০৩:১১ পি.এম
পরবর্তী প্রজন্মের ড্রোন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে ভারত এখন কাজ করে চলেছে।
বিশ্বজুড়ে সংঘাতগুলো সামরিক কৌশলের চিরচেনা রূপ পরিবর্তন করেছে। আধুনিক যুদ্ধে রণক্ষেত্রের আধিপত্য যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে। বর্তমানে দামি যুদ্ধবিমান, ট্যাংক কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে ভারত এখন দেশীয় ড্রোন উৎপাদন, ড্রোন-প্রতিরোধী (অ্যান্টি-ড্রোন) প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় ব্যাপক গতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দেখা গেছে, সামান্য খরচে তৈরি ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ ড্রোনগুলো লাখ লাখ ডলার মূল্যের ভারী সাঁজোয়াযান ধ্বংস করতে সক্ষম। পাশাপাশি, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ অ্যাটাক ড্রোনের ঝাঁক আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে ফাঁকি দিতে পারছে। বিশ্বরাজনীতির এই নতুন সমীকরণ এবং পূর্ব লাদাখে চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা, জম্মু বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ও ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতি উন্নত করতে সচেষ্ট করছে।
ভারত এখন দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সর্ববৃহৎ সামরিক ড্রোন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের এই বড় উদ্যোগের ফলে আদানি গ্রুপ, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, আইডিয়াফোর্জ ও অ্যাস্টেরিয়া অ্যারোস্পেসের মতো দেশীয় ড্রোন নির্মাতারা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।
নতুন এই ড্রোনবহর ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সীমান্ত নজরদারি, নিখুঁত হামলা ও রসদ সরবরাহে দারুণভাবে সহায়তা করবে। এটি আমেরিকার তৈরি বিখ্যাত ‘এমকিউ-নাইন বি প্রিডেটর’ ড্রোনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
এ ছাড়া সরকারের ‘ড্রোন শক্তি মিশন’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজের শক্তিশালী ড্রোন ইকোসিস্টেম তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ড্রোনের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি, শত্রুপক্ষের ড্রোন থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ‘পেলোরাস টেকনোলজিস’ -এর মতো শীর্ষস্থানীয় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই সংস্থাটি এমন কিছু অত্যাধুনিক সিস্টেম তৈরি করছে, যা শত্রুপক্ষের ড্রোনকে দূর থেকে শনাক্ত, ট্র্যাক এবং নিষ্ক্রিয় (জ্যাম) করার সক্ষমতা রাখে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ‘পুলিশ এক্সপো’-তে পেলোরাস টেকনোলজিস তাদের এই ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকৌশলের এই দ্রুত পরিবর্তন নতুন এক যুগের সংকেত দিচ্ছে। ভারতীয় ড্রোন এবং সাইবার নিরাপত্তায় এই বিশাল বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, আগামী দিনের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গুরুত্ব অপরিসীম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন