ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উলিপুরে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ভোকেশনাল সেন্টার উদ্বোধন জামায়াত এমপির


উলিপুরে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ভোকেশনাল সেন্টার উদ্বোধন জামায়াত এমপির

> সারা দেশ

> রংপুর

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুল আলম সালেহীর উদ্যোগে এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশন অর্থায়নে চালু হয়েছে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুল আলম সালেহী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ কাসিম তোকান এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ওবায়দুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সালমা আখতার, জাহাঙ্গীর প্লাবন, উলিপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট কামাল কবির লিটনসহ হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, উলিপুরের প্রায় ৫০ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলেও, খুব শিগগিরই কেন্দ্রটির অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ করা হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইনশাআল্লাহ চলতি মাসেই কেন্দ্রটির চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে উলিপুরের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক-যুবতীকে বিনামূল্যে বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ফ্রিল্যান্সিং, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, টেইলারিং, টেকনিক্যাল সার্ভিসিং, মোটর ড্রাইভিং, ভাষা শিক্ষা এবং অন্যান্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ।

আয়োজকদের আশা, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করার সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

আয়োজকরা বলেছেন, এ উদ্যোগ শুধুই একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ‘সমৃদ্ধ উলিপুর’ ভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়নমূলক উদ্যোগ।

এর মূল লক্ষ্য হলো উলিপুরের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন দক্ষ, কর্মক্ষম ও উপার্জনক্ষম মানুষ তৈরি করা। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব কমানো এবং পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে এ উদ্যোগের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটই শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ: বিকেএমইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫১ এম


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটই শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ: বিকেএমইএ

শিল্পের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মোহাম্মদ হাতেম, যিনি বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি। তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি জানাচ্ছেন, এগুলো সমস্যা স্বল্পমেয়াদি সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, সরকার এসব চ্যালেঞ্জ আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তার বক্তব্যে উল্লেখ আছে, প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী এই সমাধানের লক্ষ্যে কয়েকটি তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও, ব্যবসায়ী সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ নিয়েছেন যে, কীভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। তারা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার, গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে বিকেএমইএ সভাপতি এসব কথা বলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই বিবৃতি দেয়াও হয়েছে।

মোহাম্মদ হাতেম বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা মনে করি যে, কোনো সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট নয়। তবে, ব্যবসার পরিচালনাকে সহজ করার জন্য এবং অর্থনীতির গতিধারা ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন সরকার কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদাহরণ হিসেবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি খাতকে সহায়তার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রুগ্‌ণ, আংশিক বন্ধ বা বন্ধ কারখানাগুলোকে পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে। কিছু নীতিগত বিষয় সহজ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আংশিক রপ্তানিমুখী এবং বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তও আমাদের জন্য সহায়তাকারী হবে। এটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করবে এবং করনীতিতেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, এই উদ্দেশ্যে সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কিছু এলএনজি আমদানি করেছেন। আমাদের অর্থমন্ত্রীও শনিবার এক অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা করেছেন যে এলএনজি সংকট সমাধানের কোন শর্টকাট নেই। নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনে প্রায় দুই বছর সময় লেগে যাবে বলে জানান তিনি। তবে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে গ‍্যাস সংকট সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মোহাম্মদ হাতেম আরো উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ব‍্যাঙকের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও ব্যাংকিং খাতের সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। তবে, এই সময়ের মধ্যে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা আশা করি তারা দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে মুসলিম যুবকের পরিবারের জন্য করোচদের ৪ দফা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০০ এম


ভারতে মুসলিম যুবকের পরিবারের জন্য করোচদের ৪ দফা দাবি

উত্তর কলকাতার ‘ভারত সভা হল’-এ নির্ধারিত ‘মিট আপ’ অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেছেন, বিজেপির চাপে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আশুতোষ অভিযোগ করেন যে, ‘ভারত সভা হল’-এর পাশাপাশি কলকাতার আরো প্রায় ৬টি অডিটোরিয়াম তাদের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বুকিং দিতে রাজি হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক চাপের কারণেই এধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আশুতোষ বলেন, ওরা ভয় পেয়েছে।

তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বাধা দিয়ে তাদের থামানো যাবে না। তিনি আরো জানান, খুব শিগগিরই আরো বড় পরিসরে ‘মিট আপ’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যত বেশি আটকে রাখার চেষ্টা হবে, তারা তত শক্তিশালী হয়ে উঠবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাঁকুড়ার ইন্দাসের যুবক শেখ আব্দুল হাফিজের পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানান। সিজেপির দাবি, সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় আব্দুলের বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকে হত্যা করা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, আব্দুলের পরিবারের জন্য চার দফা দাবি তুলে ধরেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা, পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং আব্দুলের নামে অর্থ সংগ্রহ করে পরিবারকে সহায়তা করা।

এ সবের জন্য শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের কাছেও আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন আশুতোষ। কিন্তু তিনি সরাসরি নির্বাচনি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও সিজেপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করব। রাজনীতি করার জন্য আরো অনেকে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১২ এম


ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান

রাজনীতি

সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল উদযাপন কমিটির উদ্যোগে, গত মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মাহফিলের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম। মাহফেলে প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আলী হাসান উসামা।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মসিউল আলমের সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের পরিচালনায় এই সীরাত মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন, অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খালিদ আহমেদ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল হক, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, অ্যাডভোকেট এস এম জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট আবদুল করিম, অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম ভুঁইয়া প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম বলেন, মহানবী হযরত মোহম্মদ (সা.) যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন, সেই আদর্শ অনুসরণ করে মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার আইনজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আইনজীবী সমাজকে এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মহানবীর আদর্শে মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

প্রধান আলোচক মুফতি আলী হাসান উসামা কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আইনজীবীদের শপথ নিতে হবে যে, আমরা কোনো বিশ্বাসঘাতকের পক্ষে মামলায় লড়বো না এবং কোনো বাতিলের हाथকে শক্তিশালী করবো না। তিনি আইনজীবীদের প্রেরণা দিয়ে বলেন, রিজিকের মালিক আল্লাহ। অন্যায়ের সাথে আপস করা যাবে না, ন্যায়ের পক্ষে থাকতে এবং মজলুমদের সহযোগিতা করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্দেশ্য হলো, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন আনার প্রতিশ্রুতি রাখেনি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২২ এম


গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন আনার প্রতিশ্রুতি রাখেনি সরকার

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এনসিপির আয়োজিত মানবাধিকার কমিশন ও গুম আইনবিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, সরকার মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধের পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে দিয়েছে। বর্তমান খসড়া আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এমন বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ থাকতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার বরং উল্টো পথে পা বাড়িয়ে ভালো আইন আনার পরিবর্তে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে আখতার হোসেন বলেন, গুমের ভুক্তভোগী কোনো পরিবার অভিযোগ করতে গেলেও, অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে পাঁচ বছরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ফলে গুমের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয় দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের দেশে একটি ন্যায্য ও ফেয়ার সিস্টেম প্রতিষ্ঠা চাই। একটি জবাবদিহি চাই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদের মতামতকে ধারণ করে আইনগুলো নতুনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, শুধু আমলা ও বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে নয়। বর্তমান খসড়া আইন এভাবে যদি সংসদে পাস হয়, তাহলে মানবাধিকার সুরক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা থেকে বাংলাদেশ আবারও পিছিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, অতীতে বাহিনীগুলো গুম করত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটাত, তারা দায়মুক্তি পেয়ে যেত। তবে সামনে কি আমরা আবারও এরকম দৃশ্য দেখতে চাই? অতীতের মতো দায়মুক্তির সংস্কৃতি পুনরায় ফিরিয়ে আনা উচিত নয় এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, একটি জাতি বা রাষ্ট্রের শক্ত আদর্শগত ভিত্তির প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ছাড়া শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্বের পরিবর্তন দ্বারা কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকর না করলে সমস্যার সমাধান হবে না। গুম প্রতিরোধ, মানবाधিকার কমিশন, এবং পুলিশ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল বা দলীয়করণ করা হলে, এগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকায় সফল হতে পারবে না।

গুমের ঘটনায় পুলিশের ওপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন এবং পুলিশ কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি এই ভুল পথ থেকে সরে এসে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম বলেন, স্বৈরাচার চলে যাওয়ার পর একটি ভিন্ন বাংলাদেশ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। দায়িত্বশীল রাজনীতি নিশ্চিত করা জরুরি এবং রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় গেলে জনগণের কথা যেন ভুলে না যান, তা নিশ্চিত করা জনগণের দায়িত্ব। নিরাপত্তা বাহিনী সংক্রান্ত অভিযোগে এনএইচআরসির স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতা বহাল রাখতে হবে, কমিশনার বাছাই প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং গুম আইনের দুর্বলতা সংশোধন করা প্রয়োজন। নতুন সরকার অতীতের পথ থেকে সরে এসেছে, এটি শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধের মতো প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা। জুলাই সনদ ও নির্বাচনি ইশতেহারে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন ও সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। আপনারা ভোটের আগে বলেছেন, ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করবেন, সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন করবেন, মানবাধিকার স্বাধীন করবেন। নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে যে, মানবাধিকার কমিশন স্বাধীন হবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড মেনে প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতির প্রতি অঙ্গীকার করছেন না।

বৈঠকে শিক্ষাবিদ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক তিনটি আইনি পরিবর্তনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করা এবং অভিযোগ অভিযুক্ত বাহিনীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা এর উদাহরণ। র‍্যাবের ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত তদন্ত কাঠামো স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করে না।

তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সুরক্ষার যুক্তিতে স্বাধীন তদন্ত বন্ধ করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন পরও পুরোনো অপরাধের ঘটনায় কর্মকর্তারা আইনের আওতায় আসতে পারেন। এমনকি বহু বছর পরও সামান্য একটি সূত্র ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার করা সম্ভব। তবে সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় অভিযানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করি। এজন্য স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা বাতিল না করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আলাদা আইনি কাঠামো করা উচিত বলে মত দেন। তার মতে, স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করলে কর্মকর্তাদের প্রকৃত সুরক্ষা হবে না; বরং ভবিষ্যতে তারা বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলোর পুরোনো খাসলত বদলায় না কেন, এটি বোঝা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক কিছু ওয়াদা করে, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করে না। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে মানবিক মর্যাদার উল্লেখ রয়েছে। তবে মানুষকে অধিকার না দিলে তার মর্যাদা দেওয়া সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পুলিশ কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, তাও বাস্তবায়িত হয়নি। রাষ্ট্রের সংকট কাটাতে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রয়োজন, যার ভিত্তি হবে ক্ষমতার কাঠামো আলাদা করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হুসাইনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরও অংশ নেন আইনজীবী ও সাবেক বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য তানিম হোসেন শাওন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান সারোয়ার তুষার, মানবাধিকার কর্মী রুবি আমাতুল্লাহ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%