প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতিটি প্রাণিকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর মৃত্যু-পরবর্তী প্রথম ধাপটি হলো কবর। কবর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত জীবনকে বলা হয় আলমে বারজাখ। এই সময়ের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেলে পরবর্তী ধাপগুলোর জটিলতা কমে যাবে।
বিখ্যাত সাহাবি হজরত উসমান (রা.) বলেন, আমি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘কবর হচ্ছে আখিরাতের প্রথম ধাপ। যে এর আজাব থেকে মুক্তি পাবে, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে মুক্তি পাবে না, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন হবে।’ (তিরমিজি: ২৩০৮) প্রতিটি মানুষকে কবরে ৩টি প্রশ্ন করা হবে।
রবের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ উদাসীন। দুনিয়ায় তাওহিদুর রুবুবিয়্যা (প্রতিপালনে একত্ববাদ) স্বীকার না করলে, সেদিন এ প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব হবে না। তাই সব সময় তাওহিদুর রুবুবিয়্যা মেনে চলতে হবে।
সাধারণ মানুষকে রবের আসনে বসিয়ে রাখা হয়েছে, তারা এ প্রশ্নের জবাবে বলবে, ‘লা আদরি’ অর্থাৎ আমি কিছুই জানি না। মানুষ কীভাবে মানুষকে রব বানায়? কোরআনে এসেছে, ‘তারা তাদের ধর্মীয় গুরু ও নেতাদের (মান্য করার দিক থেকে দেবতা) হিসেবে গ্রহণ করেছে।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩১)
এ প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম হবে সব দিক থেকে ইসলামকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা যারা করেছে। আর যারা দুনিয়ায় ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেনি, তারা বলবে, ‘লা আদরি’ অর্থাৎ আমি কিছুই জানি না। বাস্তব জীবনে কল্পিত বিধানকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করবে, তা কখনও কবুল করা হবে না, বরং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫)
কবরের শেষ প্রশ্নে বলা হবে, তোমার নবী কে, আদর্শ ব্যক্তিত্ব কে ছিল, তুমি কার সুন্নত তথা রীতিনীতির অনুসরণ করছ? যারা অন্যের আদর্শে জীবনযাপন করেছে তারা বলবে, ‘লা আদরি’ অর্থাৎ আমি কিছুই জানি না। শুধুমাত্র যারা নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত ও সুন্নাহ গ্রহণ করেছে এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করেছে, তারা এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে সক্ষম হবে।
যারা এই তিন প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে পারবে; তাদের সম্পর্কে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আসমান থেকে একজন আহবান করে বলেন, আমার বান্দা ঠিক বলেছে। সুতরাং তার জন্য একটি জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। এছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তখন তার কাছে জান্নাতের সুখ-সমৃদ্ধি আসতে থাকে এবং তার জন্য তার কবরকে তার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হয়।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তার কাছে এক সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট সুবেশী ও সুগন্ধিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত হন এবং তাকে বলেন, তোমাকে খুশি করবে এমন জিনিসের সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর এ দিনের ওয়াদাই তোমাকে দেয়া হয়েছিল। তখন সে মৃতব্যক্তি প্রশ্ন করবে, তুমি কে? তোমার চেহারা এত সুন্দর যে, কল্যাণের বার্তা বহণ করে। তখন সে বলে, আমি তোমার সৎ আমল। (আহমাদ, মিশকাত: ১৫৪২)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন