০৯:৫৮ পি.এম
পাবনার চাটমোহরের হাশেম প্রামানিকের হত্যাকারী ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী আঃ মমিন এবং তার সহযোগিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে এলাকার লোকজন মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া বাজারে এই মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।
ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য প্রদান করেন নিহত হাশেম প্রামানিকের স্ত্রী জহুরা বেগম, তার শিশু সন্তান সজিব হোসেন ও তৈয়বা খাতুন, জাহাঙ্গীর সরকার, সিদ্দিকুর রহমান, রাজু আহমেদ, রবিউল মোল্লা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আঃ মমিন এখনো এলাকায় বহাল তবিয়তে ঘুরছে। পুলিশ যখন রাতে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করে, তখন ফিরে যায়। তার দুধের ব্যবসাও চলমান রয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুতভাবে আঃ মমিন ও তার সহযোগিদের গ্রেফতারের এবং বিচারের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত
উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের বহিস্কৃত নেতা এবং ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী আব্দুল মমিন গং এর হামলা ও মারপিটের কারণে আহত হাশেম প্রামানিক গত ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে তার আরেক ভাই হাজু প্রামানিক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং এনএসআইকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে কৃষকদল নেতা আঃ মমিন গং ঈদের পরের দিন গত ২৯ মে সকালে নটাবাড়িয়া বাজারে হাশেম প্রামানিকসহ তার স্বজনদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। এ কারণে হাশেম প্রামানিকসহ ৭ জন গুরুতর আহত হয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাশেম প্রামানিক মারা যান। এই ঘটনার পরে রাতেই পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় অভিযান চালিয়ে শ্হাীন হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়।
হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় কৃষকদল নেতা আঃ মমিনসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তবে এখনো আঃ মমিন ও তার সহযোগিরা গ্রেপ্তার হননি। তারা নানাভাবে বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রি করার অপরাধে একাধিকবার চাটমোহর থানার পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঃ মমিনকে জরিমানা করেছেন। আঃ মমিনের পিতাসহ তার এক সহযোগিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তারা এখনো জামিন পাননি। এতে আঃ মমিন গং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভেজাল দুধ উৎপাদনের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউর রহমান জানান, মামলার পর একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরও আটক করার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা ফারুকের বিরুদ্ধে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন