বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৪৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ লাখের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসী বসবাস করছেন। তারা চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন।
তাদের এই অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতে ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টকে ‘ইন্ডিয়া ডে’ (ভারত দিবস) হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই দিবসটি দেশটির অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটসে ও বোস্টন শহরে ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মৌরা হিলি এবং বস্টন শহরের মেয়র মিশেল উ পৃথকভাবে এই ঘোষণাপত্র জারি করেছেন।
ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মৌরা হিলি জানিয়েছেন, রাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
চিকিৎসা, বিজ্ঞান, ব্যবসা, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিতে তাদের সাফল্য রাজ্যের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘ভারতীয়দের পরিশ্রম এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ম্যাসাচুসেটসকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি, ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ রাজ্যের পরিবেশকে আরো বহুমুখী করেছে।’
ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের আগে এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র ভারতের স্বাধীনতাকে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দেরও সম্মান জানাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়নের ভেড়াডহর গ্রামের টেঙ্গিয়ারহাটি এলাকায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে অঞ্জনা বৈষ্ণব (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে। তিনি ওই গ্রামের অজিত বৈষ্ণবের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় একটি বিষাক্ত সাপ তাকে কামড় দেয়। সাপটির কামড় খেয়ে তিনি চিৎকার করতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা জানান, তারা সাপটি দেখতে পান।
পরে গুরুতর অবস্থায় অঞ্জনা বৈষ্ণবকে দ্রুত শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভেড়াডহর, মেলা, মুছাপুর ও মির্জাকান্দা এলাকায় সম্প্রতি সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। প্রায়ই রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির আশপাশে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ দেখা যাচ্ছে। এতে এসব এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা দ্রুত সাপের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের সময় কৃষকদের সুরক্ষায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
লাউডস্পিকার ও থার্মাল (তাপ শনাক্তকারী) ক্যামেরাযুক্ত এসব ড্রোন আকাশে উড়ে কৃষকদের সতর্কবার্তা প্রদান করছে। তারা বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি দূর করতে কাজ করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। দেশটির কৃষিপ্রধান উত্তর গিয়ংসাং (নর্থ গিয়ংসাং) প্রদেশে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়াং তাপপ্রবাহকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত তাপপ্রবাহের কারণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রদেশটির ড্রোনগুলোতে লাউডস্পিকার ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা রয়েছে, যা মাঠের উপর দিয়ে উড়ে কৃষকদের উদ্দেশে বারবার সতর্কবার্তা প্রচার করছে। বার্তাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘একটানা বেশি সময় কাজ করবেন না’, ‘তাপপ্রবাহের সতর্কতা চলছে, সাবধানে থাকুন’ এবং ‘বিরতি নিন, শরীর ঠান্ডা রাখুন’।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ মাইক থেকে সতর্কবার্তা প্রচারের ব্যবস্থা থাকলেও সেই বার্তা অনেক কৃষকের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।
ড্রোন ব্যবহারের ফলে দুর্গম কৃষিজমিতে সহজেই সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া থার্মাল ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে কোন এলাকায় বেশি তাপমাত্রা বা ঝুঁকি রয়েছে।
এই মজার বিষয় হচ্ছে, ড্রোনগুলো মূলত ২০২৩ সালে কোয়ারিয়া ফরেস্ট সার্ভিসের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল, কিন্তু গত বছর থেকে কৃষকদের সতর্ক করার জন্য ব্যবহার শুরু হয়।
প্রদেশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দিনের দুইবার ড্রোন উড়িয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার কৃষিজমি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ড্রোন পাঠিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তাও প্রচারিত হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়ার মোট কৃষক পরিবারের ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে বাস করে, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। এসব পরিবারের প্রায় ৫৯ দশমিক ২ শতাংশের কৃষক বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ফলে তাপপ্রবাহে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
৬৯ বছর বয়সী কৃষক হোয়াং হিউন-গুক জানিয়েছেন, এবারের গরম আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তাই তিনি মাঠে কাজের সময় কমিয়ে দিয়েছেন এবং কাজের চাপ সামলাতে দুজন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। তার মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণেই এ বছর তাদের ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে চলা তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় ড্রোন প্রযুক্তির এই ব্যবহারের নীতিটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও গৃহীত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে রচনা, কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, বিশেষ মোনাজাত এবং শহীদ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদানের জন্য আয়োজন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিইউপি’র বিজয় অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণ এবং জাতীয় ইতিহাসে এই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিইউপি’র শিক্ষার্থী শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং শহীদ জোবায়ের ওমর খানের পরিবার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহ্বুব-উল আলম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বিইউপি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিইউপি’র সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আটটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রে এই নিন্দা জানান।
তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে মন্ত্রীরা দাবি করেন যে, এই অব্যাহত হামলা গাজা সংঘাত অবসানের ‘সামগ্রিক পরিকল্পনার’ দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো এই রোডম্যাপের মধ্যে অস্ত্র সীমিত রাখার বিধান মেনে নিয়েছে।
মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, চিকিৎসা কেন্দ্র ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমগ্র গাজায় অবিলম্বে ও অবাধে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তারা যোগ করেন, গাজার পরিস্থিতিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত জেরুজালেমে একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। কারণ এসব কর্মকাণ্ড ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’-এর সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করে।
মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা পাশাপাশি গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেয়ারও অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে আরব দেশের প্রতিনিধিরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়া অথবা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ১৯৬৭ সালের সীমানার ওপর ভিত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’-এর মাধ্যমেই কেবল একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ