০৬:৪৯ পি.এম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন 'কাকরোচ আন্দোলন' বা 'কাকরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) আবারও বিশাল বিক্ষোভ শুরু করেছে, যার ফলে দেশটির পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তীব্র দমনপীড়ন শুরু করেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর, ২০২৬) রাজধানী নয়াদিল্লি এবং মুম্বাইয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনাসহ পাঁচশতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগের কারণে ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি মারাত্মক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মকর্তা ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
বিরোধী দল এবং আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নামে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধার্থে লাখ লাখ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলি ডানপন্থি নেত্রী শারেন হাস্কেল, নতুন সরকার গঠনে আরবদের বাদ দেওয়ার দাবি জানালেন
রাজধানীতে ১৪৪ ধারা ও গণগ্রেপ্তার
শুক্রবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ রুখতে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী চারপাশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে।
মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা হয়েছে: যন্তর মন্তর এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশেপাশের অন্তত ১১টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৪৪ ধারা জারি: দিল্লির পুলিশ ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করে ৫ জনের বেশি মানুষের জটলা এবং স্লোগান দেওয়া নিষিদ্ধ করে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস ভারতকে 'বাংলাদেশ' বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত, নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা দখল করতে চায়
গণগ্রেপ্তার: বিকেল ৩টা নাগাদ আম আদমি পার্টির নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনাসহ ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ আন্দোলনকারীদের মিলিয়ে অন্তত ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়।
একই সময়ে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কেও ভারী পুলিশি পাহারা বসানো হয় এবং ওই এলাকাকে নো-পার্কিং জোন ঘোষণা করা হয়।
'সিইসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে' এই ঘোষণা করেছেন কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক সৌরভ দাস। তিনি বলেন, "জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে। তিনি তরুণ প্রজন্ম ও দেশের বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছেন, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।" তারা আগামী দিনগুলোতে সারাদেশে আন্দোলন আরও বেগবান করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসও আগামী মঙ্গলবার থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রোল অ্যাকাউন্ট থেকে জন্ম নেওয়া এই 'কাকরোচ মুভমেন্ট' আজ ভারতের অন্যতম বড় তরুণ গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। গত জুলাই মাসে তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী। সূত্র: আল-জাজিরা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা স্মারক ও ২ অনুদান চুক্তি সই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন