ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভবিষ্যৎ ড্রোন যুদ্ধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ভারত


ভবিষ্যৎ ড্রোন যুদ্ধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ভারত

পরবর্তী প্রজন্মের ড্রোন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে ভারত এখন কাজ করে চলেছে।

বিশ্বজুড়ে সংঘাতগুলো সামরিক কৌশলের চিরচেনা রূপ পরিবর্তন করেছে। আধুনিক যুদ্ধে রণক্ষেত্রের আধিপত্য যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে। বর্তমানে দামি যুদ্ধবিমান, ট্যাংক কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে ভারত এখন দেশীয় ড্রোন উৎপাদন, ড্রোন-প্রতিরোধী (অ্যান্টি-ড্রোন) প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় ব্যাপক গতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে, সামান্য খরচে তৈরি ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ ড্রোনগুলো লাখ লাখ ডলার মূল্যের ভারী সাঁজোয়াযান ধ্বংস করতে সক্ষম। পাশাপাশি, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ অ্যাটাক ড্রোনের ঝাঁক আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে ফাঁকি দিতে পারছে। বিশ্বরাজনীতির এই নতুন সমীকরণ এবং পূর্ব লাদাখে চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা, জম্মু বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ও ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতি উন্নত করতে সচেষ্ট করছে।

ভারত এখন দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সর্ববৃহৎ সামরিক ড্রোন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের এই বড় উদ্যোগের ফলে আদানি গ্রুপ, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, আইডিয়াফোর্জ ও অ্যাস্টেরিয়া অ্যারোস্পেসের মতো দেশীয় ড্রোন নির্মাতারা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।

নতুন এই ড্রোনবহর ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সীমান্ত নজরদারি, নিখুঁত হামলা ও রসদ সরবরাহে দারুণভাবে সহায়তা করবে। এটি আমেরিকার তৈরি বিখ্যাত ‘এমকিউ-নাইন বি প্রিডেটর’ ড্রোনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

এ ছাড়া সরকারের ‘ড্রোন শক্তি মিশন’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজের শক্তিশালী ড্রোন ইকোসিস্টেম তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ড্রোনের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি, শত্রুপক্ষের ড্রোন থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ‘পেলোরাস টেকনোলজিস’ -এর মতো শীর্ষস্থানীয় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই সংস্থাটি এমন কিছু অত্যাধুনিক সিস্টেম তৈরি করছে, যা শত্রুপক্ষের ড্রোনকে দূর থেকে শনাক্ত, ট্র্যাক এবং নিষ্ক্রিয় (জ্যাম) করার সক্ষমতা রাখে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ‘পুলিশ এক্সপো’-তে পেলোরাস টেকনোলজিস তাদের এই ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকৌশলের এই দ্রুত পরিবর্তন নতুন এক যুগের সংকেত দিচ্ছে। ভারতীয় ড্রোন এবং সাইবার নিরাপত্তায় এই বিশাল বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, আগামী দিনের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গুরুত্ব অপরিসীম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক উদ্ধারে পিপিএম পদকজয়ী এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


মাদক উদ্ধারে পিপিএম পদকজয়ী এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে (বিএমপি) কর্মরত অবস্থায় মাদক উদ্ধার ও চাঞ্চল্যকর মামলার সফল তদন্তের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক, সাহসিকতা’ (পিপিএম) অর্জনকারী এসআই মহিউদ্দিনের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের দ্বারা একটি মামলায় সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৯/১২/২০২০ তারিখে একাধিক মাদক মামলার চিহ্নিত আসামি মো. রেজাউল করিম রেজাকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করেন মহিউদ্দিন ও তাঁর আভিযানিক দল। গ্রেফতারের পর নিয়ম অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

কারাগারে থাকাকালীন কিছুদিন পর আসামি রেজাউল করিম রেজা ‘কার্ডিয়াক অ্যানিমিক ফেইলিউর’ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিহতের বাবা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুরো আভিযানিক দলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। এরপর বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে বিষয়টির ওপর একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়। দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম বিচার বিভাগীয় তদন্তে আভিযানিক দলের কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন। এর ধারাবাহিকতায়, গত ৩০/০১/২০২২ তারিখে মহামান্য আদালত মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন।

আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও স্বার্থান্বেষী একটি মহল ও মাদক ব্যবসায়ীরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজ থেকে আসামির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আইনি রায়কে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পোস্ট আপলোড করা হয়।

ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর বিবৃতিতে জানান, মহামান্য আদালত কর্তৃক বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আমরা যেখানে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি, সেখানে এতদিন পর পুনরায় মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে প্ররোচিত হয়ে একটি চক্র ফেসবুকে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আদালত অবমাননাকর এই পোস্টে বিভিন্ন অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্তব্য করছে।

তিনি আরও জানান, যারা মহামান্য আদালতের আদেশ অমান্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করছে, তাদের ইতোমধ্যে সনাক্ত করা হয়েছে। এই অপপ্রচারের পেছনে জড়িত প্রধান হোতা এবং মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দেশের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


দুই দেশের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফর শেষ করার পর দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

শুক্রবার (৩ জুলাই) তিনি দেশে ফেরেন, এ সম্পর্কে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সফরকালে সেনাপ্রধান উভয় দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা শিল্প-স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

গত ২৮ জুন সরকারি সফরের উদ্দেশ্যে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ায় ঢাকা ত্যাগ করেন সেনাবাহিনী প্রধান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে রাস্তায় ফেলে দেওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


টাঙ্গাইলে রাস্তায় ফেলে দেওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইলের এক শতবর্ষী বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে দেয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী টুকু দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ওই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মতে, দৃষ্টিশক্তিহীন মফিজ উদ্দিন নামের এই বৃদ্ধ গত কয়েক বছর ধরে একা চলাচল করতে পারছেন না। বয়সের কারণে, শারীরিক দুর্বলতা তার জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলেছে।

মফিজ উদ্দিনের সম্পর্কে জানা যায়, তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। তার স্ত্রী আট বছর আগে মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন।

বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে রাখার ঘটনাটি ঘটেছে যখন তার ভাইয়ের স্ত্রী মারা যান, এবং বৃদ্ধকে তার নাতনির কাছে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। দীর্ঘসময় কান্না করতে করতে, স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করেন।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী টুকু বিষয়টি জানতে পেরে এসিল বিভাগকে নির্দেশ দেন। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। এখন তাকে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণও শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী টুকু শুধু উদ্ধার কার্যক্রমেই থেমে থাকেননি, বরং তিনি বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা এবং থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন।

রিনা বেগম জানিয়েছেন, বাবাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়া দেখে কষ্ট পেয়েছেন এবং প্রতিমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সব ধরনের সহযোগিতা করার। পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বৃদ্ধকে উদ্ধার করায় তারা খুশি এবং পুরো পরিবারকে সহায়তায় সহযোগিতা করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এভাবে একজন বৃদ্ধকে ফেলে রাখা অমানবিক। বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা করা যায় না। আমি যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের পাশে থাকবো এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়লার স্তূপ আর ছিনতাইকারীদের দখলে শীতলক্ষ্যা তীরের ওয়াকওয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


ময়লার স্তূপ আর ছিনতাইকারীদের দখলে শীতলক্ষ্যা তীরের ওয়াকওয়ে

কর্তৃপক্ষের নজরদারি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ের এখন করুণ দশা। বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ এবং ভেঙে পড়া রেলিংয়ের কারণে রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা আসার পর ওয়াকওয়েতে মাদক বেচাকেনা অবাধে চলছে। ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে এখানে। স্থানীয়দের দাবি, ওয়াকওয়েটি দ্রুত সংস্কার করে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা উচিত।

 

এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

 

গত বুধবার (৩০ জুন) শীতলক্ষ্যা নদীর টানবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে বিশুদ্ধ বাতাসের মাঝে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ওয়াকওয়ের সিঁড়িতে বসেছিলেন নজরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ। অথচ তার কয়েক ফুট সামনের জায়গায় রয়েছে ময়লা আবর্জনার বেশ কয়েকটি স্তূপ। এই দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে সময় সংবাদকে বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একটু শান্তির জন্য নদীর পাড়ে গাছের ছায়ায় সিঁড়িতে এসে বসেছিলাম। প্রতিদিন এলাকার মানুষ এখানে ময়লা আবর্জনা এনে ফেলে। গাড়ি দিয়ে ময়লা এনে ঢেলে দেয়। ওয়াকওয়ের পাশসহ সিঁড়িতেও ময়লা ফেলা হচ্ছে। নদীর পাড়ে বসার পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’

 

ঠিক একই সংকট পুরো ওয়াকওয়ে জুড়ে। মানুষের চলাচলের এই পথটি যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ের এমন বেহাল অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।

 

নদীর পাড়কে দখলমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষদের অবসর সময় কাটানোর ব্যবস্থা করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। নদীর দুই পাড়ে শহরের হাজীগঞ্জ থেকে নিতাইগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, কাঁচপুর ও রূপগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ সহ বৃক্ষরোপণেরও ব্যবস্থা করা হয়। তবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ওয়াকওয়ের বিভিন্ন স্থানে রেলিং ভেঙে পড়েছে এবং বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকটি স্থানে। এর ফলে মানুষের চলাচলের পথটি অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

 

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যার দুই তীরে ২০১৪ সাল থেকে কয়েক ধাপে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

 

তবে এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে ও শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাতে ওয়াকওয়েটির রেলিং ভেঙে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয়দের উচ্চারিত অভিযোগ, পণ্যবাহী বড় জাহাজ ও ট্রলারের রশি ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে বাঁধা থাকার ফলেই রেলিং ভেঙে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

 

ভুক্তভোগীদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের অভিযোগ, ওয়াকওয়ের পাশে সদর থানা এবং একটি শীতলক্ষ্যা পুলিশ ক্যাম্প থাকার সত্ত্বেও পুলিশের নজরদারি না থাকায় সন্ধ্যার পর এই পথটি ছিনতাইকারী ও মাদকের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে, ওয়াকওয়েটি চলাচলের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। রোগীদের দাবি, ওয়াকওয়েটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

 

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে জাহাজ বা অন্যান্য নৌযানের রশি না বাঁধার বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ওয়াকওয়ের যেসব স্থানে ভেঙে গেছে সেসব স্থান সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা লিখিতভাবে সুপারিশ করব। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

 

মাদক ও ছিনতাই রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।

 

সময় সংবাদের সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মাদক ও ছিনতাই রোধে আমরা প্রায় প্রতিদিন তালিকা অনুযায়ী গ্রেফতার অভিযানে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ মাদক বিক্রেতা এবং ছিনতাইকারীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।’

 

জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘শীতলক্ষ্যার তীরে ওয়াকওয়ের পাশে আমাদের সদর থানা পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং সদর থানা রয়েছে। আমরা তাদের জানিয়েছি তারা যেন ওয়াকওয়েতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। তাহলে মাদক ও ছিনতাই কমে আসবে। সাধারণ মানুষ ওয়াকওয়ে দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া পুরো শহরকে সিসি টিভির ক্যামেরার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ শহর মাদক ও ছিনতাইমুক্ত শহরে পরিণত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%