০৮:৪৮ পি.এম
ফরিদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ওই আদেশে বলা হয়, ‘বর্ণিত কর্মকর্তা জনাব সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিবি, সদর জোন, ফরিদপুরকে প্রশাসনিক কারণে ডিবি, সদর জোন থেকে প্রত্যাহার করা হলো।’ পত্রে ওই কর্মকর্তাকে ওই দিন দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জাসাস এর নেতৃবৃন্দের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন জাসাস নেতাকর্মী
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর (২৭) পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ প্রান্তকে তার নিজ বাড়ি মধুখালী পৌর সদরের গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে দুই পুরিয়া গাঁজাসহ আটক করে। সে সময় প্রান্তর মায়ের সামনেই তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশি নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।
আটকের পর ওই রাতে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রান্ত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রোববার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ডিবি হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২২ জুন) প্রান্তের জানাজার আগে এলাকার লোকজন তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় মহাসড়ক ধরে শত শত যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে মৃত ইশতিয়াকের পরিবারের বিশেষ অনুরোধে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
এদিকে সোমবার (২২ জুন) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিনজন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। বিএনপি নেতারা এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। বিএনপি নেতাদের প্রতিবাদের ফলে মঙ্গলবার দুপুর ১টার মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ শাখার সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুন: কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে আবাসন সংকট, ২৩–২৪ অক্টোবর হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে কক্ষ খালি নেই
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।’
এছাড়া এই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, পুলিশি নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ নেই।
ঘটনার দিন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকের কাছ থেকে জানতে পেরেছি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, পুলিশ হেফাজতে তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। যেহেতু পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নেয়া হলে মারা যান, এই বিষয়ে যাতে কোনো সন্দেহের উদ্বেগ না থাকে, সে কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসী কাদায়, অহিদুল ইসলাম ও তার ছেলে কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন তার আব্দুল হালিম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন