০৯:১৩ পি.এম
কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৫) তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন। ঘটনারসূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মামলার আসামিরা হলেন দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং মো. ইসমাইল (২৯)। তারা দুজন সম্পর্কে খালাতো ভাই। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত দু’জন পলাতক রয়েছেন। এদিকে, বিষয়টি গোপন রাখতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীর দাদির সঙ্গে ঘটনার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভুক্তভোগীর মা-বাবা ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বারেরা দাখিল মহিলা মাদরাসার সুপার মওলানা আমির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী এবং তার ছোট বোন আমার মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। যে দিন ঘটনাটি ঘটে, সে দিন (শনিবার) মাদরাসা বন্ধ ছিল। তিনি আরো জানান, রোববার আমি ভুক্তভোগীর দাদিকে ডেকে এনে বলি, তাঁর নাতনিকে আইনের আশ্রয় কিংবা সামাজিক ভাবে বিষয়টি শেষ করতে বলি। ভুক্তভোগীর বাবা জানান, বিষয়টি রোববার আমার মেয়ে ফোনে জানায়। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করি এবং আমার স্ত্রীও তখন ঢাকাতে ছিল। সংবাদ পেয়ে আমরা বাড়িতে ফিরে আসি। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা নারী পাচারকারী। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সবুজ আমাকে প্রেমের প্রস্তাবে বিরক্ত করে আসছিল। আমি রাজি না হওয়ায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে শনিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় ডাক দেয়। এরপর সে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। সবুজ ও ইসমাইল সেখানে থেকে অটোযোগে আমাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেই সবুজ এবং ইসমাইল আমাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই কিশোরী উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনা কাউকে জানালে তারা আমাকে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়। তখন ওই বাড়ির এক মহিলা ও একটি মেয়ে সেখানে এলে তাদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। কিশোরী উল্লেখ করে, অভিযুক্তরা আড়ালে গিয়ে কার সঙ্গে যেন ফোনে বলছিল– টাকার বিনিময়ে আমাকে বিক্রি করে দেবে। তারা যেন দ্রুত টাকা নিয়ে চলে আসে। এসব শুনে বুঝলাম সবুজ নারী পাচারকারী। পরে আমি হিজাব পরিবর্তন করে, সবুজের স্ত্রীর হিজাব পরে কৌশলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাই এবং বাড়িতে ফিরে দাদিকে সব খুলে বলি। এদিকে, ভুক্তভোগীর দাদীর অভিযোগ, বারেরা এবং বড়আলমপুর গ্রামের কয়েকজন লোক বিষয়টি ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গোপন রেখে শেষ করার প্রস্তাব দেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি। পরে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে মামলা দায়েরের পূর্বে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করছি। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন