১০:৩৭ পি.এম
ভারতের একটি আদালত পাঁচ শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক সংবাদপত্রের মালিককে ১০ দফায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। ৭৮ বছর বয়সী পেয়ার মিয়াঁ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার রুপি জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তার সহযোগী রাবিয়া বিবিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বুধবার মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক কুমুদিনী সিং এ রায় প্রদান করেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি মামলায় পেয়ার মিয়াঁর সহযোগী ও ব্যবস্থাপক ওবায়েসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্য সহযোগী সুইটি বিশ্বকর্মার ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। ভুক্তভোগীদের গর্ভপাত করাতে সহায়তার অভিযোগে চিকিৎসক হেমন্ত মিত্তলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
পেয়ার মিয়াঁকে ৮টি দণ্ডে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাগারে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বাকি দুটি দণ্ড যাবজ্জীবন। নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের একই ধরনের ঘটনায় এর আগে আরও চারটি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে অসহায় অবস্থায় থাকা মেয়েদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিতেন পেয়ার মিয়াঁ। গৃহকর্মীর কাজ ও মাসে ১০ হাজার রুপি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে টানা হতো। তার সহযোগী রাবিয়া বিবি শিশুদের পেয়ার মিয়াঁর কাছে নিয়ে যেতেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ও স্থানে তাদের যৌন নির্যাতন করা হতো বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পি এন সিং রাজপুত জানান, ভুক্তভোগীদের পরিবারের আস্থা অর্জনের জন্য পেয়ার মিয়াঁকে বাবা বলে ডাকতে বলতেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে তাদের বাড়িতে যেতেন এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নেয়া মামলাটির সূত্রপাত ২০২০ সালের ১১ জুলাই। ওই দিন ভোপালের রাতিবাদ এলাকায় কয়েকজন মেয়েকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পুলিশ পায়।
পরবর্তীতে কাউন্সেলিংয়ের সময় তারা জানায়, জন্মদিন উদ্যাপনের কথা বলে তাদের দুই দিনের জন্য একটি ফ্ল্যাটে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে তাদের মদ পান করানো হয় এবং পরে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তারা। পরে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মদের বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের নয় দিন পর শ্রীনগর থেকে পেয়ার মিয়াঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যৌন অপরাধের মামলার বাইরেও পেয়ার মিয়াঁ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে পরে স্থানীয় ভাষার একটি দৈনিক পত্রিকার মালিক হন পেয়ার মিয়াঁ। ভোপালের বুঢ়ওয়ারা এলাকার হাতিখানা অঞ্চলে তাকে সরকারি বাসভবন বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অন্য সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন