০৩:৩৩ পি.এম
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব বেশি আমলে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়া, ঘাটতি বাজেট নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্যও তিনি তুলে ধরেন।
রবিবার তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। এছাড়া, ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের ওপরে বরাদ্দ রেখেছেন এবং সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থাৎ অর্থের বরাদ্দের অনুপাতটি তিনি চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন। সামাজিক অবকাঠামো দ্বারা আমাদের ১৮ কোটি যে মানুষ, তাদের আমরা সক্ষম করতে সক্ষম হবো। তাদের মানবসম্পদ উন্নয়নের অর্থাৎ সেই জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ, যোগ্য হিসেবে তৈরি করতে হলে, সেক্ষেত্রে তিনি যে বরাদ্দ রেখেছেন, তা যথেষ্ট এবং সময়োপযোগী। ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ। যখন এই দক্ষ মানবসম্পদ রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবে, অনগ্রসর জাতিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এবং সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা সীমান্তে মাদকের অভয়ারণ্য, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। তাই ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয় এবং রাজস্ব ঠিকমতো যদি আহরিত হয়, ব্যাংক থেকে যদি নির্ধারিত লোনটা পাওয়া যায়, তাহলে ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বাজেটে ৫.৫ জিডিপির ঘাটতি বাজেট রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ এটি। আবার চীনে ৪ শতাংশ জিডিপির ঘাটতি বাজেট রয়েছে। সুতরাং, এই ঘাটতি বাজেট আমরা আমাদের দুরবস্থার মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হবো এবং অ্যাচিভ করতে পারবো। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৬.৫ শতাংশ।
বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের প্রতি বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েও কিছু জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনো হননি। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল হলে তারা ধীরে ধীরে সমালোচনা বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব বেশি আমলে নিচ্ছি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন