১০:১৪ এম
ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করে ক্রেতাদের সংগ্রহ করে তারপর মাদক বিক্রি করা হচ্ছিল। কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করা যায়। সেখানে অর্ডার করলে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে মাদক কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা পাওয়া যায়। এই অভিনব কৌশলে মাদক ব্যবসার অভিযোগে সম্প্রতি এক ড্রপআউট শিক্ষার্থী ধরা পড়েছে, যিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) জানায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চারশো শিক্ষার্থী গোপন গ্রুপ থেকে মাদক কিনছেন। এদিকে, গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে ডিএনসি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
ওই ভিজিটিং কার্ডের এক পাশে লেখা ছিল "ক্রেভিংস"। অন্যপাশে কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি ওয়েবপেজ আসতো। সেখানে "ক্রেভিংস" লেখা গোপন টেলিগ্রাম পেজের লিংকও ছিল। নিচে ওয়েবপেজে লগইন-রেজিস্ট্রেশনের অপশন ছিল। টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করলেই সাবস্ক্রাইব করার অপশন আসতো। এরপর সেখানে অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগের অপশন ছিল, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী মাদকদ্রব্যের অর্ডার করা যেত।
সাইবার প্যাট্রোলিংয়ে ডিএনসির নজরে আসে ওই গোপন গ্রুপটি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রুপের অ্যাডমিনকে খুঁজে বের করা হয়। এরপর রাজধানীর ভাটারায় অভিযান চালিয়ে সাইম ইসলাম নামের ওই অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় আধা কেজি কুশ, সিনথেটিক গাঁজা, বিপুল সংখ্যক ভিজিটিং কার্ড এবং মাদক বিক্রির আলামত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
সাইম ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে পুরো চিত্রটি সামনে আসে। জানা যায়, গ্রেফতার সাইম ২০২৪ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হন এবং দুই বছর পর ড্রপআউট হন। আইটি সম্পর্কে তার জানাশোনা কাজে লাগিয়ে অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রি শুরু করেন সাইম।
ডিএনসি জানিয়েছে, সাইমের টেলিগ্রাম গ্রুপ "ক্রেভিংসে" ৩৯৭ সাবস্ক্রাইবারের মধ্যে বেশিরভাগই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি তাদের কাছেই মাদক বিক্রি করতেন।
ডিএনসির ঢাকার বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান সময় সংবাদকে বলেন, তিনি ৬ মাস ধরে এই মাধ্যমের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করছিলেন। টার্গেট ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। কার্ডের মাধ্যমে টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে তারা একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করেছিলেন, যা মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য ছিল।
এদিকে, ঢাকা বিমানবন্দরে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি কুশের চালান ধরা পড়েছে। এ নিয়ে ডিএনসি জানায়, দেশে কুশের বাজার তৈরির চেষ্টা করছে একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র। সেই চক্রের কাছ থেকে সাইম কুশ কিনেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা সেই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি শনাক্ত করেছি। দেখা গেছে ওই চ্যানেলে ২৫০ এর মতো শিক্ষার্থী আছেন। বর্তমানে সাইম ইসলামের মাধ্যমে তারা মাদক কেনাবেচা করত। মামলা মাত্র রুজু হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত আছে, আরও কেউ আছে কি না, তা খুঁজে বের করা হবে।
গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে ডিএনসি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন