বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:২৪ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় অভিযোগ রয়েছে স্ত্রীকে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, যৌতুক দাবি এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার আত্মসাতের। মামলার ১৭ দিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, মামলা হওয়ার পর তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগরের একটি স্থানীয় পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে, ভুক্তভোগীর অভিভাবক মোঃ আব্দুল হাকিম বলেন, রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ নামুল হক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী নূরজাহান সুলতানা রেনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তার অভিযোগ, প্রায় ১৪০ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এক কোটি টাকা যৌতুকের দাবিতে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, গত ৪ জুলাই রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ৭/জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরীর কাজলা অক্ট্রয় মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ১৯ জুলাই মতিহার থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা (নং-১৪) দায়ের করা হলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলে দ্রুত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ এনামুল হক বলেন, মামলা হয়েছে, থানা ও আদালত বিষয়টি দেখবে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকার বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরজুন বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগদান করেছেন, বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ইরান ও ওমান। যদিও এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় খুলে যাবে না, এ বিষয়ে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গারিবাবাদি বলেন, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনায় প্রণালিতে জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য প্রস্তাবিত রুট নিয়ে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
তার মতে, আলোচনায় নতুন নৌপথের পাশাপাশি ইরান ও ওমানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব, সামুদ্রিক চলাচল তদারকির জন্য একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র গঠন এবং জাহাজ থেকে তথ্য সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
গারিবাবাদি জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লারাক দ্বীপ সংলগ্ন অস্থায়ী নৌপথ এবং ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার কিছু রুট বন্ধ হয়ে যাবে।
তার পরিবর্তে নতুন প্রবেশ ও প্রস্থান করিডরের একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। এতে কয়েক দশক ধরে প্রচলিত সেই ব্যবস্থা বদলে যাবে, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ মূলত ওমানের জলসীমা ব্যবহার করত।
তিনি বলেন, নতুন রুট প্রাথমিকভাবে দুই থেকে চার মাস, কিংবা প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পৃথক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।
তথ্য অনুযায়ী, গারিবাবাদি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই সমঝোতা নিজেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার অর্থ নয়।’ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু পূর্বশর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
গারিবাবাদি আরও দাবি করেন, এসব পূর্বশর্তের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন আবারও নৌ অবরোধ জোরদার করেছে, সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার পরই তারা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করে।
গারিবাবাদি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে হরমুজ পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। তবে শুধু সেটিই যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তাও চায় ইরান।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তিনি যুদ্ধের চেয়ে কূটনীতিকেই বেশি পছন্দ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, অন্যথায় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর হামলা চালাবেন।
ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, তাহলে তিনি আবারও সামরিক হামলা শুরু করবেন।
ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বলেও উল্লেখ করেন।
গারিবাবাদি জানান, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে, ‘ইরানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মিথ্যা। কোনো আলোচনা হয়নি।’
কিন্তু গারিবাবাদি স্বীকার করেন যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন দ্বিতীয় ধাপে এগোনো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে ভারত আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা হাসিনার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী যে-কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে ছাত্ররাজনীতিতে যে অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ৫ আগস্টের পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায়, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গড়া ক্যাম্পাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে।
জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরফিন বলেন, আমরা অবিলম্বে খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই। বাংলাদেশে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগই আমরা দেবো না।
ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশকে বলতে চাই, আপনারা যদি সত্যিই বাংলাদেশের বন্ধু হয়ে থাকেন, তাহলে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জ, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জুবায়ের হোসেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ নাহিদা পারভিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার এবং অভিবাসন প্রত্যাশী যুবকরা।
নিরাপদ অভিবাসন, বিধিসম্মত অভিবাসন এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এসময় টিটিসি মুন্সীগঞ্জ পরিচালিত বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কোর্স যেমন কম্পিউটার অপারেশন, সুয়িং মেশিন অপারেশন, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শিত হয় এই সেমিনারে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের দক্ষতা অর্জন, বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশগমন এবং সরকারি প্রশিক্ষণ ও সেবাসমুহ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের কর্মজীবন সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওমরাহ করতে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরব নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, এখন থেকে ওমরাহ ভিসা পেতে হলে প্রতিদিনের খাবারের জন্য বাধ্যতামূলক ‘নুসুক’ ফুড ভাউচার কিনতে হবে। এতে প্রতিদিন খরচ হবে প্রায় ২০ সৌদি রিয়াল, যা ভিসার মোট ফির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
আগামী ১ রবিউল আউয়াল থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত ও মিসরের ওমরাহযাত্রীদের ক্ষেত্রে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে।
নতুন ব্যবস্থায় এই চার দেশের ওমরাহ যাত্রীদের থাকার, যাতায়াতের এবং খাবারের ব্যবস্থা একটি অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এ লক্ষ্যে মক্কা ও মদিনার প্রায় ১০ হাজার রেস্তোরাঁকে নুসুক অ্যাপের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা ভিসার সঙ্গে একটি বিশেষ কোড পাবেন, যা দেখিয়ে নির্দিষ্ট দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে খাবার নিতে পারবেন।
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু, যে ৭ শ্রেণির ব্যক্তি যেতে পারবেন না। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওমরাহযাত্রীদের মানসম্মত ও সুশৃঙ্খল খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অনিবন্ধিত সেবাদাতাদের নিরুৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে, প্রতিদিনের অতিরিক্ত এই যুক্ত খরচের ফলে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ প্যাকেজের মূল ব্যয় বাড়তে পারে, যা ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ