১২:৩৯ পি.এম
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকায় জামায়াত নেতার নিজ ঘরে এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ফলে বসতঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে এবং ঘরের মালিক আহত হয়েছেন। বিকট শব্দের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেনহাটী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সভাপতি এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে ফেরার সময় তিনি দরজার সামনে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো কিছু বস্তু দেখতে পান এবং সেটি ঘরে নিয়ে যান। ঘরে ওই প্যাকেট রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়।
আরও পড়ুন: শিবচরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের সম্মাননা প্রদান
বিস্ফোরণের ফলে জামায়াত নেতা মনিরের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই বিকট শব্দের ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী ও তদন্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে যায়।
দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, "তদন্ত না করে এ বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।" তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা এর আগে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সময় এ ধরনের বস্তু বা ককটেল জাতীয় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
সুধীজন ও সমাজসংস্কারক সৈয়দ রাশেদুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বারবার এমন ঘটনা ঘটার পেছনে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের এলাকায় আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গোপন সংগঠন পরিচালনা করে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হতে পারে। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আরও পড়ুন: স্কুলের দুধ চুরির অভিযোগ, উদ্ধার দুই কার্টন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন