১১:১২ এম
বান্দরবানে বন্যার কারণে ৭০ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস এবং জলাবদ্ধতার ফলে বান্দরবান জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদক বান্দরবান থেকে জানান, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারোটায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানালেন জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই মধ্যবর্তী সময়ে জেলাজুড়ে মোট ৫৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাতের কারণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ৪৯টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বড় আকারের ১১টি ভূমিধসে বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভূমিধসে লামা উপজেলায় ৬ জন এবং পানিতে ডুবে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার ফলে জেলার প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বান্দরবান পৌরসভা, লামা পৌর এলাকা ও সদর উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার মোট ৩৪টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়াও, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ৬৫ কিলোমিটার এবং এলজিইডির প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসেবে ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ২০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, এবারের বন্যায় রাস্তাঘাট, কৃষিঘাটসহ সবকিছু মিলে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনো তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। পরে সব তথ্য সংগ্রহের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন