরা তো নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না! মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা যে স্লোগান দিয়েছিলেন, আজ আমরাও সেটাই বলছি। আপনারা তা দিতে ব্যর্থ বলেই আমাদের বাধ্য হয়ে লংমার্চে নামতে হয়েছে।"
কৃষি খাতের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমার কৃষক ভাই আজ সময়মতো সার পাচ্ছে না। ১৪০০ টাকার সার তাদের এখন ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ মেলে না, অন্যদিকে ডাবল-ট্রিপল বিল এনে সাধারণ মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।"
বগুড়ার ঐতিহাসিক জমায়েতকে মোবারকবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমরা শুধু চেয়েছিলাম ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। আপনারা ঘর ছেড়ে বের হয়ে আজকের এই বগুড়াকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছেন। আমাদের এই লংমার্চের ডাকে আজ সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা জায়গায় জায়গায় প্রশ্ন তুলছে—বিরোধীদল এত আগেই কেন লংমার্চ করছে? আমরা তাদের জবাবে জিজ্ঞেস করি, আপনারা ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন?"
তিনি আরও যোগ করেন, "গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছিলেন, আমরাও চেয়েছিলাম। আমরা আমাদের জায়গায় অটল আছি, কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? যদি জনগণের সাথে প্রতারণা না করতেন, তবে আমাদের এই লংমার্চ করার কোনো প্রয়োজন হতো না।"
সিরাজগঞ্জ পার হওয়ার সময়ের একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "সিরাজগঞ্জের পথে আসার সময় লক্ষ্য করলাম সবাই আমাকে এক আঙুল দেখাচ্ছে। প্রথমে বুঝতে পারিনি, পরে গাড়ির কাঁচ নামাতেই তারা চিৎকার করে বলে উঠল—'দাদু, এক দফা! এক দফা!' সেই এক দফার ডাক আসলে আজ দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রবাহ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় আগস্ট মাসে আন্তঃব্যাংক বাজারের ওপর ব্যাংকগুলোর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে তারল্য নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। কলমানি এবং আন্তঃব্যাংক রেপো লেনদেন সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন বাজারে সুদের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে আন্তঃব্যাংক তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবহার জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, সহজ মুদ্রানীতির কারণে আগামী মাসগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য প্রণোদনা এবং ঋণপ্রবাহ সহজ করার উদ্যোগ এর সঙ্গে যুক্ত হলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বাড়তে শুরু করায় বাণিজ্য অর্থায়নের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি সিকিউরিটিজের সুদহার ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসুদের কাছাকাছি আসতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্টে দেশের মানি মার্কেটে তারল্য পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি অর্থের চাহিদা মেটাতে আন্তঃব্যাংক উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।
কলমানিতে লেনদেন ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা:
অগাস্টে কলমানি বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ওভারনাইট বা একদিন মেয়াদি কলমানি। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ৮৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৮ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
আগস্টে ওভারনাইট কলমানিতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এক বছর আগের আগস্টের তুলনায় এ খাতের লেনদেন ১৫ হাজার ১৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ভারিত গড় সুদের হার কমেছে ৬৪ বেসিস পয়েন্ট।
কলমানির মোট লেনদেনের ৮০ দশমিক ৪৩ শতাংশই ছিল ওভারনাইট লেনদেন। ফলে স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বেশি ব্যবহার ছিল একদিন মেয়াদি অর্থের।
স্বল্প নোটিশের কলমানিতে ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি:
দুই থেকে ১৪ দিন মেয়াদি স্বল্প নোটিশের কলমানিতেও আগস্টে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ২০ হাজার ৩৩৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা বেড়েছে ১ হাজার ৭৮২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে ৭ হাজার ৪২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এ খাতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০০ বেসিস পয়েন্ট কম।
মেয়াদি কলমানিতে বড় পতন:
অন্যদিকে ১৫ থেকে ৩৬৪ দিন মেয়াদি টার্ম কলমানিতে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগস্টে এ খাতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৭১৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা কমেছে ১ হাজার ১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৮০২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৫২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
টার্ম কলমানিতে সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ৯ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ। ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১১৬ বেসিস পয়েন্ট কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগস্টে কলমানি বাজারে ওভারনাইট তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। স্বল্প নোটিশের অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি আন্তঃব্যাংক তহবিলের চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। একই সঙ্গে আগের বছরের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি অর্থের ব্যয় কমেছে।
আন্তঃব্যাংক রেপোতে লেনদেন ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা:
কলমানির পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক রেপো বাজারেও আগস্টে বড় ধরনের সম্প্রসারণ হয়েছে। ব্যাংকগুলোর জামানতভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ২৮ হাজার ৯৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এর মধ্যে সাত দিন মেয়াদি রেপো সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল। এ খাতে লেনদেন হয়েছে ৫৭ হাজার ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা মোট আন্তঃব্যাংক রেপোর ৫০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একদিন মেয়াদি রেপোতে লেনদেন হয়েছে ২৯ হাজার ১২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা মোটের ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
একদিন মেয়াদি আন্তঃব্যাংক রেপোতে আগের মাসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৬ হাজার ২৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ লেনদেন বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা ১২৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ খাতে ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৬০ বেসিস পয়েন্ট কম।
সাত দিন মেয়াদি রেপোতে লেনদেনের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ১৯ হাজার ৯৬১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৫৫ হাজার ৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ২ হাজার ১৫২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ খাতে ভারিত গড় সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় ৮৯ বেসিস পয়েন্ট কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তঃব্যাংক রেপোর কার্যক্রম বৃদ্ধির অর্থ হলো ব্যাংকগুলো জামানতভিত্তিক আন্তঃব্যাংক অর্থায়নের ওপর বেশি নির্ভর করছে। লেনদেন বাড়লেও রেপোর সুদের হার এক বছর আগের তুলনায় কম থাকায় অর্থায়ন ব্যয় তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো নেওয়া কমেছে:
আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বাড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুবিধা নেওয়া কমেছে। আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭১ হাজার ৯৪৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা কমেছে ১৭ হাজার ৮৪৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
এর মধ্যে একদিন মেয়াদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপোর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ১৯৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা মোটের ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সাত দিন মেয়াদি রেপোর পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ৭৪৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা মোটের ৮৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ দিন মেয়াদি রেপো সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে স্থগিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো কার্যক্রম কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরতা আগের মাসের তুলনায় কমেছে।
স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং বেড়েছে, আমানত সুবিধা কমেছে:
আগস্টে ব্যাংকগুলোর স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বা এসএলএফ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। এ মাসে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সুবিধার আওতায় নিয়েছে ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের মাসের তুলনায় তা বেড়েছে ২২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
তবে আগের বছরের আগস্টের তুলনায় এসএলএফ ব্যবহারের পরিমাণ ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং জরুরি তারল্য সহায়তার চাহিদা কমার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য রাখার জন্য ব্যবহৃত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি বা এসডিএফে আগস্টে জমা হয়েছে ৯২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। আগের মাসের তুলনায় এটি কমেছে ১১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এসডিএফ ব্যবহার বেড়েছে ২৪৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বিশেষ তারল্য সহায়তায় ৯০ হাজার কোটি টাকা:
আগস্টে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সুবিধা ও ইসলামী ব্যাংক তারল্য সুবিধার আওতায় মোট ৯০ হাজার ৫২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আগের মাসের তুলনায় এ অর্থায়ন বেড়েছে ১০ হাজার ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি বা আইবিএলএফের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৭২৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অ্যাসিউরড রেপোর আওতায় দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ কোটি ১২ লাখ টাকা। মুদারাবা লিকুইডিটি সাপোর্ট ছিল ১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা এবং বিশেষ তারল্য সহায়তা বা এসএলএস ছিল ২ হাজার ২১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ক্যাপিটাল মার্কেট রেপোর পরিমাণ ছিল ৫৩৯ কোটি টাকা।
তবে এক বছর আগের আগস্টের তুলনায় বিশেষ তারল্য সুবিধা ও আইবিএলএফের ব্যবহার ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম হয়নি:
আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম আয়োজন করেনি।
অন্যদিকে সরকার ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সংগ্রহে সক্রিয় ছিল। আগস্টে ট্রেজারি বিলের পাঁচটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামের মাধ্যমে মোট ৪৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা বা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।
ট্রেজারি বিলের সুদে বড় পতন:
আগস্টে স্বল্পমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজের সুদের হার বা কাট-অফ ইয়িল্ডে ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড মাসের শুরুতে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ থাকলেও ৩০ আগস্ট তা কমে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ মাসের মধ্যে এ হার ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমেছে।
১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড ২ আগস্টের ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ থেকে ৩০ আগস্টে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের কাট-অফ ইয়িল্ড ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তিন ধরনের ট্রেজারি বিলের ইয়িল্ড কমে আসা স্বল্পমেয়াদি সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারে অর্থায়ন ব্যয় কমার এবং সরকারি সিকিউরিটিজের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
আন্তঃব্যাংক অর্থায়নে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো:
আগস্টের মানি মার্কেটের সামগ্রিক চিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। কলমানি বাজার সক্রিয় থাকলেও আন্তঃব্যাংক রেপোর লেনদেন আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে আন্তঃব্যাংক রেপোর কার্যক্রম কলমানির লেনদেনকে ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি সহায়তার পরিবর্তে আন্তঃব্যাংক বাজারভিত্তিক অর্থায়নের দিকে ঝোঁক স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগস্টে দেশের মানি মার্কেট সক্রিয় ছিল। কলমানি ও আন্তঃব্যাংক রেপোতে শক্তিশালী লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর ওপর নির্ভরতা কমেছে। কলমানি বাজারে একদিন মেয়াদি লেনদেনের আধিপত্য বজায় থাকলেও আন্তঃব্যাংক রেপোতে তুলনামূলক দীর্ঘ স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবহার বেড়েছে।
সব মিলিয়ে আগস্টে দেশের স্বল্পমেয়াদি অর্থবাজারে তারল্য প্রবাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্থের আদান-প্রদান বেড়েছে, জামানতভিত্তিক আন্তঃব্যাংক অর্থায়নের ব্যবহার জোরদার হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরতা আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মানি মার্কেট সুদের হার আগের বছরের তুলনায় নিচে অবস্থান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব প্রবণতা দেশের মানি মার্কেটে আন্তঃব্যাংক তারল্য সঞ্চালন উন্নত হওয়া এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবহার বৃদ্ধির প্রতিফলন।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেন বাড়ার বিষয়টিকে এককভাবে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও ঋণচাহিদা বৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে দেখা যাবে না। বরং ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি অর্থ নেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তনও এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং অংশীদারত্ব গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সরকার নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে; তবে বেসরকারি খাতকে পর্যটন খাতের নেতৃত্ব, বিপণন ও ব্র্যান্ডিংয়ে অগ্রসর হতে হবে।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা অনেক বেশি, তবে সমন্বয় এবং যোগাযোগের অভাব রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে পর্যটন খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিনিয়োগের প্রয়োজন, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সরকারের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য ইতিবাচক প্রচারের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অন্যান্য ইতিবাচক দিকগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। নতুন এলাকা পর্যটনের আওতায় আনতে পারলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন গন্তব্য তৈরি হবে।
বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমসসহ বিভিন্ন সেবায় সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত দক্ষতার সঙ্গে সেবা দিতে পারে, সেখানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, পর্যটন উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত করতে অটোমেশন এবং অনলাইন সেবা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মীর হেলাল বলেন, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভার প্রয়োজন রয়েছে। পর্যটনের উন্নয়নে একাধিক মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি কক্সবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা এবং জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়মিত পুলিশকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিলে তাদের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সরকারি কর্মকর্তা, পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামীমুজ্জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মধ্যে পাকিস্তানি নাটকের অসাধারণ জনপ্রিয়তা কমার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। আবেগঘন কাহিনী, জনপ্রিয় থিম সং (ওএসটি) এবং অভিনয়শিল্পীদের পরিচিতির কারণে পাকিস্তানি ধারাবাহিকগুলো একের পর এক ভারতীয় দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিচ্ছে।
এখন একটি পাকিস্তানি নাটক নতুন এক ইতিহাস তৈরি করেছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এই নাটকটি ভারত থেকেই প্রায় ২০০ কোটি বা ২ বিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে।
হ্যাঁ, এটি একদম সঠিক।
পাকিস্তানি বিভিন্ন পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজের তথ্য অনুযায়ী, হানিয়া আমির ও বিলাল আব্বাস খান অভিনীত জনপ্রিয় নাটক 'মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু' ইউটিউবে ভারত থেকে ২ বিলিয়নের (২০০ কোটি) বেশি ভিউ পেয়েছে।
নাটকটি বিশ্বব্যাপী ইউটিউবে একটি বিশাল ডিজিটাল ব্লকবাস্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইউটিউবে এর মোট ভিউ সংখ্যা ৩.৩৫ বিলিয়ন (৩৩৫ কোটি) অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ২ বিলিয়নেরও বেশি ভিউ এসেছে এককভাবে ভারত থেকে।
এই বিপুল পরিসংখ্যানটি আবারও প্রমাণ করে যে ভারতীয় দর্শকদের কাছে পাকিস্তানি টেলিভিশনের কনটেন্ট, বিশেষ করে হানিয়া আমির এবং বিলাল আব্বাস খানের মতো তারকাদের নাটকের চাহিদা কতটা ব্যাপক।
ভারতে পাকিস্তানি বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখার সুযোগ সীমিত হলেও, সেখানে তাদের তারকাদের বিশাল ফ্যান বেস গড়ে ওঠা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে হানিয়া আমির এবং বিলাল আব্বাস খানের নাটক দেখার জন্য ভারতীয় দর্শক সবসময় আগ্রহী থাকেন।
ধারাবাহিকটি ২০২৫ সালের শেষের দিকে সম্প্রচার শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ৩৪ তম পর্বের মাধ্যমে শেষ হয়। নাটকটির কাহিনী গড়ে উঠেছে কামিয়ার (অভিনয়ে বিলাল আব্বাস খান) এবং ডক্টর আয়রাকে (অভিনয়ে হানিয়া আমির) কেন্দ্র করে।
রোমান্টিক ঘরানার এই নাটকটি দ্রুতই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর গল্প, চমৎকার অভিনয় এবং মূল জুটির অনবদ্য কেমিস্ট্রি পাকিস্তান ও ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে।
সিক্স সিগমা প্লাস-এর ব্যানারে হুমায়ুন সাঈদ ও শাহজাদ নাসিব প্রযোজিত এই ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন মুসাদ্দিক মালেক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় রেললাইনে আটকে থাকা পিকআপের সঙ্গে চলন্ত ট্রেনের সংঘর্ষের ফলে ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় পিকআপটি দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। পিকআপের চালক আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে কক্সবাজার এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি ঢাকায় যাওয়ার সময় পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কমলমুন্সির হাট-মল্লাপাড়া সড়কের রাস্তার মাথা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ট্রেনের ধাক্কায় পিকআপটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় এবং চালক সামান্য আহত হন। দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর আবারও ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী কক্সবাজার এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি পটিয়ায় পৌঁছালে রেললাইনে আটকে থাকা একটি পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় পিকআপটি অনেক দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবদুস সালাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ পিকআপটি জব্দ করেছে। এই ঘটনার পর নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পিকআপচালক সামান্য আহত হলেও ট্রেনের যাত্রীরা সকলেই অক্ষত রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ