০৩:৩৭ এম
কলকাতার এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছেন টালিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে অংশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ‘কুরুচিকর’ ছবি সংবলিত পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কলকাতার আনন্দপুর থানাসহ রাজ্যের একাধিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগটি বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ নিজে আনন্দপুর থানায় গিয়ে দায়ের করেছেন। শুধু তাই নয়, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার একাধিক থানাতেও শ্রীলেখার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে।
গত ২৪ জুলাই সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার রাজপথে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ একজোট হয়েছিলেন। সেই প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছিলেন শ্রীলেখা। মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি হাতে একটি পোস্টার ধরে ছবি তোলেন, যেখানে অভিযোগ উঠেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একটি অত্যন্ত কুরুচিকর ও অসম্মানজনক ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে
পুলিশ ঘটনাটির বিষয়ে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এফআইআর দায়েরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উসকানি), ৩৫৩ (উসকানিমূলক আচরণে প্রকাশ্যে সমর্থন) এবং ৩৫৬ (মানহানি) ধারায় অভিযোগগুলো জমা পড়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে শ্রীলেখা মিত্র মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমি একটি বিশেষ পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি, এমন একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। আমি হয়তো বিজেপিবিরোধী। কিন্তু আমাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিলে তা খুবই হাস্যকর।” তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ মনে করেন যে ওই ছবি আমি ইচ্ছা করে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে তুলেছি!”
শ্রীলেখা জানান, মাঠে নেমে বিপ্লবে শামিল হওয়ার জন্য শুক্রবার তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দৌড়াদৌড়িও করেছিলেন। তিনি বলেন, “চশমা ছিল না বলে পোস্টারটি ভালো করে দেখতে পাইনি। চশমা নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিলাম। শুধুমাত্র রোদচশমা নিয়ে গিয়েছিলাম।”
অবশ্য পদ্মশিবিরের পক্ষ থেকে শ্রীলেখার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ বলেন, “দলীয় নেত্রী হিসেবে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর এমন ছবি দেখে আমি ক্ষুব্ধ। আমার আবেদন, এমন কুরুচিকর ছবি ভাগ করার জন্য শ্রীলেখার বিরুদ্ধে আইনানুসারে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এমন কাজের জন্য কঠোর শাস্তির প্রয়োজন। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।” অন্যথায় বিচার পেতে তারা আদালতের দরজায় কড়া নাড়বেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই বিজেপি নেত্রী।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন