০১:১৫ পি.এম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু চিত্তরঞ্জন পালের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী। তারা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধনটি আয়োজন করেন।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে হওয়া এই মানববন্ধনে অংশগ্রণকারী শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানান।
আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অভিভাবক ইসাহাক আলী বিশ্বাস, গোলাম মোস্তফাসহ শিক্ষার্থীরা।
বক্তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সেশন ফি, উন্নয়ন ফি, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছেন। এর পাশাপাশি সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যয় এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন বক্তারা।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাবু চিত্তরঞ্জন পাল প্রথমে গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০৯ সালে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেও পরে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। এছাড়া ২০১৭ সালে রেজুলেশন ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আরও ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। ওই সময় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: বরিশালে দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা ফারুকের বিরুদ্ধে
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রাপ্ত ৫ লাখ টাকার সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অর্থটি যথাযথভাবে ব্যয় না করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ে কর্মরত তিনজন নারী শিক্ষকের জন্য সমমর্যাদার বসার ব্যবস্থা না করে প্রধান শিক্ষক নিজ কক্ষে পৃথক ব্যবস্থা করেছেন, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিধিমালার পরিপন্থী বলেও তারা দাবি করেন।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার সময় সেশন ফি, পরীক্ষা ফি, বিদ্যুৎ বিল ও উন্নয়ন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে যায়। এই ক্ষোভের কারণেই তারা মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বাবু চিত্তরঞ্জন পাল বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে। একটি মহল অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমার মানহানি করার চেষ্টা করছে।'
আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন