প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কর্তৃপক্ষের নজরদারি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ের এখন করুণ দশা। বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ এবং ভেঙে পড়া রেলিংয়ের কারণে রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা আসার পর ওয়াকওয়েতে মাদক বেচাকেনা অবাধে চলছে। ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে এখানে। স্থানীয়দের দাবি, ওয়াকওয়েটি দ্রুত সংস্কার করে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা উচিত।
এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (৩০ জুন) শীতলক্ষ্যা নদীর টানবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে বিশুদ্ধ বাতাসের মাঝে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ওয়াকওয়ের সিঁড়িতে বসেছিলেন নজরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ। অথচ তার কয়েক ফুট সামনের জায়গায় রয়েছে ময়লা আবর্জনার বেশ কয়েকটি স্তূপ। এই দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সময় সংবাদকে বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একটু শান্তির জন্য নদীর পাড়ে গাছের ছায়ায় সিঁড়িতে এসে বসেছিলাম। প্রতিদিন এলাকার মানুষ এখানে ময়লা আবর্জনা এনে ফেলে। গাড়ি দিয়ে ময়লা এনে ঢেলে দেয়। ওয়াকওয়ের পাশসহ সিঁড়িতেও ময়লা ফেলা হচ্ছে। নদীর পাড়ে বসার পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
ঠিক একই সংকট পুরো ওয়াকওয়ে জুড়ে। মানুষের চলাচলের এই পথটি যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ের এমন বেহাল অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।
নদীর পাড়কে দখলমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষদের অবসর সময় কাটানোর ব্যবস্থা করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। নদীর দুই পাড়ে শহরের হাজীগঞ্জ থেকে নিতাইগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, কাঁচপুর ও রূপগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ সহ বৃক্ষরোপণেরও ব্যবস্থা করা হয়। তবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ওয়াকওয়ের বিভিন্ন স্থানে রেলিং ভেঙে পড়েছে এবং বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকটি স্থানে। এর ফলে মানুষের চলাচলের পথটি অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যার দুই তীরে ২০১৪ সাল থেকে কয়েক ধাপে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে ও শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাতে ওয়াকওয়েটির রেলিং ভেঙে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের উচ্চারিত অভিযোগ, পণ্যবাহী বড় জাহাজ ও ট্রলারের রশি ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে বাঁধা থাকার ফলেই রেলিং ভেঙে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের অভিযোগ, ওয়াকওয়ের পাশে সদর থানা এবং একটি শীতলক্ষ্যা পুলিশ ক্যাম্প থাকার সত্ত্বেও পুলিশের নজরদারি না থাকায় সন্ধ্যার পর এই পথটি ছিনতাইকারী ও মাদকের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে, ওয়াকওয়েটি চলাচলের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। রোগীদের দাবি, ওয়াকওয়েটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে জাহাজ বা অন্যান্য নৌযানের রশি না বাঁধার বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ওয়াকওয়ের যেসব স্থানে ভেঙে গেছে সেসব স্থান সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা লিখিতভাবে সুপারিশ করব। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হবে।’
মাদক ও ছিনতাই রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।
সময় সংবাদের সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মাদক ও ছিনতাই রোধে আমরা প্রায় প্রতিদিন তালিকা অনুযায়ী গ্রেফতার অভিযানে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ মাদক বিক্রেতা এবং ছিনতাইকারীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।’
জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘শীতলক্ষ্যার তীরে ওয়াকওয়ের পাশে আমাদের সদর থানা পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং সদর থানা রয়েছে। আমরা তাদের জানিয়েছি তারা যেন ওয়াকওয়েতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। তাহলে মাদক ও ছিনতাই কমে আসবে। সাধারণ মানুষ ওয়াকওয়ে দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া পুরো শহরকে সিসি টিভির ক্যামেরার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ শহর মাদক ও ছিনতাইমুক্ত শহরে পরিণত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন