ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধুপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান


মধুপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মধুপুর চাড়ালজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল হক।
চাড়ালজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান মিঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফ জি প্রিন্স, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. রতন হায়দার, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি কবীর হোসাইন এবং প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। এ ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য হুরমুজ আলী ফকির উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং দেশপ্রেমের যে বার্তা রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব।
আয়োজকেরা জানান, নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শকে শিশু-কিশোরদের কাছে আরও পরিচিত করে তুলতেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দরজার সামনে দেয়াল, ঘরে আটকা বিধবা নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


দরজার সামনে দেয়াল, ঘরে আটকা বিধবা নারী

মাদারীপুরের রাজৈরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসতঘরের দরজার সামনে পাকা দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরের ভেতর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নারগিস বেগম নামে এক বিধবা নারী। ঘটনাটি ঘটেছে রাজৈর পৌরসভার কুঠিবাড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারগিস বেগম কুঠিবাড়ি এলাকার মৃত আলী আকবর বেপারীর স্ত্রী। আর অভিযুক্ত আজাদ রহমান লিটু আমগ্রাম মঠবাড়ী এলাকার মৃত মোবারক আলী মাতুব্বরের ছেলে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজৈর মৌজার বিআরএস ১৩৫ নম্বর খতিয়ানের ৮৪৪৬ ও ৮৪৪৯ নম্বর দাগে মোট সাড়ে ১০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন নারগিস বেগমের শাশুড়ি। এর মধ্যে এক শতাংশ জমি তার ছেলে আলী আকবরের নামে লিখে দেওয়ার পর বাকি জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়। ওই জমি কিনে নেন আজাদ রহমান লিটু।

স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এক শতাংশ জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন নারগিস। অভিযোগ, ওই জমি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন লিটু। এতে রাজি না হওয়ায় চলাচলের পথে দেয়াল নির্মাণ করে তাকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনায় গত ১১ আগস্ট নারগিস বেগম আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বিরোধপূর্ণ স্থানে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে আজাদ রহমান লিটু লোকজন নিয়ে এসে তার ঘরের দরজার সামনে পাকা দেয়াল নির্মাণ করেন। এতে ঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই সন্তানসহ তিনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

নারগিস বেগম বলেন, “আমার মাত্র এক শতাংশ জায়গা। পাশের আত্মীয়ের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হয়। জমিটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য আমাকে বলা হয়েছিল। আমি রাজি না হওয়ায় ঘরের দরজার সামনেই দেয়াল তুলে আমাকে আটকে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি বের হব কীভাবে? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে আজাদ রহমান লিটুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।”

রাজৈর পৌরসভার প্রশাসক রোকসানা খাইরুন নেছা বলেন, “যেকোনো নাগরিকের চলাচলের রাস্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য তাকে রাস্তা দিতে হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে।”

এদিকে, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অবরুদ্ধ পরিবারটির চলাচলের পথ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি

সাতক্ষীরা, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলায় আজ সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) -এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানকালে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও মাদক সহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। 

জব্দকৃত এসব মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ৮৩ হাজার পাঁচশ টাকা বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। 

আজ রোববার সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার তলুইগাছা, কাঁকডাঙ্গা, মাদরা ও ঝাউডাঙ্গা বিওপির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তলুইগাছা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নটিজংগল নামক স্থান হতে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, কাঁকডাঙ্গা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ভারতীয় মদ ও নেশাজাতীয় উইনকেরেক্স সিরাপ এবং মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল একই উপজেলার বড়ালি নামক স্থান হতে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।

এছাড়া, ঝাঁউডাঙ্গা ক্যাম্পের বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বাইশা নামক স্থান হতে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ৮৩ হাজার পাঁচশ’ টাকা। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল কাস্টমসে জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরী করে পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধ্বংসের নিমিত্তে বিজিবি ষ্টোরে জমা রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালালে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমানোর নির্দেশ বিমানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


শাহজালালে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমানোর নির্দেশ বিমানমন্ত্রীর

বিমানমন্ত্রীর নির্দেশে শাহজালালে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ব্যাগেজ সরবরাহের সময় কমানোর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনের সময়, মন্ত্রী ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের সরেজমিন তদারকি করেন।

দুপুর ১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেদ্দা–চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময়, তিনি উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড খোলার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে যাত্রীদের কাছে ব্যাগেজ পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন।

মন্ত্রী পরিদর্শনের সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের দ্রুত ব্যাগেজ বুঝিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উড়োজাহাজ অবতরণের পর যাত্রীরা গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় এবং কার্গো হোল্ড খোলার সময়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে তিনি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, যেকোনো ফ্লাইট অবতরণের পূর্বে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

মন্ত্রী ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এবং যাত্রীদের তাৎক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য জানাতে বিমানবন্দরে লাইভ মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপনের নির্দেশনা দেন। ব্যাগেজ বেল্টের পাশাপাশি, তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন ওয়াশরুম পরিদর্শন করেন এবং সেগুলোর সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।

পরিদর্শনের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ বিমান ও বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর এবং সার্বিক হয়রানি কমানোর জন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

 

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের সরাসরি তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের ব্যাগেজ পাওয়ার অপেক্ষার সময় ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে আটকা পড়েছেন দেড় লাখ যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে আটকা পড়েছেন দেড় লাখ যাত্রী

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণের কারণে আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেড় লাখেরও বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণের কারণে এখন পর্যন্ত ৭১২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বিমান সংস্থাগুলোকে কিছু ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্নুৎপাত শুরু হয়, যার ফলে অবিরাম ভূ-কম্পন ও লাভা উদগিরণ হতে থাকে। আশেপাশের এলাকায় তীব্র গর্জন শোনা যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ভোরে আরও দুবার অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে।

পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখার ফলে মূলত সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আগত ফ্লাইটগুলো এবং দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরের মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো প্রভাবিত হয়েছে। পুরওয়াগান্ধি জানান, আগ্নেয়গিরির ছাই পশ্চিম জাভার দিকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই আরও কিছু বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন ফ্লাইট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরে ভিড় এড়াতে যাদের ফ্লাইট রয়েছে তাদের যেন সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি-র তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরিটির পূর্ব দিকে জাভা দ্বীপের ওপর ছাই ২০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এবং পশ্চিম দিকে সুমাত্রা দ্বীপের ওপর ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির সাম্প্রতিক কার্যকলাপের সাথে সুনামির কোনো ঝুঁকির সম্পর্ক নেই বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মুখে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদপত্র ‘কমপাস’-এর তথ্যমতে, ছাইয়ের কারণে চোখ জ্বালাপোড়ার অভিযোগ ওঠায় শনিবার বেশ কয়েকটি স্কুল তাদের কার্যক্রম বাতিল করে। একইভাবে চোখ ব্যথার কারণে অনেক জেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়নি।

‘আনাক ক্রাকাতাও’ এর অর্থ ‘ক্রাকাতাও-এর সন্তান’। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠার পর থেকেই মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। ১৮৮৩ সালে মাউন্ট ক্রাকাতাও-এর অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল গহ্বর বা ক্যালডেরার মধ্যেই এর উৎপত্তি হয়েছিল।

‘আনাক ক্রাকাতাও’ নামে পরিচিত এই আগ্নেয়গিরিটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ধসে পড়েছিল। এর ফলে সৃষ্ট বিশাল সুনামিতে ৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং সুমাত্রা ও জাভার উপকূলীয় এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত ও আহত হন।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ধসে পড়ার সময় আগ্নেয়গিরি থেকে খসে পড়া পাথরের কিছু খণ্ড প্রায় ৭০ থেকে ৯০ মিটার উঁচু ছিল। ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’ বলতে প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং টেকটোনিক প্লেটগুলোর একটি বলয়কে বোঝায়। এটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ৯০ শতাংশই এই অঞ্চলে সংঘটিত হয় এবং পৃথিবীর মোট সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫২টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই বলয়টিতেই অবস্থিত।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%