ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চীনের ১২৮৪ বছরের প্রাচীন মসজিদ: দুই সভ্যতার ঐতিহাসিক মেলবন্ধন


চীনের ১২৮৪ বছরের প্রাচীন মসজিদ: দুই সভ্যতার ঐতিহাসিক মেলবন্ধন

চীনের শানসি প্রদেশের রাজধানী শিয়ান। এই শহরটি প্রাচীনকালে ছিল চীনের ঐতিহাসিক রাজধানী ছাংআন। সিল্ক রোড বা প্রাচীন রেশমপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এই নগরীর সঙ্গে আরব, পারস্য ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় যোগাযোগের ইতিহাস বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। ১৩ শতাব্দীর ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো শিয়ানের বিখ্যাত গ্রেট মসজিদ বা হুয়াজুয়ে লেন মসজিদ। এটি ৭৪২ খ্রিষ্টাব্দে তাং রাজবংশের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালে সেই প্রতিষ্ঠাকালের বয়স দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ২৮৪ বছর।

চীনে ইসলামের প্রাচীন উপস্থিতি, মুসলিম বণিকদের ভূমিকা এবং স্থানীয় সভ্যতার সঙ্গে ইসলামের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের বিষয়টি সামনে এসেছে। মসজিদটির বিশেষত্ব হলো, এটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত মসজিদ স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত নয়। বরং এটি চীনের ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ, উদ্যান ও ধর্মীয় স্থাপনার স্থাপত্যরীতির সঙ্গে ইসলামের ধর্মীয় পরিচয়কে একীভূত করে গড়ে উঠেছে।

চীনে ইসলামের আগমন: ৬৫১ সালের ঐতিহাসিক যোগাযোগ

আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধনকুবেরদের শত শত কোটি ডলার দানের কারণ

চীনে ইসলামের আগমন নিয়ে আলোচনায় ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। তখন চীনে তাং রাজবংশের শাসন চলছিল। অন্যদিকে আরব উপদ্বীপে ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিস্তার ঘটছিল খলিফা হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর শাসনামলে।

দক্ষিণ কোরিয়ার হানইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হি-সু লি ২০০২ সালে প্রকাশিত তার গবেষণাপত্র ‘দ্য স্প্রেড অব ইসলামিক কালচার টু ইস্ট এশিয়া বিফোর দ্য এরা অব মডার্ন ইউরোপিয়ান হেজিমনি’-তে চীনের প্রাচীন রাজকীয় নথির বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে আরবের শাসক চীনা সম্রাটের দরবারে একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠান। তাং রাজবংশের ঐতিহাসিক বিবরণে এ যোগাযোগের উল্লেখ রয়েছে। এটি দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

৬৫১ সালে আরব প্রতিনিধি দলের চীন সফরের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে ওই বছরই চীনে প্রথম মুসলিম বসতি গড়ে উঠেছিল, এমন সিদ্ধান্তও নিশ্চিতভাবে দেওয়া যায় না। চীনে ইসলামের আগমন সম্পর্কে আরেকটি বহুল প্রচলিত বর্ণনা হলো, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) চীনে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন। চীনা মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যবাহী বর্ণনায় তাকে চীনে ইসলামের প্রথম প্রচারকদের অন্যতম হিসেবে সম্মান করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজু শহরে তার নামের সঙ্গে একটি মসজিদ ও সমাধিস্থানের ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।

কিন্তু ঐতিহাসিক গবেষণায় এ বর্ণনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামি ইতিহাস ও চীনা মুসলিম সমাজ নিয়ে গবেষণাকারী জেমস ডি ফ্রাঙ্কেলের বিশ্লেষণ এবং ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘দ্য মুসলিম মার্চেন্টস অব প্রিমডার্ন চায়না’ গ্রন্থের গবেষণায় বলা হয়েছে, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর চীন সফরের কাহিনি চীনা মুসলিম ঐতিহ্য ও লোককথায় বিস্তৃত হয়েছে। সুতরাং ৬৫১ সালের আরব-চীন কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর চীন সফরের প্রচলিত কাহিনিকে দুটি পৃথক ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে বিরোধী শিবিরকে একত্রিত করতে আইজেনকোটের নেতৃত্বে বৈঠক

বাণিজ্যপথ ধরে ইসলামের বিস্তার

চীনে ইসলাম বিস্তারের ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের চেয়ে বাণিজ্য, অভিবাসন, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্কের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীনকাল থেকেই আরব ও চীনের মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। আরব ও পারস্যের মুসলিম বণিকেরা ভারত মহাসাগর, মালাক্কা প্রণালি এবং দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করে চীনের বিভিন্ন বন্দরে যাতায়াত করতেন। অন্যদিকে মধ্য এশিয়া হয়ে স্থলপথের রেশমপথও ছিল মুসলিম বণিক, পর্যটক ও জ্ঞানচর্চাকারীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

গুয়াংজু, ছুয়ানচৌ ও অন্যান্য বন্দরনগরীতে মুসলিম বণিকদের বসতি গড়ে ওঠে। তাদের অনেকে ব্যবসার প্রয়োজনে চীনে অবস্থান শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈবাহিক ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এভাবেই চীনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিস্তার ঘটে।

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের গবেষণাগ্রন্থে তাং রাজবংশের সময় চীনে আরব ও পারস্যের বণিকদের উপস্থিতি এবং তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিবরণ পাওয়া যায়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, চীনের বিভিন্ন নগরীতে মুসলিম বণিকদের উপস্থিতি ছিল এবং তারা স্থানীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

আরও পড়ুন: হুতিদের সৌদির আভা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি

অষ্টম শতাব্দীতে এসে চীনে মুসলিমদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ৭৫১ সালের তালাসের যুদ্ধ এবং ৭৫৫-৭৫৯ সালের আন লুশান বিদ্রোহের সময়কার ঘটনাবলিও চীন ও মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে মুসলিম জনবসতি বিস্তারের সম্পর্ক নির্ধারণে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

শিয়ানের মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও স্থাপত্যের বিশেষত্ব

শিয়ানের বিখ্যাত গ্রেট মসজিদটির প্রচলিত প্রতিষ্ঠাকাল ৭৪২ খ্রিষ্টাব্দ। এটি তাং রাজবংশের সম্রাট শুয়ানজংয়ের শাসনামলের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। মসজিদটির চীনা নাম হুয়াজুয়ে শিয়াং ছিংজেন দাসি। এটি শিয়ানের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত।

তবে মসজিদটির প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে গবেষণাগত সতর্কতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের গবেষক লরেন্স ই. বাটলার তার ‘মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক আইডেনটিটিজ ইন চায়না’ শীর্ষক নিবন্ধে জানিয়েছেন, মসজিদটির প্রতিষ্ঠা ৭৪২ সালে বলে প্রচলিত ঐতিহ্য থাকলেও এ ধরনের প্রাচীন প্রতিষ্ঠাকালের তথ্য যাচাই করা কঠিন। মসজিদটি পরবর্তী মিং ও ছিং রাজবংশের সময়ে একাধিকবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর বর্তমান স্থাপত্যবিন্যাস মূলত মিং আমলের বৈশিষ্ট্য বহন করে। ১৯৫৬ সাল থেকে এটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত।

আরও পড়ুন: সৌদি সীমান্তে হুথিদের একাধিক স্থল অভিযান, নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি

স্থাপত্যের দিক থেকে মসজিদটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদে সাধারণত যে বিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার ও খিলান দেখা যায়, শিয়ানের এই মসজিদে তার প্রচলিত রূপ নেই। বরং চীনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে ইসলামের ধর্মীয় প্রয়োজন ও শিল্পরীতিকে সমন্বয় করা হয়েছে।

মসজিদটির রয়েছে একাধিক প্রাঙ্গণ, বাগান, অলংকৃত প্রবেশপথ, কাঠের স্থাপনা এবং চীনা প্যাগোডার আদলে নির্মিত মিনার। এর নামাজের স্থান পশ্চিম দিকে, অর্থাৎ মক্কার কিবলামুখী করে নির্মিত। স্থাপনার বিভিন্ন অংশে আরবি ক্যালিগ্রাফি, কোরআনের আয়াত ও ফুলেল নকশার ব্যবহার রয়েছে।

চীনা স্থাপত্যের কাঠের নির্মাণকৌশল, উঁচু ছাদের কারুকাজ এবং স্থানীয় অলংকরণশৈলীর সঙ্গে ইসলামের ধর্মীয় শিল্পরীতির সমন্বয় ঘটেছে। ফলে স্থাপনাটি একই সঙ্গে চীনা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ইসলামি পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে।

মসজিদটির বর্তমান ভবনগুলোর সবকিছুই তাং আমলের নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার, পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে এর বর্তমান রূপ তৈরি হয়েছে। প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় স্থাপত্যের ধারাবাহিকতাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত ও ভারতের বৈঠক নিয়ে রাশেদ খানের অভিযোগে জয়সোয়ালের মন্তব্য

চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামের সহাবস্থান

শিয়ানের এই মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এটি সংস্কৃতির পারস্পরিক অভিযোজন ও সহাবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ইসলাম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তারের সময় স্থানীয় সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের সঙ্গে নানা ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কোথাও পারস্যের গম্বুজ ও মিনার, কোথাও তুর্কি স্থাপত্য, কোথাও ভারতীয় মুঘল শিল্পরীতি, আবার কোথাও চীনা প্রাসাদ ও উদ্যানের নির্মাণশৈলী ইসলামি স্থাপত্যে প্রভাব ফেলেছে।

চীনের হুই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে এই সাংস্কৃতিক সমন্বয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তারা চীনা ভাষা, সামাজিক রীতিনীতি ও স্থানীয় স্থাপত্যের অনেক বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করলেও ইসলামি ধর্মীয় পরিচয় ও অনুশীলন বজায় রেখেছেন।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদের স্থাপত্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিফলিত হয়েছে। শিয়ানের গ্রেট মসজিদ এ ধারার অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ঘোষণা: ইসরায়েলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ

চীনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ঐতিহাসিক উপস্থিতি

বর্তমান চীনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে হুই ও উইঘুর জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে পরিচিত। এ ছাড়া কাজাখ, কিরগিজ, তাজিক, তাতার, সালার, দংজিয়াংসহ আরও কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলাম প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব জনগোষ্ঠীর ভাষা, জাতিগত পরিচয়, ইতিহাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে পার্থক্য রয়েছে।

হুই মুসলিমদের বড় অংশ চীনা ভাষাভাষী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের ইতিহাস আরব ও পারস্যের বণিকদের আগমন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক এবং দীর্ঘকালীন সামাজিক অভিযোজনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে উইঘুর মুসলিমদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার তুর্কি ভাষাভাষী সমাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে শিনজিয়াং অঞ্চলে তাদের বসতি, ভাষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে মধ্য এশিয়ার দীর্ঘ ঐতিহাসিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে।

চীনে ইসলামের ইতিহাস তাই কেবল আরব বণিকদের আগমনের ইতিহাস নয়; এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, বাণিজ্যপথ, ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তনের সম্মিলিত ইতিহাস।

পরিচয় বজায় রেখেও সাংস্কৃতিক সমন্বয়

শিয়ানের প্রায় ১৩ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরে। কোনো ধর্ম বা সভ্যতার বিস্তার সব সময় রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে ঘটে না। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, জ্ঞানচর্চা, নৈতিক আচরণ, সামাজিক আস্থা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ও দীর্ঘমেয়াদে ধর্মীয় ও সভ্যতাগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চীনে মুসলিম বণিকদের ইতিহাস সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস, জীবনাচার ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ও সংরক্ষণ করেছিলেন।

শিয়ানের গ্রেট মসজিদ সেই দীর্ঘ ইতিহাসের একটি দৃশ্যমান স্মারক। এর দেয়াল, প্রাঙ্গণ, কাঠের কারুকাজ ও আরবি ক্যালিগ্রাফি যেন সাক্ষ্য দেয়, ভৌগোলিক দূরত্ব ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও সভ্যতাগত যোগাযোগের সেতুবন্ধ তৈরি হতে পারে।

ইসলামের ইতিহাসের প্রাথমিক যুগে যারা ব্যবসা, জ্ঞানচর্চা, সামাজিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরেছেন, তাদের অবদান স্মরণীয়। তাদের নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার মধ্য দিয়েই বহু দূরের ভূখণ্ডে ইসলামি ঐতিহ্যের শিকড় বিস্তৃত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনার দিঘলিয়ায় জামায়াত নেতার ঘরে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


খুলনার দিঘলিয়ায় জামায়াত নেতার ঘরে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ১

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকায় জামায়াত নেতার নিজ ঘরে এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ফলে বসতঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে এবং ঘরের মালিক আহত হয়েছেন। বিকট শব্দের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেনহাটী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে ফেরার সময় তিনি দরজার সামনে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো কিছু বস্তু দেখতে পান এবং সেটি ঘরে নিয়ে যান। ঘরে ওই প্যাকেট রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়।

বিস্ফোরণের ফলে জামায়াত নেতা মনিরের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই বিকট শব্দের ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী ও তদন্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে যায়।

দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, "তদন্ত না করে এ বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।" তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা এর আগে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সময় এ ধরনের বস্তু বা ককটেল জাতীয় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

সুধীজন ও সমাজসংস্কারক সৈয়দ রাশেদুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বারবার এমন ঘটনা ঘটার পেছনে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের এলাকায় আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গোপন সংগঠন পরিচালনা করে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হতে পারে। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশিয়ানীতে ৫ গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


কাশিয়ানীতে ৫ গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অনেকে

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে একই সময়ে পাঁচটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ফলে একজন ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোল চত্বরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ব্যক্তি কাশিয়ানী উপজেলার চরভাটপাড়া গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পিরোজপুর থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাস, খুলনা থেকে ঢাকা গামী দোলা পরিবহন, গোপালগঞ্জ থেকে ব্যাসপুরগামী একটি লোকাল বাস এবং ঢাকা থেকে মোংলাগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে একটি লোকাল ভ্যান সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষের ফলে গাড়িগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে শহিদুল নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘন কুয়াশার কারণে রেড অ্যালার্ট জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘন কুয়াশার কারণে রেড অ্যালার্ট জারি

ঘন কুয়াশার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দক্ষিণাঞ্চলে দৃশ্যমানতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)।

এ সতর্কতা মঙ্গলবার সকালে জারি করা হয়। একই সঙ্গে হলুদ সতর্কতাও প্রদান করা হয়েছে। কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলরত গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবুধাবি পুলিশ।

এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর দেশটির আবহাওয়া সাধারণত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে সকালে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবুধাবি পুলিশ গাড়িচালকদের সড়কের ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত গতিসীমার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ কিছু এলাকায় আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও কুয়াশা বা হালকা কুয়াশা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দেশজুড়ে তাপমাত্রা ১৯ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। আবুধাবিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি এবং দুবাইয়ে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। রাস আল খাইমায় তাপমাত্রা নেমে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে হালকা থেকে মাঝারি বেগে বইতে পারে। পরে তা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে এবং মাঝে মাঝে গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার থাকলেও তা সর্বাধিক ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আরব উপসাগর ও ওমান সাগরে সমুদ্রের অবস্থা শান্ত থাকবে বলে জানিয়েছে এনসিএম।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করে আটক

ঢাকার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি করার জন্য ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে এক লাখ টাকা ঘুস গ্রহণের সময় হাতেনাতে আটক করেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এই তথ্য জানান।

দুদক জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম লালবাগ থানার চর-কামরাঙ্গী মৌজায় বিভিন্ন দাগে ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন। তিনি ওই জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির সীমানা পৃথকীকরণ এবং স্কেচম্যাপ তৈরির জন্য গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন।

তবে, প্রায় ছয় মাস ধরে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়নি। একপর্যায়ে তাকে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

পরে আসাদুল ইসলাম জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি সম্পন্ন করার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। মনিরুল ইসলাম বিষয়টি দুদককে জানিয়ে ঘুস গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করার অনুরোধ জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে এক লাখ টাকা ঘুস গ্রহণের সময় সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

তার বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করার আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%