ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেভিড ইমনের নতুন সংস্করণ: ডেভিড জিহাদ আটক


ডেভিড ইমনের নতুন সংস্করণ: ডেভিড জিহাদ আটক

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনের ‘নতুন সংস্করণ’ ডেভিড জিহাদকে পুলিশ আটক করেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়ভাবে ডেভিড জিহাদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে স্কুলশিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, পলক ও মামুন

সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট লোহাগাড়ার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহকে (১৫) একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন ও শিক্ষক নাজিব স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। পরে তারা বটতলী স্টেশনের ইনসাফ রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে আবদুল্লাহর সহপাঠী ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আয়ানকে আটক করেন। তবে আবদুল্লাহকে মারধরের সঙ্গে জড়িত অন্য কিশোররা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আয়ানকে লোহাগাড়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আয়ানকে পুলিশের কাছে দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমনের মোবাইল ফোনে হুমকির একটি কল আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কলের রেকর্ডে হুমকিদাতাকে নিজেকে ‘ডেভিড জিহাদ’ হিসেবে পরিচয় দিতে শোনা যায়। এ ঘটনায় শিক্ষকের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যেই একই ঘটনার জেরে বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়কে নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে। হামলায় তাকে ছুরিকাঘাতসহ শরীরের অন্তত পাঁচ স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় ডেভিড জিহাদের নেতৃত্ব ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আজ রায়

পরে নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লোহাগাড়া থানায় মামলা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকে ডেভিড জিহাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ডেভিড জিহাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: মিরপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সব মজা শুধু ছেলেরাই নেবে কেন?’ শোভিতা ধুলিপালার প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


‘সব মজা শুধু ছেলেরাই নেবে কেন?’ শোভিতা ধুলিপালার প্রশ্ন

‘সব মজা শুধু ছেলেরাই নেবে কেন?’—মার্শাল আর্ট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এই মজার প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী শোভিতা ধুলিপালা। তামিল সিনেমা ‘ভেট্টুভাম’-এ অভিনয়ের জন্য মার্শাল আর্ট শেখার অভিজ্ঞতা তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, এখন নাচের তুলনায় মার্শাল আর্টকেই বেছে নিতে চান এই অভিনেত্রী।

পা রঞ্জিত পরিচালিত ‘ভেট্টুভাম’ একটি অ্যাকশন ও সায়েন্স ফিকশনের মিশ্রণ। সিনেমাটিতে শোভিতার সহ-অভিনয় করছেন ভিআর দিনেশ ও আরিয়া। ছবিতে শোভিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে। ছবির কাজের জন্য তাকে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির ‘ইউভা ২০২৬’-এ অতিথি হয়ে সিনেমাটি ও নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলেন শোভিতা। মার্শাল আর্ট শেখার প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রথমবার এই শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। ভারতের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট নিয়েও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। কলারিপায়াত্তু ও মল্লখম্বের মতো শিল্পের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।

শোভিতার কাছে মার্শাল আর্ট কেবল সিনেমার প্রস্তুতি বা শরীরচর্চার বিষয় নয়। তার মতে, এর প্রভাব মানসিকভাবেও পড়েছে। অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি চাপ ও মানসিক অস্বস্তি কমাতে সক্ষম হয়েছেন। শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি নিজের ভেতরেও এক ধরনের পরিবর্তন অনুভব করেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।

শাস্ত্রীয় নৃত্যে প্রশিক্ষিত শোভিতাকে প্রশ্ন করা হয়, নাচ ও মার্শাল আর্টের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন। উত্তরে তিনি জানান, এমন উত্তর তিনি আগে ভাবেননি। তবে মার্শাল আর্ট তাকে যেভাবে চাপমুক্ত করেছে, সেটি তার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। তাই তিনি এখন নাচের পরিবর্তে মার্শাল আর্টকেই বেছে নেওয়ার কথা বলেন।

এরপর মজার ছলে শোভিতা বলেন, ‘সব মজা শুধু ছেলেরাই নেবে কেন?’ তার এই মন্তব্যে রসিকতার পাশাপাশি মার্শাল আর্টের মতো শারীরিক কৌশলভিত্তিক শিল্পে মেয়েদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে আসে।

‘ভেট্টুভাম’-এর গল্পে তিনটি ভিন্ন সময়কে একটি অভিন্ন সূত্রে যুক্ত করা হয়েছে। অতীতের মানুষের ঐতিহ্য, সংঘাত ও ক্ষমতার লড়াই কিভাবে বর্তমানকে প্রভাবিত করে এবং ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে, সিনেমাটিতে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে মার্শাল আর্ট ও ঐতিহ্যের যোগসূত্র।

সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন জি ভি প্রকাশ কুমার। সংলাপ লিখেছেন ফ্র্যাঙ্কলিন জ্যাকব। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন রূপেশ শাজি, সম্পাদনায় সেলভা আরকে এবং শিল্প নির্দেশনায় এস এস মূর্তি। অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি করেছেন ধিলিপ সুব্বারায়ণ।

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘ভেট্টুভাম’-এর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে ১৫ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় শিক্ষককে জনতার হাতে পুলিশে দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে ১৫ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় শিক্ষককে জনতার হাতে পুলিশে দিল

ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে ১৫ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

এটি ঘটেছে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে, উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘তালীমুল উম্মাহ নূরে মদিনা কওমি মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা’য়।

ঘটনার পর বিকেলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা নান্দাইল মডেল থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলী (২৪) নান্দাইল ইউনিয়নের ভাটি পাছানী গ্রামের মো. আব্দুস ছালামের ছেলে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই মাদরাসার মিজান শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। প্রতিদিনের মতো আজ সকালে মাদরাসায় গিয়ে সে শ্রেণিকক্ষে একা ছিল। এ সময় শিক্ষক রমজান আলী দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করে ক্লাসরুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ওই শিক্ষক তার হাত ধরে যৌন নির্যাতন করার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ছাত্রী ক্লাসরুমের দরজা খুলে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।

এদিকে, থানায় পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীর হাত ধরেননি এবং এখন তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।

নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ছাত্রীর বাবার পক্ষ থেকে ধর্ষণচেষ্টার লিখিত অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুকুর আতংকে দিশেহারা মানুষ‎

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


কুকুর আতংকে দিশেহারা মানুষ‎

বাড়ির সামনে খেলছিল তিন বছরের শিশু সাবরিনা। হঠাৎ দলবেঁধে কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরের দল শিশুটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাংস ছিঁড়ে নেয়। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও এখনো কাটেনি কুকুরের সেই আতঙ্ক।

‎
‎শুধু সাবরিনা নয়, রাজবাড়ীতে প্রতিনিয়ত বেওয়ারিশ কুকুরের কামড় ও হামলার শিকার হচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশু। বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশি। দলবদ্ধ কুকুরের আক্রমণের ভয়ে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে চান না। শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশুর ওপরও হামলা চালাচ্ছে কুকুরের দল।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কুকুর নিধন বন্ধ থাকা, জনবল সংকট ও বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কুকুরের বন্ধ্যাত্বকরণ কার্যক্রম। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের উপদ্রবও বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
‎
‎রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জেলায় বছরে প্রায় ৮ হাজার মানুষ কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি দুই হাজারের বেশি গৃহপালিত পশু কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
‎
‎বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন ৭৫৬ জন। আর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত একই ধরনের ঘটনায় টিকা নিয়েছেন ৯৫৩ জন।
‎
‎কালুখালী উপজেলার তোফাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক মোবারক আলী বলেন, আমার মেয়ের বয়স প্রায় তিন বছর। বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় একদল কুকুর তাকে আক্রমণ করে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে মাংস ছিঁড়ে নেয়। চিৎকার শুনে আমার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে প্রায় এক মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
‎
‎তিনি আরও বলেন, কুকুরগুলো দলবদ্ধভাবে চলাচল করে। হামলা করে আবার দ্রুত পালিয়ে যায়। আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকেও একবার কুকুর ধাওয়া করেছিল। এখন সে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যায় এবং কুকুরের ভয়ে হাতে লাঠি রাখে। শুধু শিশুরাই নয়, ছাগলকেও দলবেঁধে আক্রমণ করছে কুকুর।
‎
‎বালিয়াকান্দি সদরের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের এলাকায় কয়েকজনের বাড়ির ছাগলকে কুকুর কামড়েছে। কামড়ানোর পর কুকুরগুলো ছাগলকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। হামলার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরগুলো পালিয়ে যায়। দু-একদিন দেখা না গেলেও কয়েকদিন পর আবার দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায়। শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
‎
‎বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্তানকে নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকি। ঘর থেকে রাস্তায় বের হলেই ভয় কাজ করে। প্রতিনিয়ত দলবেঁধে কুকুর ঘুরে বেড়ায়। গৃহপালিত পশু একা পেলেই আক্রমণ করে। ফলে শিশুদের বাইরে পাঠাতেও ভয় হয়।
‎
‎তালপট্টির বাসিন্দা জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, বাড়তি আয়ের আশায় ছাগল পালন করতাম। আমার তিনটি ছাগল ছিল। প্রতিদিনের মতো ছাগলগুলো বাড়ির পাশেই ঘাস খাচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনটি কুকুর এসে একটি ছাগলকে কামড়াতে শুরু করে। ভয়ে অন্য দুটি ছাগল দৌড়ে বাড়িতে চলে আসে। আক্রান্ত ছাগলটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। দুই দিন চিকিৎসা দেওয়ার পরও সেটিকে বাঁচাতে পারিনি।
‎
‎জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, একসময় প্রকল্পের মাধ্যমে কুকুরের শরীরে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়া হতো। পৌরসভা থেকেও নিধন ও বন্ধ্যাত্বকরণ কার্যক্রম চালু ছিল। অনেকদিন ধরে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমাদের নিজস্ব কোনো প্রকল্প বা বাজেট নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হলে জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে আমরা সহযোগিতা করব।
‎
‎রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, কুকুর নিধনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই নিধনের কোনো সুযোগ নেই। কুকুরের ভ্যাকসিন ও বন্ধ্যাত্বকরণের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহ বিআরটিএতে ঘুষ বাণিজ্য অব্যাহত, ‘বাবরের রাজত্ব’ চলছেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ময়মনসিংহ বিআরটিএতে ঘুষ বাণিজ্য অব্যাহত, ‘বাবরের রাজত্ব’ চলছেই

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ময়মনসিংহ সার্কেল অফিসে ঘুষের বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল কালের কণ্ঠে ‘দালাল চক্রের দাপট, ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা’ শিরোনামে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এছাড়া, সম্প্রতি একাধিক সংবাদ মাধ্যমেও ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের মতোই ঘুষ গ্রহণ এবং গ্রাহকদের হয়রানি চলমান রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে, তবে তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। তথাপি, ওই কার্যালয়ে বাবরের কর্তৃত্ব এখনো বজায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের বাইরের কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানগুলোতে অনলাইনে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়। এসব দোকান থেকে দালালদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ থাকে। বিআরটিএর সেবার জন্য দালালরা গ্রাহকদের কাছ থেকে যে অর্থ নেন, তার একটি অংশ বিআরটিএ কার্যালয়ে পৌঁছে যায়। মোটরযান পরিদর্শক বাবর দালালদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেন, যা পরে বিভিন্ন ‘চেয়ারে’ পৌঁছায়।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিআরটিএতে দালাল হিসেবে নিয়মিত ঘুষ লেনদেনকারী কয়েকজন দালাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী যারা দালাল ধরেন, কেবল তারাই পরীক্ষার সব ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্স পান। দালাল ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীরা এক বা দুই ধাপে উত্তীর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ধাপে অকৃতকার্য হন।

দালালদের দাবি, তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা বাবরের হাতে তুলে দিতে হয়। প্রতি পরীক্ষায় অন্তত ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচবার এ ধরনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় অবৈধভাবে অন্তত চার লাখ টাকা আদায় হয়। এই টাকার ভাগ পরীক্ষা বোর্ডের সভাপতি, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছে যায়।

এ বিষয়ে গত বুধবার ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসাদুজ্জামানের কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বিআরটিএতে গ্রাহকরা বিভিন্ন সেবা পেতে গিয়ে ঘুষ দেন—এমন অভিযোগ আমি প্রায়ই শুনি। তবে আমি এডিএম কোর্ট পরিচালনা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত থাকি যে, বিআরটিএতে বেশি মনোযোগ দিতে পারি না। তবে আমি বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা থেকে অবৈধ এক টাকাও নিই না। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে আমাকে অবৈধ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি।

জানা যায়, সম্প্রতি কালের কণ্ঠ ছাড়াও ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ে গ্রাহক ভোগান্তি ও দালালদের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে মোটরযান পরিদর্শক বাবর এ ঘুষ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি একজন গ্রাহকের লিখিত অভিযোগের পর বিআরটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে বাবরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও তাতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কিনা জানা যায়নি।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘অফিসের বাইরে মানুষ কী আলোচনা করল সেটি আমার জানা নেই। আমি কোনো অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নই।’

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ময়মনসিংহ কার্যালয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে পুনর্তদন্ত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%