১০:৫৫ এম
গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটানো ঈদের ছুটি শেষে মানুষ এখন আবার কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকার কমলাপুরে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে, বাস ও লঞ্চেও রয়েছে ভিড়।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ভোর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছিল সেই চিরচেনা দৃশ্য; হাতে ব্যাগ, কাঁধে লাগেজ এবং চোখে কর্মস্থলে ফেরার তাড়া।
ঈদের আগে বাড়ি ফেরার সময় যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছিল, ফিরতি যাত্রায় তার তুলনায় অনেকটা স্বস্তি পেয়েছেন অধিকাংশ যাত্রী। শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় স্বস্তির সাথে ঢাকায় ফিরতে পেরে খুশি দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে ৪ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়, আতঙ্ক ছড়িয়েছে
সরকার নির্ধারিত ঈদের ছুটি শেষে সোমবার থেকে অফিস-আদালত শুরু হওয়ায় ঢাকা আবার চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে। সে ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় কমলাপুর রেলস্টেশনে দৃশ্যমান ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা প্রায় সবগুলো ট্রেনে যাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।
এদিকে, রাত্রিকালীন যাত্রাপথে বিলম্ব খুব বেশি হয়নি বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
এক যাত্রী বলেন, এবারে ঈদযাত্রাটা আগের তুলনায় ভালো। যাওয়ার সময় অতটা ভোগান্তিতে পড়িনি। আসার সময়ও একই অবস্থা ছিল। সব মিলিয়ে এবার ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক।
জামালপুর থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রী সোহেল মিয়া বলেন, আমি ভোরে ট্রেনে উঠেছি। দীর্ঘ পথ হলেও এবার যাত্রা বেশ স্বাভাবিক ছিল। ঈদের আগের সেই ধাক্কাধাক্কির তুলনায় পরিবেশ অনেক ভালো ছিল।
আরও পড়ুন: মিয়ামিতে ছবি তুলতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারে নিহত ১, আহত ২
আরেক যাত্রী জানান, এবারের যাত্রাটা সুন্দর হয়েছে। নির্দিষ্ট টাইমে আমাদের গাড়ি ছেড়ে গেছে। আসার সময়ও নির্দিষ্ট সময়েই পৌঁছে গেছি।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, আসন পূর্ণ হওয়ার পরও অনেককে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে হয়েছে। অথচ অধিকাংশ যাত্রীই যাত্রা শেষ করেছেন স্বস্তির মধ্যে দিয়ে।
এদিকে, নোয়াখালী থেকে ফেরা এক নারী যাত্রী যাত্রাপথে তার গলার সোনার চেইন হারানোর অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করলেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঈদযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এমন ঘটনা কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এছাড়া, কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে আসায় গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালী, জামালপুর ও চট্টগ্রাম রুটের কিছু ট্রেন সময়সূচি মানতে পারেনি। ফলে কিছু যাত্রীকে অতিরিক্ত সময় ট্রেনেই কাটাতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে তিন হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের পরও যারা বাড়ি ফিরছেন, তাদের বেশিরভাগই আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। ফলে স্টেশন এলাকায় যাত্রী চলাচল এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন