ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী কুশের টার্গেট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী


গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী কুশের টার্গেট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করে ক্রেতাদের সংগ্রহ করে তারপর মাদক বিক্রি করা হচ্ছিল। কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করা যায়। সেখানে অর্ডার করলে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে মাদক কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা পাওয়া যায়। এই অভিনব কৌশলে মাদক ব্যবসার অভিযোগে সম্প্রতি এক ড্রপআউট শিক্ষার্থী ধরা পড়েছে, যিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) জানায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চারশো শিক্ষার্থী গোপন গ্রুপ থেকে মাদক কিনছেন। এদিকে, গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে ডিএনসি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

ওই ভিজিটিং কার্ডের এক পাশে লেখা ছিল "ক্রেভিংস"। অন্যপাশে কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি ওয়েবপেজ আসতো। সেখানে "ক্রেভিংস" লেখা গোপন টেলিগ্রাম পেজের লিংকও ছিল। নিচে ওয়েবপেজে লগইন-রেজিস্ট্রেশনের অপশন ছিল। টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করলেই সাবস্ক্রাইব করার অপশন আসতো। এরপর সেখানে অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগের অপশন ছিল, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী মাদকদ্রব্যের অর্ডার করা যেত।

সাইবার প্যাট্রোলিংয়ে ডিএনসির নজরে আসে ওই গোপন গ্রুপটি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রুপের অ্যাডমিনকে খুঁজে বের করা হয়। এরপর রাজধানীর ভাটারায় অভিযান চালিয়ে সাইম ইসলাম নামের ওই অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় আধা কেজি কুশ, সিনথেটিক গাঁজা, বিপুল সংখ্যক ভিজিটিং কার্ড এবং মাদক বিক্রির আলামত।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

সাইম ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে পুরো চিত্রটি সামনে আসে। জানা যায়, গ্রেফতার সাইম ২০২৪ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হন এবং দুই বছর পর ড্রপআউট হন। আইটি সম্পর্কে তার জানাশোনা কাজে লাগিয়ে অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রি শুরু করেন সাইম।

ডিএনসি জানিয়েছে, সাইমের টেলিগ্রাম গ্রুপ "ক্রেভিংসে" ৩৯৭ সাবস্ক্রাইবারের মধ্যে বেশিরভাগই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি তাদের কাছেই মাদক বিক্রি করতেন।

ডিএনসির ঢাকার বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান সময় সংবাদকে বলেন, তিনি ৬ মাস ধরে এই মাধ্যমের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করছিলেন। টার্গেট ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। কার্ডের মাধ্যমে টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে তারা একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করেছিলেন, যা মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য ছিল।

এদিকে, ঢাকা বিমানবন্দরে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি কুশের চালান ধরা পড়েছে। এ নিয়ে ডিএনসি জানায়, দেশে কুশের বাজার তৈরির চেষ্টা করছে একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র। সেই চক্রের কাছ থেকে সাইম কুশ কিনেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা সেই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি শনাক্ত করেছি। দেখা গেছে ওই চ্যানেলে ২৫০ এর মতো শিক্ষার্থী আছেন। বর্তমানে সাইম ইসলামের মাধ্যমে তারা মাদক কেনাবেচা করত। মামলা মাত্র রুজু হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত আছে, আরও কেউ আছে কি না, তা খুঁজে বের করা হবে।

গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে ডিএনসি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে দাঙ্গার দায় ও শিক্ষার প্রশ্নে বিভক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৪ এম


ফ্রান্সে দাঙ্গার দায় ও শিক্ষার প্রশ্নে বিভক্তি

প্যারিসের একটি গাছঘেরা সড়কের পাশে ভাঙা দোকানের সারি দেখা যাচ্ছে। দোকানের জানালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে এবং রাস্তায় কাচের টুকরা ছড়িয়ে রয়েছে। দেয়ালে লাল রঙে ফরাসি পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন অপমানজনক কথা লেখা হয়েছে। কিছু জায়গায় দাঙ্গার তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে—১৭ অক্টোবর।

বিবিসি জানাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন এলিজাবেথ। শনিবারের সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা ফ্রান্সের আসল চেহারা নয়। সংবাদমাধ্যম শুধু সহিংসতা আর ভাঙচুরের খবর দেখাচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ এমন নয়। এটাই ফ্রান্স নয়।”

এলিজাবেথের কথা বলার সময় আবেগপ্রবণতা স্পষ্ট ছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, শনিবারের ঘটনা ফ্রান্সের মানুষের প্রকৃত অবস্থাকে তুলে ধরছে না। তিনি জানান, তার এক বন্ধু মনে করেন, ফ্রান্সে গৃহযুদ্ধ চলছে। তবে তিনি নিজে তা মনে করেন না। তার মতে, শনিবারের সহিংসতার পেছনে অন্য কারণ রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই সহিংসতা কারা চালিয়েছে, কেন চালিয়েছে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না। কিছু এলাকায় লুটপাটের ঘটনা দেখে মনে হয়েছে, অনেকে সুযোগ পেয়ে দোকানে হামলা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের ওপর কিছু হামলা দেখে মনে হয়েছে, সেগুলো আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার পর হঠাৎ কেন এমন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে কারা লাভবান হতে পারে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। ফ্রান্সের ভেতরে ও বাইরে এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তবে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী করে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভে দাঙ্গা এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংসদীয় তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ফরাসি গোয়েন্দারা সরকারকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বামপন্থী নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলো জড়িত ছিল। এসব গোষ্ঠীর পরিচিত একটি প্রতীক হলো কালো বৃত্তের মধ্যে ইংরেজি বড় হাতের ‘এ’ অক্ষর। এই সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে স্প্রে দিয়ে এমন প্রতীক আঁকা হয়েছে।

শনিবারের একটি ভিডিও ফরাসি সংবাদমাধ্যমে বারবার প্রচার করা হয়েছে। এতে কালো পোশাক পরা একদল তরুণকে দেখা যায়। তাদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। ভিডিওতে কয়েকজনকে পুলিশের একাধিক গাড়িতে হামলা চালাতে দেখা যায়। তাদের হাতে বড় হাতুড়ি বা চাপাতির মতো অস্ত্র ছিল বলে মনে হয়েছে।

ফরাসি সংবাদপত্র ‘লে ফিগারো’ ২৯ সেপ্টেম্বরের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ছাত্রসংগঠন ও উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, উগ্র বামপন্থী দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজ (এলএফআই) ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। শনিবারের সব সহিংসতার জন্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার তিন হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোই সুযোগসন্ধানী লুটপাট বলে মনে করা হচ্ছে। লুট করা পণ্য বিক্রির জন্য অনেক তরুণ দ্রুত অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। এসব পণ্যের মধ্যে নামী ব্র্যান্ডের জুতাও ছিল। কেউ কেউ মুখ না ঢেকেই পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।

এ ঘটনায় অনলাইনে পণ্য বিক্রির বিভিন্ন মাধ্যম ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তারা সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। পুলিশও বিভিন্ন নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজ পরীক্ষা করছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, সহিংসতা ও চুরির ঘটনায় জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট মানুষকে সহিংসতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ রয়েছে তার। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই তিনি এমন পদক্ষেপের কথা বলেছেন।

ফ্রান্সের পাশাপাশি প্রতিবেশী বেলজিয়ামেও গত কয়েক দিনে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কুইন্টিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাঙ্গার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতাকে ‘টিকটকীকরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এসব ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং সহজে প্রভাবিত হয় এমন অনেক তরুণের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

ব্রাসেলস ও লিয়েজ শহরের সহিংসতার জন্যও তিনি পরিচিত উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরাঁ নুনেজ শনিবারের সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থীদের দায়ী করেছেন। নুনেজের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী পরিস্থিতি আরো খারাপ করছে। তিনি বলেন, তারা ‘আগুনে ঘি ঢালছে’।

মঙ্গলবার লেকর্নু বলেন, উগ্র বামপন্থী ও অতিবামপন্থী ছোট ছোট গোষ্ঠী বিদ্রোহের পরিকল্পনা করেছিল। এর আগে তিনি অভিযোগ করেন, এসব গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তবে বামপন্থী দল এলএফআইয়ের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনিও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

শনিবারের পরিকল্পিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন মেলঁশোঁ। প্রায় এক মাস আগে প্যারিসের সুবিধাবঞ্চিত উপকণ্ঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। সবার জন্য উন্নত সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে প্রথম থেকেই তার দলের রাজনীতিকদের দেখা গেছে।

সোমবার প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনিতে শিক্ষার্থী সংগঠন এফএসইর সদস্য লিসা কর্দার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সংগঠনের মাধ্যমে তারা বিক্ষোভের আয়োজন করেন। রাজনীতিকরা শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসব করাচ্ছেন অথবা তাদের নির্দেশ দিচ্ছেন—এমন অভিযোগকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিসা বলেন, “শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ নিচের স্তর থেকে উঠে এসেছে।”

তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের নিজস্ব কারণ রয়েছে। তাদের আন্দোলনকে শুধু রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা হিসেবে দেখলে প্রকৃত সমস্যাগুলো আড়ালে থেকে যাবে। তবে শনিবারের সহিংসতাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন ফ্রান্সের অনেক মানুষ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। ২৫ বছর বয়সী লিনা বলেন, “রাজনীতিকরা দোষ চাপানোর জন্য কাউকে খুঁজছেন। কিন্তু কেন এসব ঘটল, তা জানতে চাইছেন না। শনিবারের ঘটনার মূল কারণ কী, সেটি তাঁরা জানতে চান না। আমরা ভীত। নিজেদের অসহায় ও পরিত্যক্ত মনে হচ্ছে।”

শনিবারের পর থেকে ফ্রান্সের শীর্ষ রাজনীতিকরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। মাত্র ছয় মাস পর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এরই মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। রাস্তায় চলমান অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

বর্তমান জনমত জরিপগুলোর বেশ কয়েকটিতে মধ্যপন্থী প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেলঁশোঁ। তিনি প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুকে বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করেছেন। মেলঁশোঁর অভিযোগ, সরকারের অযোগ্যতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অথবা সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দিয়েছে।

তার দাবি, শনিবারের সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়ে লেকর্নু নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পক্ষের নেতা হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। এর ফলে মানুষ তাকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরে যেতে পারে। ফ্রান্স বর্তমানে বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং ঋণ পরিশোধের ব্যয় সামলাতে সমস্যায় পড়েছে।

শনিবারের ঘটনায় গোয়েন্দাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং নতুন পুলিশি কৌশল নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ স্বীকার করেছেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভের খবর আগে থেকেই জানা থাকলেও রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়নি। এর আগে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে বেশ অসহায় মনে হয়েছে।

শনিবারের সহিংসতা থেকে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন অভিবাসনবিরোধী ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টির নেতা মারিন ল্য পেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জনমত জরিপে তিনি ইতিমধ্যে এগিয়ে রয়েছেন। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। ভিডিওতে আনুষ্ঠানিক পোশাকে একটি বড় টেবিলের সামনে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। পেছনে ছিল ফ্রান্সের পতাকা।

ভিডিওতে ল্য পেন মেলঁশোঁর নাম উল্লেখ করে তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য “দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দেওয়া।” ম্যাখোঁর সরকারকেও ব্যর্থ বলে আক্রমণ করেন ল্য পেন। তার ভাষায়, ফ্রান্স এখন “সহিংসতা ও অক্ষমতার মাঝখানে জিম্মি হয়ে পড়েছে।” ভিডিওর শেষে তিনি ভোটারদের মনে করিয়ে দেন, ছয় মাস পর তারা “ভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার” সুযোগ পাবেন।

ল্য পেনের দল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সীমান্ত বন্ধ রাখার পক্ষে প্রচার চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো তারাও শনিবারের সহিংসতার জন্য অভিবাসীসহ বিভিন্ন পক্ষকে দায়ী করেছেন। তবে শনিবারের সহিংসতার কারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। মার নামে এক শিক্ষক মনে করেন, শনিবারের সহিংসতা রাজনীতিকদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের সুযোগ করে দিয়েছে। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন থেকে মানুষের মনোযোগ সরে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের কী প্রয়োজন, শিক্ষকদের কী প্রয়োজন কিংবা ফরাসি জনগণ কী চায়—রাজনীতিকরা তা শুনছেন না। তারা প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য নির্বাচনী প্রচারে সহিংসতাকে ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে খারাপ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।” ফ্রান্সের অনেক মানুষের মধ্যে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করছে, ক্ষমতাসীন ও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না।

ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এই সপ্তাহান্তে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের পাশাপাশি ইতালি, পর্তুগাল ও আলবেনিয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি বিক্ষোভে সহিংসতাও ছড়িয়ে পড়ে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার মান কমে যাওয়া এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অসহায় বোধ করার মতো বিষয়গুলো এসব বিক্ষোভের অন্যতম কারণ।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের মতো অঞ্চলের যুদ্ধের প্রভাবেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই বাড়তি ব্যয় কিভাবে সামলানো যাবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছে, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের উদ্বেগের কথা শুনছে না। সমস্যার সমাধানেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না তারা। তরুণদের উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক বৈষম্য, নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাড়ির দাম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এ বছরের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ফ্রান্সের ৬৯ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্র যেভাবে কাজ করছে, তাতে অসন্তুষ্ট। স্পেনে এ হার ৬৮ শতাংশ এবং ইতালিতে ৬২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেশটির ৬৯ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্রের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শনিবারের দাঙ্গার পর ফ্রান্সে যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের অনেকেই একটি বিষয়ে একমত। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানানো মানুষদের সঙ্গে সহিংসতা ও ভাঙচুরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আলাদা করে দেখতে হবে।

কারণ, কোনো দাবির পক্ষে বিক্ষোভ করা আর সেই বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে লুটপাট ও সহিংসতা চালানো এক বিষয় নয়। তবে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ঘটনা শুধু আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটও জড়িত থাকতে পারে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের অসন্তোষ সেই প্রশ্নকে আরো জোরালো করছে।

মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং অনেকেই মনে করছেন, তাদের কথা শোনার কেউ নেই। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ আরো বাড়তে পারে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক দাঙ্গা তাই শুধু ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নয়। এটি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অসন্তোষ এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলোও সামনে এনেছে। এখন প্রশ্ন, এই ক্ষোভের কারণগুলো চিহ্নিত করে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে কি না। নাকি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগেই চাপা পড়ে যাবে মানুষের মূল দাবিগুলো?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে বেটিং কেলেঙ্কারিতে ১৪৭ ক্লাব কর্মকর্তা নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


তুরস্কে বেটিং কেলেঙ্কারিতে ১৪৭ ক্লাব কর্মকর্তা নিষিদ্ধ

তুরস্কের ফুটবলে বেটিংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১৪৭ জন বর্তমান ও সাবেক ক্লাব কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে বাজি ধরার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে তাঁদের ৪৫ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ)। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ লিগের ক্লাব ট্রাবজোনস্পরের সভাপতি এরতুঘরুল দোয়ানও।

মঙ্গলবার, টিএফএফের পেশাদার ফুটবল শৃঙ্খলা বোর্ড ৪৪৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তদন্তে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই সময়কালীন তাঁরা ফুটবল সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বাকি ৩০১ জনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে তুরস্কের শীর্ষ দুই বিভাগের ক্লাবগুলোর ৪৪৮ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল ফেডারেশন। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে বেটিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

তুর্কি ফুটবলে বেটিং-সংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধে ফেডারেশনের কার্যক্রম নতুন নয়। গত বছর বড় ধরনের বেটিং কেলেঙ্কারির পর ১৪৯ জন রেফারি ও ১ হাজার ২৪ জন খেলোয়াড়কে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল। তাঁদেরও বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফুটবলে বাজি ধরার নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে টিএফএফের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির বাসভবনের কাছে রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


মোদির বাসভবনের কাছে রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিস

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও)। গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত নোটিসে বলা হয়েছে, মসজিদটি ছয় দিনের মধ্যে খালি করতে হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। এর পূর্বে, ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ দাবি করেছে, মসজিদটি নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সংগঠনটি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষার জন্য হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। তারা আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ ভাঙার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রিজিজু বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেছেন, গত ছয় মাস ধরে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে আবেদন জানিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ তিনি পাননি। তার মতে, ২০২১ সালের এক জরিপে মসজিদটিকে অবৈধ স্থাপনা বা দখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি হাইকোর্ট ওই এলাকার বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করার অনুমতি দিয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের সাভদা ঘেওরা কেন্দ্রে শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: দ্য ওয়্যার

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পেল বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পেল বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ১০

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বোয়িংয়ের সবচেয়ে বড় ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল, ম্যাক্স ১০, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন লাভ করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন উড়োজাহাজটিকে এই অনুমোদন দেয়। এর ফলে উড়োজাহাজটির বিক্রি ও সরবরাহের পথে একটি বড় বাধা দূর হলো। তবে, বিমান সংস্থাগুলোর কাছে উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বোয়িংয়ের জন্য এই অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরাপত্তা, নির্মাণের মান এবং উৎপাদন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন উড়োজাহাজটির অনুমোদন প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ওয়াশিংটনের এভারেট শহরে বোয়িংয়ের উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এই অনুমোদনের কথা জানান। তিনি বলেন, "ব্যাপক নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং হাজার হাজার ঘণ্টার পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটি অনুমোদন পেয়েছে।" তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণশিল্পের জন্য একটি বড় অর্জন।

বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিভাগের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ বলেন, "এই অনুমোদনের ফলে এমন একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের পথ খুলেছে, যা বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নতুন মান তৈরি করবে।" তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এ অনুমোদন প্রতিষ্ঠানটির পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।"

এক উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী

বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক্স ১০-এ সাধারণত ১৮৫ থেকে ২১০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। তুলনায় ম্যাক্স ৯-এ ১৭৫ থেকে ১৯৫ জন এবং ম্যাক্স ৮-এ ১৬০ থেকে ১৮০ জন যাত্রী বহন করা যায়।

বড় উড়োজাহাজ হওয়ায়, বিমান সংস্থাগুলো একই ফ্লাইটে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে। এতে প্রতিটি আসনের বিপরীতে পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। জনপ্রিয় রুটগুলোতে আসনসংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে যাত্রীদের টিকিটের দাম কমবে কি না, তা বিমান সংস্থাগুলোর উড়োজাহাজ ব্যবহারের ধরন ও বাজারে প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর করবে।

বিলম্বে আটকে ছিল হাজারের বেশি উড়োজাহাজের সরবরাহ।

২০১৭ সালে প্যারিসে এক আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ প্রদর্শনীতে ম্যাক্স ১০-এর ঘোষণা দেয় বোয়িং। ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মডেলটি তৈরি করা হয়। তবে, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন শর্তের কারণে এর অনুমোদন বারবার পিছিয়ে যায়।

বোয়িংয়ের কাছে এখনো বিশ্বের ৩০টির বেশি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে ১ হাজার ৫৫৫টি ম্যাক্স ১০ উড়োজাহাজ। প্রতিষ্ঠানটির ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের মোট বকেয়া ক্রয়াদেশের ৩০ শতাংশেরও বেশি এই উড়োজাহাজের। এর বড় গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস ও রায়ানএয়ার। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইনস ১০৫টি ম্যাক্স ১০ কেনার আদেশ দেয়। প্রয়োজনে আরও ৩৫টি কেনার সুযোগও রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নজরদারি।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে বোয়িংয়ের ছোট মডেল ম্যাক্স ৮-এর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়ায় মোট ৩৪৬ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার পর বোয়িংয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উড়োজাহাজ তৈরির মান নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে।

২০২৪ সালে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজ আকাশে থাকা অবস্থায় এর গায়ের একটি প্যানেল খুলে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

দুর্ঘটনাগুলোর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করে। তবে গত ১৮ মাসে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ উৎপাদনের সীমা বাড়ানোও রয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে ম্যাক্স ৭ মডেলটিও বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবহারের অনুমোদন পায়। ফলে ম্যাক্স ৭ ও ম্যাক্স ১০—দুটি মডেলের অনুমোদন একই বছরে পাওয়াকে বোয়িংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা

ম্যাক্স ১০-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের এ৩২১নিও মডেল। ২০১৭ সালে যাত্রী পরিবহন শুরু করা এই মডেল পরিবারের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজটি ম্যাক্স ১০-এর চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করতে পারে এবং জ্বালানি না নিয়েও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

তবে পুরোনো উড়োজাহাজের তুলনায় বেশি যাত্রী বহন এবং কম জ্বালানি খরচের লক্ষ্য নিয়ে ম্যাক্স ১০ তৈরি করেছে বোয়িং। জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর কাছে এই বৈশিষ্ট্য আকর্ষণীয় হতে পারে।

অনুমোদনের অর্থ, উড়োজাহাজটির নকশা নিরাপত্তার নির্ধারিত মান পূরণ করেছে। তবে বোয়িংকে নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিটি উড়োজাহাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে। যাত্রী পরিবহনের আগে প্রতিটি উড়োজাহাজকেও আলাদাভাবে ছাড়পত্র নিতে হবে।

এছাড়া জুলাইয়ে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বোয়িংকে উৎপাদনকেন্দ্রেই ম্যাক্স ৭৩৭ ও ৭৮৭ উড়োজাহাজের উড্ডয়নযোগ্যতার সনদ দেওয়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। এতে তৈরি হওয়া উড়োজাহাজ উড্ডয়নের উপযোগী কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আবারও কিছু দায়িত্ব ফিরে পেয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%