ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে দুপুর পর্যন্ত যেসব সড়কে চলাচলে সতর্কতা


তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে দুপুর পর্যন্ত যেসব সড়কে চলাচলে সতর্কতা

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে, প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী হোসাইনি দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এই লক্ষ্যেই, বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ।

ডিএমপি জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ২টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত, আনুমানিক ভোর ৪টা পর্যন্ত, লালবাগ বিভাগের নিম্নলিখিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও বন্ধ রাখা হবে। এই কারণে বিকল্প সড়কে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাজিয়া মিছিলে যেসব সড়ক থাকবে সেগুলো হলো: হোসাইনী দালান ইমামবাড়া → চাঁনখারপুল/নিমতলী ক্রসিং → নাজিমুদ্দিন রোড → জেল রোড → হাজী সেলিম টাওয়ার রোড → চক-সার্কুলার রোড → চকবাজার মডেল থানা মোড় → চকবাজার → থানার সামনে শাহী মসজিদ মোড় → কারা সদর দপ্তর নতুন রাস্তা → উমেশ দও রোড → বকশী বাজার (কল পাড়) মোড় → বকশী বাজার লেন → হোসাইনী দালান রোড হয়ে ভোর ৪টা হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় প্রত্যাবর্তন।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

আজ শুক্রবার সকালে, সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত (আনুমানিক দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত) লালবাগ বিভাগের নিম্নলিখিত সড়কগুলোতে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও বন্ধ রাখা হবে।

এই রাসগুলোর মধ্যে রয়েছে: হোসাইনী দালান ইমামবাড়া → হোসাইনী দালান রোড → বকশী বাজার লেন → আলিয়া মাদ্রাসা মোড় → বকশী বাজার (কল পাড়) মোড় → উমেশ দও রোড → উর্দু রোড মোড় → হরনাথ ঘোষ রোড → লালবাগ চৌরাস্তা মোড় → গোর-এ-শহিদ মাজার মোড় → এতিমখানা মোড় → আজিমপুর চৌরাস্তা মোড় → ইডেন কলেজ → নিউমার্কেট মোড় → মিরপুর রোড → ঢাকা কলেজ → সায়েন্স ল্যাব মোড় → ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নং রোড → বিজিবি ৪ নং গেট → সাত মসজিদ রোড → ঝিগাতলা ধানমন্ডি লেক (কারবালা) বাসস্ট্যান্ড।

এই সময়ে, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ নগরবাসী এবং মোটরযান চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করছে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বর্ণ-রুপার দামে নতুন পতন, জেনে নিন আজকের দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ এম


স্বর্ণ-রুপার দামে নতুন পতন, জেনে নিন আজকের দর

দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয়ে স্বর্ণ এবং রুপার দাম আরও কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসাবে, আজ (শুক্রবার, ২৬ জুন) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সর্বশেষ নির্ধারিত দামে।

গত ২৫ জুন সকালে, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ এবং রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই দিন ভরিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম যথাক্রমে ২ হাজার ২১৬ টাকা এবং ৩৫০ টাকা কমানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ এবং রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য হ্রাস পেয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম দুপুর ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা হয়ে গেছে। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায়।

বাজুস নিশ্চিত করেছে যে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সাথে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বনির্ধারিত নিয়ম বজায় থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাটের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে, গত ২৪ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই দিন প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় ছিল। এই দামও কার্যকর ছিল ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই।

এই সময়ে চলতি বছরের মধ্যে, দেশের বাজারে মোট ৮১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ৪০ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ৪০ দফা কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় ছিল; যাতে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানোর ঘটনা ঘটেছিল।

শুধুমাত্র স্বর্ণই নয়, দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম পড়েছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকায়, যা ৩৫০ টাকা কমে গেছে।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৭৪১ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এই বছরের মধ্যে, এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৯ দফা রুপার দাম সমন্বয় হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ২৫ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় ছিল, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছে এবং মাত্র ৩ বার কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ মিনিটে দুই গোলের রোমাঞ্চ, সমতায় তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ এম


১০ মিনিটে দুই গোলের রোমাঞ্চ, সমতায় তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র

ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিট অতিবাহিত হতে না হতে, তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র খেলায় ২ গোল হয়ে গেলো। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে গোল করার পর, তুরস্ক সমতা ফিরিয়েছে ১-১।

দুই মিনিট পার হতেই যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ব্যাক পোস্টে অ্যাস্টন ট্রাস্টির দারুণ ফিনিশের মাধ্যমে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

বাম দিকের কর্নার ফ্ল্যাগ থেকে পরবর্তী কর্নারটি নিতে যাওয়ার সময় বেরহাল্টার বলটি নিখুঁতভাবে একেবারে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ট্রাস্টির দিকে তুলে দেন। ট্রাস্টি প্রথমে বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন, তারপর কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শটে জাল কাঁপান।

দশম মিনিটে, তুরস্ক ১-১ সমতা উদ্ধার করে। ইয়িলমাজ বলটি গুলারের দিকে দারুণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বাড়িয়ে দেন এবং গুলার প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত শটের মাধ্যমে বল জালে পাঠিয়ে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল উঠছে নিলামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ এম


ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল উঠছে নিলামে

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত অধ্যায়। এই ঐতিহাসিক বল, যা বিশ্ব ফুটবলের সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী, এবার বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ অকশন’ নিলামে তুলতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফুটবল বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত এই স্মারকটির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা দুটি অবিশ্বাস্য গোল করেছিলেন। একটির মাধ্যমে তিনি বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি করেন, আর অন্যটিতে ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শতাব্দীর সেরা গোল বা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ করে ইতিহাস গড়েন। হেরিটেজ অকশনের মতে, এই বলটি ক্রীড়া জগতের একটি পরম আরাধ্য বস্তু বা ‘হোলি গ্রেইল’ হিসেবে পরিচিত। এই বলটি নিলামের জন্য প্রাথমিক মূল্য হিসেবে ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে নিলামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এর দর ৯২ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হেরিটেজের নিলাম বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজাল জানিয়েছেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল কিংবা বেসবল স্মারকগুলোই বাজারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে ফুটবল এবং ফুটবল তারকাদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী নিয়ে বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের মধ্যে চরম উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের ট্রেডিং কার্ড ও ব্যক্তিগত স্মারকগুলোর জন্য সংগ্রাহকরা অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থ খরচ করছেন। ম্যারাডোনার এই ঐতিহাসিক বলটি সেই উন্মাদনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এই বলটির সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য নিয়ে প্রোভেনজাল আরও উল্লেখ করেন, এর গুরুত্ব ও মূল্যের পরিমাপ করার জন্য পৃথিবীতে সরাসরি তুলনাযোগ্য কোনো উদাহরণ নেই। এটি এক এবং অদ্বিতীয় একটি সংগ্রহযোগ্য বস্তু। অনেকেই একে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ফুটবল স্মারক হিসেবেও বিবেচনা করছেন। মূলত ফুটবল বিশ্বকাপের এই উন্মাদনাটির সময়েই বিশ্ববাজারের বিশাল সংগ্রাহক গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করতে এমন স্মারক নিলামে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাধিক হাদিসে মহররম মাসের ফজিলত ও মর্যাদার বর্ণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


একাধিক হাদিসে মহররম মাসের ফজিলত ও মর্যাদার বর্ণনা

মহররম মাসের মর্যাদা প্রমাণিত হয়েছে একাধিক হাদিসের মাধ্যমে। ইসলামী জীবন ডেস্ক থেকে প্রকাশিত এই খবর অনুযায়ী, হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম, যা সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ। মহররমুল হারাম সেই চারটি মাসের মধ্যে একটি, যার মর্যাদা আল্লাহ আসমান-জমিন সৃষ্টির সময় থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। মহান আল্লাহ বলেন যে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাস গণনায় মাস ১২টি। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)

আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.) উল্লেখ করেন, ‘আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী, তাঁর কাছে গণ্য মাসের সংখ্যা ১২টি চান্দ্রমাস। যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকেই এ ব্যবস্থা নির্ধারিত। এর মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদা এবং সম্মানের অধিকারী।’ (বয়ানুল কোরআন) কাতাদা (রহ.) বলেন, ‘সম্মানিত মাসগুলোতে নেককাজের সওয়াব অনেক বেশি। তাই এ মাসগুলোতে পাপকাজের শাস্তিও অধিক কঠোর। যদিও পাপ সবসময়ই বড় অপরাধ, কিন্তু এসব মাসে তা আরো গুরুতর হয়ে ওঠে।’ (তাফসিরে মাজহারি) মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) উল্লেখ করেন, ‘সব নবী-রাসুলের শরিয়ত এই বিষয়ে একমত যে এই চার মাসে ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধি করা হয় এবং কেউ যদি এ সময়ে গুনাহ করে, তবে তার পরিণতি ও শাস্তিও অধিক কঠোর হয়।’ (মাআরিফুল কোরআন)

মহররমের প্রথম দশক ও তার আমল সম্পর্কে আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, পূর্বসূরি মনীষীরা তিনটি দশকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও সম্মান প্রদর্শন করতেন। তা হলো—১. রমজান মাসের শেষ দশক, ২. জিলহজ মাসের প্রথম দশক, ৩. মহররম মাসের প্রথম দশক। একাধিক হাদিস দ্বারা মহররম মাসের মর্যাদা প্রমাণিত হয়। আবুজর গিফারি (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাতের কোন অংশ সবচেয়ে উত্তম এবং কোন মাস সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? তিনি উত্তরে বললেন, ‘রাতের মধ্যভাগ সবচেয়ে উত্তম। আর মাসগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো আল্লাহর মাস, যাকে তোমরা মহররম বলে ডাকো।’ (খুসুসিয়াতে মাহে মহররমুল হারাম)

এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে রমজান মাসের পর মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এই কারণে ইসলামের ইতিহাসে এ মাসকে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি, নেক আমল এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহররম শুধু ইসলামী বছরের সূচনাই নয়, বরং এটি মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনা, তাকওয়া বৃদ্ধি এবং আল্লাহর প্রতি নতুন অঙ্গীকারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। মহররম মাসে নফল রোজার বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। কারণ এ মাসটি আল্লাহর সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত বলে গণ্য হয়েছে। আল্লাহর দিকে এই মাসের এই বিশেষ সম্বন্ধই এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় বহন করে। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রমজানের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’ (মিশকাত, হাদিস : ২০৪৮)

ফকিহরা বলেছেন, চারটি সম্মানিত মাস (আশহুরে হুরুম)-এর মধ্যে বিশেষভাবে মহররম মাসে সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী বেশি বেশি নফল রোজা রাখা মুস্তাহাব। মহররমের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো, আশুরার রোজা। এর গুরুত্ব সম্পর্কে আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। কারণ এ দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফিরআউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন নবী (সা.) বলেন, ‘মুসার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৬৮০)

মহররম মাসের কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে রয়েছে— ১. সপ্তম হিজরিতে এই মাসেই সংঘটিত হয় খায়বারের বিখ্যাত যুদ্ধ। ২. ১৪ হিজরিতে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক কাদিসিয়ার যুদ্ধ, যেখানে মুসলিম বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন সাআদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) এবং পারস্য বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন বিখ্যাত রুস্তম। তিনদিনের কঠোর যুদ্ধের পর চতুর্থ দিনে মুসলমানরা বিজয় অর্জন করেন। ৩. ১৮ হিজরিতে সিরিয়া ও ইরাক অঞ্চলে ‘তাউন-ই-আমওয়াস’ নামের মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। এই মহামারিতে ইন্তেকাল করেন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.), যিনি সে সময় মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। একই বছরের মধ্যে ইয়াজিদ (রা.) ইন্তেকাল করলে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মুয়াবিয়া (রা.)-কে দামেশকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ৪. ২৪ হিজরিতে আমর ইবনুল আস (রা.) বিজয়ীর বেশে মিসরে প্রবেশ করেন। একই বছরে উসমান (রা.) খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৫. ৬১ হিজরিতে মহররম মাসে নবীজি (সা.)-এর দৌহিত্র হুসাইন বিন আলী (রা.) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে শাহাদাতের অমৃত পান করেন। ৬. ৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)।

এছাড়াও সৃষ্টির প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনা এই দিনে সংঘটিত হয়েছে বলেও ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়। মহররম ও আশুরার করণীয় সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেছেন যে এই মাসে কিছু কাজ করার কথা রয়েছে। তা হলো— ১. আশুরার রোজা রাখা। ২. পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যয়ে কিছুটা উদারতা প্রদর্শন করা। ৩. ফরজ ইবাদতের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া এবং নফল ইবাদত বেশি বেশি করা। ৪. গুনাহ ও অসৎ কাজ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। ৫. সুন্নতের অনুসরণ ও অনুকরণের প্রতি যত্নশীল থাকা। ৬. ধর্মের অংশ নয় এমন মনগড়া ও ভিত্তিহীন নানা সামাজিক বা ধর্মীয় রীতিনীতি থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%