১১:৪০ এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক পথচারীকে মারধর করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন যে, কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হলে উভয়ের মানিব্যাগ ও মোবাইল পড়ে যায় এবং সেখান থেকে তুলে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ত্রিবেণী রোডে ‘ভাই ভাই’ মেসের সামনে। এ ঘটনায় আহত পথচারী শওকত জামান (৩০) নামের ব্যক্তি উদ্ধার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসা পায়। তিনি শেখপাড়ার (শৈলকূপা) উত্তর পদমদীর ইদ্রিস আলী বিশ্বাসের সন্তান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ‘আসিফ’ মেসে থাকা হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের ৪ শিক্ষার্থী রাত ২ টায় শেখপাড়া বাজারে চা খেতে বের হয়ে ফেরার পথে এক পথচারীর সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে এটি ধস্তাধস্তিতে চলে যায়।
আরও পড়ুন: হাজার ডিসেম্বর গেলেও হাসিনা ফিরবেন না : রাশেদ খাঁন
পাশে লোক এসে দেখে আহত পথচারীর মাথায় আঘাত লেগে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রক্টররিয়াল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে আহত পথচারীকে উদ্ধার করে মেডিকেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে মীমাংসা করা হয়।
আহত পথচারী শওকত অভিযোগ করেন, "আমি বালু ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তায় এক শিক্ষার্থী ১ মিনিট কথা বলার জন্য রিকুয়েস্ট করে মোবাইলটা খুঁজে নেন। আমি মোবাইল দিলাম। কিন্তু কল না করে মোবাইল নিয়ে সামনে আগাচ্ছিলেন। তখন বুঝতে পেরে গালি দিলাম—এটা সত্য কথা। আরেকজন মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং পাশের থেকে টেবিলের ভাঙা-খুটি দিয়ে মারেন। মানিব্যাগে ৪০ হাজার টাকা ছিল। এখন ১০ হাজার পাইছি, আরও ৩০ হাজার পাচ্ছি না।"
অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থী বলেন, "শেখপাড়া বাজার থেকে চা খেয়ে ফেরার পথে ‘ভাই ভাই’ মেসের সামনে আমাকে উদ্দেশ্য করে বকাবকি করছিলেন তিনি। তখন আমি বললাম, ভাই বকতেছেন কেন? তখন তিনি ধাক্কা মারেন এবং আমি মাটিতে পড়ে যাই। তখন বন্ধুরা উদ্ধার করেন।"
অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "এক বন্ধুর সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। তখন গিয়ে দেখি দুইজনই মাটিতে পড়ে আছে। ওই সময় মাটিতে ফোন আর মানিব্যাগ পড়ে যায়। তখন তুলে নিয়ে মোবাইল আর মানিব্যাগ ফেরত দিই। আমাদের সবার মোবাইলে ব্যালেন্স রয়েছে, আমরা কেন মোবাইল নিতে চাইবো? ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অসত্য ও বানোয়াট।"
আরও পড়ুন: ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ উপসচিবের পদায়ন
এ বিষয়ে কর্তব্যরত ইবি মেডিকেল চিকিৎসক জানান, "একজনকে আনা হয়েছিল। মাথায় পেরেকের চিহ্ন রয়েছে। তবে ভিতরে বেশি ঢুকেনি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, "ঘটনা অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টররিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ানো হয়েছে। রাত ৩ থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত তাদের উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন