আহমেদ আক্তার রানা প্রতিনিধি কুলাউড়া উপজেলা
১০:৫৩ পি.এম
কুলাউড়া সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশের তরুণ তারা মিয়া (১৯) এর লাশ আজ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১০ আগস্ট সোমবার বিকেলে উপজেলার চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিএসএফ-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পতাকা বৈঠক হওয়ার পর ভারতীর পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারার মরদেহ হস্তান্তর করে। এই সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নিহত তারা মহল উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। কুলাউড়া থানার পুলিশ ও বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টায় তারার মরদেহ হস্তান্তরের জন্য চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় পতাকা বৈঠক করা হয়। নিহত তারার বড় ভাই রাজু মিয়া লাশ গ্রহণ করেন। এসময় সেখানে কুলাউড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না, ত্রিপুরার ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, বিএসএফের মাগুরুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত, কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বর, কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিলভেস্টার পাঠান উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা কানু মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া (৩৬), রইস আলীর ছেলে সুমন মিয়া (১৮) ও রইস আলীর সঙ্গে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় চোরাই পণ্য আনতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন নিহত তরুণ তারা মিয়া। এসময় বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বাকি সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যায়। কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, দুই দেশের মধ্যে আইনী প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ সোমবার বিকেলে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তারা মিয়ার মাতা আজিরুন্নেছা বলেছেন, 'আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিল না। টাকার লোভ দেখিয়ে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন লোক। তখন বাঁধা দিলে ছেলে কথা শুনেনি। পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেললো। আমার বুকটা খালি হয়ে গেল।' বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি তরুণ তারা নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে তাঁদের পক্ষ থেকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দুই দেশের পতাকা বৈঠকের পর নিহত তরুণের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকরা অপরাধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার বাড়ানো হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোগত ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেজিয়া)।
আজ সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বেজিয়ার সভাপতি এম এ জব্বার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিজেদের সংগঠনের নেতৃত্ব দেন।
সভায় পাঁচটি সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বরাদ্দকৃত প্লটের বর্তমান অগ্রগতি, গ্যাস ও শিল্পপানির সংকট, সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট, নগদ প্রণোদনা এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানির প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি নিশ্চিত হওয়া না পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ মওকুফ, লিজ ট্যারিফের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার, ৯৯ বছরের লিজের মিউটেশন ব্যাংকযোগ্য করা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করার দাবি উত্থাপন করা হয়।
এছাড়া, অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেকসই শিল্পায়ন ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারে বেজিয়ার পরিচালনা বোর্ডে বিজিএমইএর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন এম এ জব্বার।
বিজিএমইএ সভাপতি এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে দ্রুত প্রতিনিধি মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ আগস্ট ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার দেশ হিসেবে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
আজ রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আসিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত আসিয়ান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত আসিয়ান ঢাকা কমিটি (এডিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্ক ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। আরো যোগ করেন, স্থল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। শক্তিশালী জনসম্পৃক্ততা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই পক্ষের বন্ধনকে আরও গভীর করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব সংযোগ ভবিষ্যতে পারস্পরিক কল্যাণের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আসিয়ানের ১১টি সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এর অনুকূলে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফর বাংলাদেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্ককে অগ্রসর করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও আসিয়ানের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক এবং টেকসই করতে সরকার আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার (এসডিপি) হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। আসিয়ানের সঙ্গে খাতভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটের ‘বাংলাদেশ-আসিয়ান কো-অপারেশন প্রজেক্ট অন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এছাড়াও, পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতি সহ অন্যান্য খাতেও আরও কিছু সহযোগিতা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্ত্রী উপস্থিত আসিয়ান মিশন প্রধানদের সহযোগিতা কামনা করেন যাতে বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জন করতে পারে।
তিনি বলেন, আসিয়ান বিশ্বের অন্যতম সফল আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। বাংলাদেশ আসিয়ান পরিবারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হলে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও অর্থবহ ও বহুমাত্রিক হবে।
অনুষ্ঠানে আসিয়ান ঢাকা কমিটির চেয়ার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কেইংলেটসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আরোগ্য কামনা করেন।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে টেকসই স্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন। আমাদের দেশের এই বিশেষ বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ আমার সঙ্গে একাত্ম হয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।’
এদিকে, আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রেস সেক্রেটারি তুনকু নাশরুল আবাইদাহ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।
তবে কী ধরনের পরীক্ষা বা চিকিৎসা করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে দোয়া চেয়ে বলা হয়েছে আনোয়ারের সুস্বাস্থ্য এবং দ্রুত স্বাভাবিক দায়িত্বে ফেরার জন্য।
আনোয়ার ইব্রাহিম সোমবার ৭৯ বছর বয়সে পা দিয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে, আনোয়ার ইব্রাহিমের কাঁধ ও পিঠের ব্যথার সমস্যা বিভিন্ন সময় দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালে কাঁধ ও পিঠের ব্যথার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বরেও পিঠের ব্যথার কারণে তিনি পাহাং রাজ্যে একটি সফর বাতিল করেছিলেন।
তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাকে সুস্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) আরও বেশি জনসম্পৃক্ত এবং কার্যকর করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ঢাকাবাসীদের ঢাকাকে নিজের মনে করতে হবে। নইলে শহরের প্রতি দরদ তৈরি হবে না।’
আজ সোমবার বিকেলে নগর ভবনে বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে ঢাকাবাসীর জন্য আরও বেশি কিছু করতে পারব বলে আশা করছি। আপনারা এ ব্যাপারে পাশে থাকেন, আমিও আপনাদের পাশে থাকব।’
তিনি জোর দিয়েছেন যে, ঢাকাভিত্তিক যেকোনো উদ্যোগে সিটি করপোরেশন সাংবাদিকদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সিটি করপোরেশনকে আরও শক্তিশালী ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেছেন, ‘আমরা চাই সিটি করপোরেশন আরও শক্তিশালী হোক। জনগণের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হোক। ঢাকা সিটি করপোরেশনের জনগণের সঙ্গে যেভাবে সম্পৃক্ত থাকা উচিত ছিল, সেভাবে নেই।’
তিনি জানান যে, ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে ডিএসসিসি। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
আবদুস সালাম উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে নাগরিক সমস্যাগুলো যখন উঠে আসে, তখন আমাদের পক্ষে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। তাই গণমাধ্যমকে আমরা উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অংশীদার মনে করি।’
তিনি জানান, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে পথচলা শুরু করা প্রিয় ঢাকা আজ ৪১৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ঐতিহ্য ও গৌরবের দীর্ঘ পথপরিক্রমা উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ‘হৃদয়ে ঢাকা’ শীর্ষক বিশেষ উৎসবের আয়োজন করেছে।
তিনি বলেন, ৪১৬ বছরের পুরোনো নগরীর বর্তমান নাগরিক সমস্যা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো সাংবাদিকদের লেখনীতে বস্তুনিষ্ঠভাবে উঠে আসুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
মতবিনিময় সভায় বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নূরুদ্দিন আহমেদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি জানান, ঢাকাভিত্তিক যেকোনো কার্যক্রমে তাদের সংগঠন সিটি করপোরেশনের পাশে থাকবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোমিন হোসেন বলেন, ঢাকা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নগর ভবনের যেকোনো উন্নয়নমূলক বা জনকল্যাণমুখী কাজে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার অনুরোধও জানান তিনি।
সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি এ বি এম রফিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক অনজন রহমান, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক সুমন ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, জনকল্যাণ সম্পাদক নূরুন্নবী রবি এবং সদস্য গ্যালমান শফি, লুৎফর রহমান, দেলোয়ার হোসেন বাদল ও কুশর ইয়াসির উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ