০৯:৪৮ এম
সরকারি হেফাজতে নিকারাগুয়ার প্রখ্যাত আদিবাসী নেতা ও সাবেক আইনপ্রণেতা ব্রুকলিন রিভেরার (৭৩) মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর রবিবার (৩১ মে) নিকারাগুয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তিনি সরকারি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের চাপের মুখে সরকার স্বীকার করেছিল যে, ২০২৩ সাল থেকে রিভেরা তাদের হেফাজতে আছেন। রিভেরার এই রহস্যজনক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নিকারাগুয়া সরকারের দাবি, কোভিড-১৯ জটিলতা থেকে সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, লিভারের সমস্যা ও ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে রিভেরা মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে অত্যন্ত শীর্ণকায় অবস্থায় দেখা যায়।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তবে মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক মহল এই দাবি মানতে নারাজ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ রিড ব্রডি বলেন, এটিকে সাধারণ অসুস্থতা বলা ভুল হবে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে যেভাবে জোরপূর্বক গুম করে রাখা হয়েছিল এবং স্বাধীন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, এটি তারই ফল। মার্কিন প্রশাসনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিকারাগুয়া সরকার নিজেদের নিষ্ঠুরতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
ব্রুকলিন রিভেরা নিকারাগুয়ার আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী মুখ ছিলেন। তিনি দেশটির ‘ইয়াতামা’ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ছিলেন। ২০২৩ সালের septemebर মাসে যখন তিনি একজন দায়িত্বরত আইনপ্রণেতা ছিলেন, তখন রাজনৈতিক দমনপীড়নের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে সরকার তার আটকের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখে এবং পরিবারের কাউকে তার সাথে দেখাও করতে দেওয়া হয়নি।
ব্রুকলিন রিভেরা এক সময় নিকারাগুয়ার প্রথম সান্ডিনিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে কন্ট্রা বিদ্রোহী ও মিসুরাসাতা মিলিশিয়ার নেতা হিসেবে লড়াই করেছিলেন। পরবর্তীতে তার দল ইয়াতামা বর্তমান রাষ্ট্রপতি ড্যানিয়েল ওর্তেগার সাথে রাজনৈতিক মিত্রতা গড়ে তোলে। তবে এই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওর্তেগা সরকার ইয়াতামা দলকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করে এবং রিভেরাসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কঠোর দমনপীড়ন শুরু করে।
নির্বাসিত দুইটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘১০০% নোটিসিয়াস’ ও ‘কনফিডেনসিয়াল’-এ রিভেরার মৃত্যুর খবর ফাঁস হওয়ার পরই কেবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিকারাগুয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন