বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:০৮ পি.এম
ঢাকা, ৬ আগস্ট ২০২৬ : লিভারপুলের সাবেক তারকা মোহাম্মদ সালাহ বুধবার ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই তার এই সফর।
“সালাহ মোড : অন”, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্টের সঙ্গে ৩৪ বছর বয়সী মিশরীয় তারকার ব্যক্তিগত বিমানে বসে ট্রাবজোনস্পোরের নীল ও মেরুন রঙের হোম জার্সি পরা ছবি প্রকাশ করেছে ক্লাবটি।
তুরস্কের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্লাবটি মঙ্গলবার জানায়, লিভারপুলে নয় মৌসুম কাটিয়ে এবং ক্লাবটির হয়ে সমানসংখ্যক শিরোপা জেতার পর বিদায় নেওয়া সালাহর সঙ্গে তারা আলোচনা শুরু করেছে।
ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর শত শত উচ্ছ্বসিত সমর্থক সালাহকে স্বাগত জানান বলে এএফপি নিশ্চিত করেছে। এ সময় ট্রাবজোনস্পোর সমর্থক আবদুল করিম ইয়ারভান এএফপিকে বলেন, “আমি সরাসরি রাতের শিফট শেষ করে এখানে এসেছি। আর এখন মোহাম্মদ সালাহর জন্য আরও একটি নির্ঘুম রাত কাটাতেও আমি প্রস্তুত।”
গতকাল ইস্তুম্বুলে সালাহর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর দিনের শেষ দিকে তিনি ট্রাবজোনে উড়ে যাবেন।
রাইট উইঙ্গার সালাহ দুই মৌসুমের চুক্তিতে সই করবেন, যেখানে তৃতীয় মৌসুম বাড়ানোর সুযোগও থাকবে। তুরস্কের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো (১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার) আয় করবেন তিনি।
ট্রাবজোনে পৌঁছে সালাহ বলেন, “আমি সত্যিই খুব খুশি... এবং দলের সঙ্গে অনুশীলনের জন্য মুখিয়ে আছি। আমি যেখানেই যাই, সবসময় জিতি অথবা জেতার চেষ্টা করি। আশা করি লিগে এবং ইউরোপেও আমরা কিছু অর্জন করতে পারব।”
এ সময় ক্লাবটি এক্সে পোস্ট করে তাকে স্বাগত জানায়, “স্বাগতম, মিশরীয় রাজা।”
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লিভারপুলের হয়ে ৪৪২ ম্যাচে ২৫৭ গোল করেছেন সালাহ, যা ক্লাবটির ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোল।
প্রিমিয়ার লিগে তার গোলসংখ্যা ১৯৩। এর মধ্যে লিভারপুলের হয়ে করেছেন ১৯১টি। সর্বকালের তালিকায় ইংল্যান্ডের তিন তারকা অ্যালান শিয়েরার, হ্যারি কেন ও ওয়েইন রুনির পর তিনি রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।
গত মৌসুমে লিভারপুল দলে সালাহ নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। লিগে মাত্র সাতটি গোল করেন তিনি।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলেছেন সালাহ। তার নৈপুণ্যে মিশর ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে উঠেছিল। তবে দুই গোলের লিড নষ্ট করে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হতাশাজনক হারে বিদায় নেয় তারা। পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়।
ট্রাবজোনস্পোরের সুপার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী বেসিকটাসের সঙ্গেও সালাহর আলোচনার গুঞ্জন ছিল।
গত মৌসুমে তুরস্কের শীর্ষ লিগে তৃতীয় হয়েছিল ট্রাবজোনস্পোর। বেসিকটাসের চেয়ে নয় পয়েন্ট এগিয়ে থেকে তারা ইউরোপা লিগের প্লে-অফ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
মিশরের হয়ে ১১৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৬ গোল করেছেন সালাহ। আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার কলাপাড়ায় মোট ৫৭ জন গৃহহীন, প্রতিবন্ধী এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এ সহায়তা উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এক অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয়, যা জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ এবিএম মোশাররফ হোসেন, যিনি উপকারভোগীদের হাতে চেক তুলে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে, ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের আওতায় নির্বাচিত ৫৭ জন অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের সহায়তা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। উপকারভোগীরাও এ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোমেটেরিয়ালস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেটেরিয়ালস (নেম) ল্যাবের সঙ্গে দেশের পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই সমঝোতা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের তরফে।
বুধবার (৫ আগস্ট) যবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পারস্পরিক সহযোগিতা’ বিষয়ক সেমিনার এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির ন্যানোমেটেরিয়ালস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেটেরিয়ালস (নেম) ল্যাবের সঙ্গে দেশের পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে তাদের প্রধান নির্বাহীরা এমওইউতে স্বাক্ষর করেছেন। এ সময় যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরও উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন উল্লেখ করেছেন, শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই ধরনের অংশীদারিত্ব শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যবিপ্রবির এই সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও যুগোপযোগী করবে এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করবে।
যবিপ্রবির উপাচার্য এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয়ই লাভবান হবে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতার ফলে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমবে, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাত—সবার জন্যই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই শিল্পখাতের আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী তাদের কারিকুলাম সংস্কার করতে পারবে এবং যৌথ গবেষণার জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা লাভ করবে। তাছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষ ও প্রস্তুত মানবসম্পদ নিয়োগের সুযোগ পাবে, যা তাদের প্রশিক্ষণ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি একাডেমিক গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
যবিপ্রবির নেম ল্যাবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ফেয়ারমেট কেমিক্যাল লিমিটেড, রাখি কসমেটিকস অ্যান্ড কনজ্যুমার প্রোডাক্টস, লুমিনাস গ্রুপ লিমিটেড, নর্দান এগ্রো সার্ভিস লিমিটেড এবং রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) গ্রিন বায়োটেক টিস্যু কালচার ল্যাব (জিবিটিসিএল)। এর পাশাপাশি আরও ৫২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেম ল্যাবের সমঝোতা স্মারক দ্রুতই স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন নেম ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসাইন খান।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, নেম ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসাইন খান, ফেয়ারমেট কেমিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. দেবাশীস বড়ুয়া, রাখি কসমেটিকস অ্যান্ড কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের সিইও ভিক্টর সাহা, লুমিনাস গ্রুপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিব হোসাইন, নর্দান এগ্রো সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক সাকিব ফরহাদ, যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আব্দুর রহিমসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ৭ জন শিক্ষকের যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ৫ সদস্যের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে।
এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সূত্রের খবরে জানা যায় যে, দেশের ২২ (বাইশ) টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ (চারশত চার) জন শিক্ষক পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদের দোসর সংগঠন আওয়ামী লীগের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের কর্মরত বা সাময়িক বরখাস্তকৃত কয়েকজন শিক্ষকের নামও রয়েছে। এ গোপন অপতৎপরতায় বেরোবির কোন কোন শিক্ষক জড়িত রয়েছেন কিনা তা সুষ্ঠু অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ তানজিউল ইসলাম জীবনকে আহ্বায়ক এবং বেরোবির লিগাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা: রেহেনা আক্তার মনিকে সদস্য সচিব করে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান।
বেরোবি যে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মন্ডল ও গণিত বিভাগের ড. মশিউর রহমান ঢাকার আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আসামি হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এছাড়া অভিযুক্ত অন্য শিক্ষকরা হলেন প্রফেসর ড. আয়েশা আকতার আঁখি, প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন, দেবু পিকে (সাংকেতিক নাম), এসকে বি (সাংকেতিক নাম)।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, এখন তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধান কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শৃঙ্খলা কমিটি এবং সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় উল্লেখ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয়ের নাম।
তিনি এই কথা বলেন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে।
উপাচার্য বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদী শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। ইতিহাস এই সত্য প্রমাণ করে যে, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এবং ভিন্নমত দমন করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন আশা দেখিয়েছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উপাচার্য সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তার জন্য সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এমবিএ ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গণতন্ত্রায়ণের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান উপস্থাপক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সভায় জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী আহসান কবিরের বাবা মাস্টার হুমায়ুন কবির বক্তব্য দেন। এ ছাড়া আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্মৃতিচারণা করেন।
দুপুরের পর, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অডিটরিয়ামে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের উদ্যোগে ‘রক্তাক্ত জুলাই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবিরের সভাপতিত্বে এতে বিচারক ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. মোস্তফা আল মামুন।
উভয় অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে ৫ আগস্ট হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ‘রক্তস্নাত জুলাই, চেতনায় অনির্বাণ’ শীর্ষক একটি সেমিনার এবং ৪ আগস্ট শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ