০৮:৩৮ পি.এম
জর্ডানের মুওয়াফফাক আল-সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিখোঁজ থাকা মার্কিন সেনাসদস্য সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সি এই নারী সেনা নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড, ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট
গত ১৭ জুলাই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তাকে প্রথমে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার সামরিক অবস্থান ‘অজ্ঞাত’ থেকে ‘নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে’ হিসেবে হালনাগাদ করা হয়। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
এর আগে একই হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছিল পেন্টাগন। তারা হলেন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান (২৫) এবং প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস (১৯)। র্যাম্পারসাডের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় জর্ডানের ওই হামলায় মার্কিন নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিমানঘাঁটির সেনাদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত কনটেইনারাইজড হাউজিং ইউনিটে (সিএইচইউ) আঘাত হানে। হামলায় প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের অধিকাংশই কনকাশন বা বিস্ফোরণজনিত আঘাতে আক্রান্ত হন।
এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হামলাটি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান
টানা ১১তম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা
এদিকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইরানে টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশটি বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের দিকে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত বা প্রতিহত করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ‘‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ খুব শিগগিরই ‘খুব বড় ধরনের’ হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, ‘যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে’ এবং দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক যেকোনো পদক্ষেপের মোকাবিলা করবে ইরান।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে তিনি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের চলমান হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’। রুবিও আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষা অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন