০২:১৪ পি.এম
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির (২০২৬-২০২৮) নির্বাচন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আজ ৮ আগস্ট, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন-সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।
কেন নির্বাচন স্থগিত হলো? গুলশান থানাধীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা, চিত্রনায়ক উজ্জ্বল (আশরাফ উদ্দিন আহমেদ) বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। সংবিধানের ১০২(২) অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা রিটে বলা হয়েছে, এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালে (মামলা নং-০৮/২০২৬) একটি মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
আরও পড়ুন: ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন কে-পপ তারকা ইজে
সেই নিষ্ক্রিয়তাকেই রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রিটের পক্ষে শুনানি করেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. বদরুদ্দোজা এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান আসাদ। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খাইরুল আলাম।
আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে, উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত একটি রুল জারি করেছে। একইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, ৮ আগস্ট নির্ধারিত নির্বাচনসহ নির্বাচন-সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম আগামী দুই মাসের জন্য স্থগিত থাকবে।
রুলে বিবাদীপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, কেন তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য কি? এ বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রযোজক বলেন, ‘খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম ইতিমধ্যে দুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাবা সিদ্দিকী খুন, সালমানকে হুমকি—এবার টাইগার কেন বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে?
সংগঠনটির নিয়ম অনুযায়ী তারা পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন করতে হলে অন্তত একটি মেয়াদ নির্বাচন ছাড়াই কাটাতে হবে পরে আবারও তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।’
সমিতির সদস্য তানবীর হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচন ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অভিনেতা উজ্জ্বল এর রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে এটি দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।’
দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা: চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশকদের শীর্ষ এ সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত কমিটির পরিবর্তে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ভোটার তালিকা, গঠনতন্ত্র এবং নানা আইনি জটিলতার কারণে একাধিকবার নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হতে পারেনি। ফলে সংগঠনের কার্যকর নেতৃত্বের অভাবেও চলচ্চিত্র অঙ্গনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে, বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর একাধিকবার তফসিল ঘোষণা হলেও প্রতিবার আইনি জটিলতায় নির্বাচনের কার্যক্রম থমকে যায়। সবচেয়ে বড় বিরোধ ছিল ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার নিয়ে। আগে একজন প্রযোজক একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে ‘আমমোক্তারনামা’র মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পেতেন। এ ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিল সমিতির একটি পক্ষ। ২০২২ সালের ২১ মে ভোটগ্রহণের দিনও হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। একই টিআইএনের আওতায় একাধিক ব্যক্তি ভোটার হওয়া অভিযোগে আদালত নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে ভোট ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে জানানো হয়, একজন প্রযোজক যতগুলো চলচ্চিত্রই নির্মাণ করুন, তিনি একজন ভোটার হিসেবেই গণ্য হবেন। সদস্যপদ নবায়ন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রথমে ১১ জুলাই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা ৮ আগস্টে পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে সর্বশেষ হাইকোর্টের আদেশে সেই নির্বাচনও আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: যেভাবে বয়স কম দেখাবে জানালেন শশী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন