বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৪৬ পি.এম
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের সময় কৃষকদের সুরক্ষায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
লাউডস্পিকার ও থার্মাল (তাপ শনাক্তকারী) ক্যামেরাযুক্ত এসব ড্রোন আকাশে উড়ে কৃষকদের সতর্কবার্তা প্রদান করছে। তারা বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি দূর করতে কাজ করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। দেশটির কৃষিপ্রধান উত্তর গিয়ংসাং (নর্থ গিয়ংসাং) প্রদেশে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়াং তাপপ্রবাহকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত তাপপ্রবাহের কারণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রদেশটির ড্রোনগুলোতে লাউডস্পিকার ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা রয়েছে, যা মাঠের উপর দিয়ে উড়ে কৃষকদের উদ্দেশে বারবার সতর্কবার্তা প্রচার করছে। বার্তাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘একটানা বেশি সময় কাজ করবেন না’, ‘তাপপ্রবাহের সতর্কতা চলছে, সাবধানে থাকুন’ এবং ‘বিরতি নিন, শরীর ঠান্ডা রাখুন’।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ মাইক থেকে সতর্কবার্তা প্রচারের ব্যবস্থা থাকলেও সেই বার্তা অনেক কৃষকের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।
ড্রোন ব্যবহারের ফলে দুর্গম কৃষিজমিতে সহজেই সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া থার্মাল ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে কোন এলাকায় বেশি তাপমাত্রা বা ঝুঁকি রয়েছে।
এই মজার বিষয় হচ্ছে, ড্রোনগুলো মূলত ২০২৩ সালে কোয়ারিয়া ফরেস্ট সার্ভিসের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল, কিন্তু গত বছর থেকে কৃষকদের সতর্ক করার জন্য ব্যবহার শুরু হয়।
প্রদেশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দিনের দুইবার ড্রোন উড়িয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার কৃষিজমি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ড্রোন পাঠিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তাও প্রচারিত হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়ার মোট কৃষক পরিবারের ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে বাস করে, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। এসব পরিবারের প্রায় ৫৯ দশমিক ২ শতাংশের কৃষক বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ফলে তাপপ্রবাহে তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
৬৯ বছর বয়সী কৃষক হোয়াং হিউন-গুক জানিয়েছেন, এবারের গরম আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। তাই তিনি মাঠে কাজের সময় কমিয়ে দিয়েছেন এবং কাজের চাপ সামলাতে দুজন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। তার মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণেই এ বছর তাদের ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলে শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে চলা তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় ড্রোন প্রযুক্তির এই ব্যবহারের নীতিটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও গৃহীত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে রচনা, কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, বিশেষ মোনাজাত এবং শহীদ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদানের জন্য আয়োজন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিইউপি’র বিজয় অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণ এবং জাতীয় ইতিহাসে এই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিইউপি’র শিক্ষার্থী শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং শহীদ জোবায়ের ওমর খানের পরিবার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহ্বুব-উল আলম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বিইউপি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিইউপি’র সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আটটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রে এই নিন্দা জানান।
তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে মন্ত্রীরা দাবি করেন যে, এই অব্যাহত হামলা গাজা সংঘাত অবসানের ‘সামগ্রিক পরিকল্পনার’ দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো এই রোডম্যাপের মধ্যে অস্ত্র সীমিত রাখার বিধান মেনে নিয়েছে।
মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, চিকিৎসা কেন্দ্র ও মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমগ্র গাজায় অবিলম্বে ও অবাধে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তারা যোগ করেন, গাজার পরিস্থিতিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত জেরুজালেমে একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। কারণ এসব কর্মকাণ্ড ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’-এর সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করে।
মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা পাশাপাশি গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেয়ারও অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে আরব দেশের প্রতিনিধিরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়া অথবা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ১৯৬৭ সালের সীমানার ওপর ভিত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’-এর মাধ্যমেই কেবল একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সচিবালয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশনের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত একজন অতিরিক্ত সচিবের পেনশন অনলাইনে প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (জেমস)-এ অনলাইনে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও দক্ষ হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় শূন্যপদে নিয়োগের শতভাগ লক্ষমাত্রা অর্জনের নিমিত্ত দ্রুত কাজ সম্পন্নের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং অনলাইনে বিভাগীয় কমিশনারগণ অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের পক্ষ থেকে চালানো বিমান হামলা ছিল ইচ্ছাকৃত, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
গত বুধবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২২ এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি শহরে ইসরাইলি হামলার খবর সংগ্রহের সময় আল-আখবার পত্রিকার প্রতিবেদক আমাল খলিল নিহত হয়েছিলেন। এই হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা অপারেটর জয়নাব ফারাজ গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এইচআরডব্লিউর তদন্তে বলা হয়েছে, হামলার পূর্বে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউএনআইএফআইএল এবং রেড ক্রস ইসরাইলি বাহিনীকে সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি জানিয়েছিল। সুতরাং, ওই ভবনে যখন সাংবাদিকরা অবস্থান করছিলেন, তখন এটি ইসরাইলি বাহিনীর জানা ছিল অথবা জানার কথা ছিল।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, হামলার পর আমাল খলিল সম্ভবত তখনও জীবিত ছিলেন। তবে ইসরাইলি বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দিয়েছিল না। এর ফলে আহত সাংবাদিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছিল।
এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানত, অথবা তাদের জানা উচিত ছিল যে আমাল খলিল ও জয়নাব ফারাজ বেসামরিক ব্যক্তি। তবুও তারা হামলা চালায় এবং পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্যারামেডিকদের তাদের উদ্ধার করতে বাধা দেয়।’
সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সাংবাদিকরা বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবে সুরক্ষিত। যদি তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নেয়, সেক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো বা চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এইচআরডব্লিউ সংশ্লিষ্ট ঘটনাটির জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইসরাইল অতীতে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ