ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ময়লার স্তূপ আর ছিনতাইকারীদের দখলে শীতলক্ষ্যা তীরের ওয়াকওয়ে


ময়লার স্তূপ আর ছিনতাইকারীদের দখলে শীতলক্ষ্যা তীরের ওয়াকওয়ে

কর্তৃপক্ষের নজরদারি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ের এখন করুণ দশা। বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ এবং ভেঙে পড়া রেলিংয়ের কারণে রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা আসার পর ওয়াকওয়েতে মাদক বেচাকেনা অবাধে চলছে। ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে এখানে। স্থানীয়দের দাবি, ওয়াকওয়েটি দ্রুত সংস্কার করে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা উচিত।

আরও পড়ুন: চসিক মেয়র শারদ সম্মাননায় সেরা ৫ পূজামণ্ডপের নাম ঘোষণা

 

এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

 

গত বুধবার (৩০ জুন) শীতলক্ষ্যা নদীর টানবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে বিশুদ্ধ বাতাসের মাঝে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ওয়াকওয়ের সিঁড়িতে বসেছিলেন নজরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ। অথচ তার কয়েক ফুট সামনের জায়গায় রয়েছে ময়লা আবর্জনার বেশ কয়েকটি স্তূপ। এই দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ গড়ার পরিকল্পনা সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে সময় সংবাদকে বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একটু শান্তির জন্য নদীর পাড়ে গাছের ছায়ায় সিঁড়িতে এসে বসেছিলাম। প্রতিদিন এলাকার মানুষ এখানে ময়লা আবর্জনা এনে ফেলে। গাড়ি দিয়ে ময়লা এনে ঢেলে দেয়। ওয়াকওয়ের পাশসহ সিঁড়িতেও ময়লা ফেলা হচ্ছে। নদীর পাড়ে বসার পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এমন দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’

 

ঠিক একই সংকট পুরো ওয়াকওয়ে জুড়ে। মানুষের চলাচলের এই পথটি যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ের এমন বেহাল অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।

আরও পড়ুন: মাটিরাঙ্গায় ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার, ২০ লাখ টাকার লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

 

নদীর পাড়কে দখলমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষদের অবসর সময় কাটানোর ব্যবস্থা করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। নদীর দুই পাড়ে শহরের হাজীগঞ্জ থেকে নিতাইগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, কাঁচপুর ও রূপগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ সহ বৃক্ষরোপণেরও ব্যবস্থা করা হয়। তবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ওয়াকওয়ের বিভিন্ন স্থানে রেলিং ভেঙে পড়েছে এবং বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকটি স্থানে। এর ফলে মানুষের চলাচলের পথটি অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

 

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যার দুই তীরে ২০১৪ সাল থেকে কয়েক ধাপে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আওরাবুনিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শামসুল হক সুমন

 

তবে এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে ও শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে নিতাইগঞ্জ খালঘাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাতে ওয়াকওয়েটির রেলিং ভেঙে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয়দের উচ্চারিত অভিযোগ, পণ্যবাহী বড় জাহাজ ও ট্রলারের রশি ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে বাঁধা থাকার ফলেই রেলিং ভেঙে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীর সাধুর মোড়ে পুকুর ভরাট করে ছয়তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

 

ভুক্তভোগীদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের অভিযোগ, ওয়াকওয়ের পাশে সদর থানা এবং একটি শীতলক্ষ্যা পুলিশ ক্যাম্প থাকার সত্ত্বেও পুলিশের নজরদারি না থাকায় সন্ধ্যার পর এই পথটি ছিনতাইকারী ও মাদকের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে, ওয়াকওয়েটি চলাচলের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। রোগীদের দাবি, ওয়াকওয়েটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

 

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে জাহাজ বা অন্যান্য নৌযানের রশি না বাঁধার বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ওয়াকওয়ের যেসব স্থানে ভেঙে গেছে সেসব স্থান সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা লিখিতভাবে সুপারিশ করব। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

আরও পড়ুন: অষ্টমীতে রহমতপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিএনপি নেতা হাসানুজ্জামান মামুন

 

মাদক ও ছিনতাই রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।

 

সময় সংবাদের সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মাদক ও ছিনতাই রোধে আমরা প্রায় প্রতিদিন তালিকা অনুযায়ী গ্রেফতার অভিযানে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ মাদক বিক্রেতা এবং ছিনতাইকারীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।’

 

জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘শীতলক্ষ্যার তীরে ওয়াকওয়ের পাশে আমাদের সদর থানা পুলিশের একটি ক্যাম্প এবং সদর থানা রয়েছে। আমরা তাদের জানিয়েছি তারা যেন ওয়াকওয়েতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। তাহলে মাদক ও ছিনতাই কমে আসবে। সাধারণ মানুষ ওয়াকওয়ে দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া পুরো শহরকে সিসি টিভির ক্যামেরার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ শহর মাদক ও ছিনতাইমুক্ত শহরে পরিণত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপন ঘিরে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপন ঘিরে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ জোর তদন্ত চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঞ্চল্যকর কারণও খুঁজে পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবলে নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার খুন হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অভিযানের মাধ্যমে আটককৃতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা চলছে। আটক ব্যক্তিদের নাম হলো শোয়েব, আরমান ও নয়ন।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা আরও জানান, আবুল বাশারের স্বজনেরা তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে গেছেন। তারা ফিরে এসে আদাবর থানায় হত্যা মামলা করবেন। ওই মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই হত্যার ঘটনায় চারজন ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।

আটক চারজনের বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করেছে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পরে কিছু স্থানীয় কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিল। এ সময় হাবিব নামের এক ব্যক্তি নীরব নামের এক যুবককে মারধর করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ঘটনার পরদিন আদাবর ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নবোদয় হাউজিং বাজার এলাকায় গিয়ে নীরবকে আবার মারধর করেন। তার বিরুদ্ধে নীরবকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।

গত বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারে হাবিবের কার্যালয়ে সালিসে বসা হয়। সালিস শেষে সাদ্দাম ও তার সমর্থকেরা নীরব ও তার বড় ভাই রিপনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. সাদ্দাম ও আদাবর ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার (বাদশাহ) আহত হন। আহত দুজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা আরও জানান, বুধবারের হামলার ঘটনার আগে সাদ্দাম আদাবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

স্বজনেরা জানাচ্ছেন, আবুল বাশার পেশায় একজন প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। তিনি পরিবারসহ আদাবর বি-ব্লকে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বান জানাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আহ্বান জানাল ইরান

ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনোলরেজা ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাস্তবসম্মত ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন, অব্যাহত হুমকির মধ্যে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য। তিনি একইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে তেহরান ও তুরস্কের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার(৩ জুলাই) তিনি তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরের সঙ্গে টেলিফোনে এ আহ্বান জানান। এ সময় দুই সামরিক কর্মকর্তা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা বলেন। তাদের আলোচনায় তেহরান-আঙ্কারা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

ইবনোলরেজা বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার ইতিহাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে তেহরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সরকারের নৃশংসতারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে ইসলামি দেশগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান ইরানের এই নেতা।

ইবনোলরেজা ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরসহ অন্যান্য দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি যৌথ ইসলামি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিদেশি সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।

অন্যদিকে গুলের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও কূটনীতির পথ অনুসরণের প্রতি সমর্থন জানান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে তুরস্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আঙ্কারার প্রস্তুতির কথাও জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেস্তে গেলে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেস্তে গেলে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরান সতর্ক করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তেহরান যথাযথ জবাব দেবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এ কথা বলেছেন।

আলজাজিরা সূত্রে জানা যায়, ইসনার নামক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে প্রতিবেদনে গালিবাফ বলেন, 'আমরা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন জোরালোভাবে দাবি করছি।' তিনি স্পষ্টত জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরানও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করবে।

গালিবাফ, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানের আলোচক দলের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন, বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানের মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়।' এছাড়াও, ইসরায়েলের হুমকিকে তিনি উল্লেখ করেন এবং একে 'ভিত্তিহীন প্রচারণা' বলে আখ্যায়িত করেন।

এদিকে, গালিবাফ নিজেদের পূর্ণ প্রস্তুতির বিষয়টি জানিয়ে দাবি করেন, 'রমজান যুদ্ধ' চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। তার মতে, 'আজ সবাই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবচরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় শিশুসহ নিহত ২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


শিবচরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় শিশুসহ নিহত ২ জন

 জেলার শিবচর উপজেলায় কাভার্ড ভ্যান চাপায় নারী এবং শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন এবং দুইজন আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার দ্বিতীয় খ- ইউনিয়নের মোড়লকান্দি এলাকায় শিবচর-কুতুবপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, দ্বিতীয় খ- ইউনিয়নের মাদবরকান্দি গ্রামের খাইরুল মাদবরের স্ত্রী বিথী আক্তার (৩৫) এবং একই এলাকার হারুন মাদবরের মেয়ে আয়শা আক্তার (৯)। তারা চাচি ও ভাতিজি।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, সে এলাকার সাহাদাত মাদবরের মেয়ে সাজেদা আক্তার (৯) এবং ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক লিটন মিয়া (৩০)।

আমরা জানি, লিটন মিয়া উপজেলার যাদুয়ারচর এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে। গুরুতর আহত লিটন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিথী আক্তার পরিবারসহ কুতুবপুর ইউনিয়নে একটি আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য দুটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে বাড়ি থেকে বের হন।

পথে মোড়লকান্দি এলাকার নদীপাড়ে পৌঁছালে তাদের বহনকারী একটি ভ্যান উল্টে যায়।

এসময় পেছন থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান উল্টে থাকা ভ্যানের যাত্রীদের চাপা দেয়, ফলে চারজন আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিথী আক্তার ও আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে লিটন মিয়ার অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আহমেদ আসিফ জানান, চারজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%