০৯:৫৯ পি.এম
নীরাজ শ Sharma নামক একজন ভারতীয়সহ মোট ১৭ বিদেশীর মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে। গ্রীনকার্ড পাওয়ার সময় থেকে নাগরিকত্ব গ্রহণের নানা পর্যায়ে মিথ্যাচার, সত্য গোপন করার সাথে সাথে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরই ইউএস সিআইএস (সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস)’র পক্ষ থেকে বিচার বিভাগে এই আবেদন জানানোর তথ্য সোমবার জানানো হয়েছে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট হবার পর দ্বিতীয়বারের মত অভিবাসন-বিরোধী নানা পদক্ষেপের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে একইসাথে ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ বলে অভিবাসন সম্পর্কে কর্মরতরা মন্তব্য করছেন।
নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিথ্যাচার এবং প্রতারণার দায়ে এর আগে ১৯৯০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ২৭ বছরে মোট ২৯৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে, যার মানে হচ্ছে বার্ষিক গড়ে ১১ জন এই ধরনের আচরণের শিকার হয়। ট্রাম্পের আমলে চলতি জুনে ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আবেদন জানানোর ঘটনার কারণে অভিবাসন-সমাজে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এ বছরের মে মাসেও বেশ কয়েক ডজন বিদেশীর নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে বিচার বিভাগে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় (ভাই/বোন/স্বামী/স্ত্রী) ছাড়া আরও অনেক প্রোগ্রামে বিদেশীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অনুমতি লাভ করেন এবং তারা টানা ৫ বছর পর্যন্ত বসবাস করার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ধরনের নাগরিকদের ‘ন্যাচারালাইজড সিটিজেন’ হিসেবে স্বীকৃত করা হয়, অর্থাৎ তারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীদের মতো সকল সুযোগ সুবিধা ভোগের অধিকারী হন (প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ ছাড়া)। তবে যদি কেউ গুরুতর কোনো অপরাধে লিপ্ত থাকার তথ্য গোপন করে কিংবা নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় থেকে মিথ্যা তথ্য প্রদানের চেষ্টা করে এবং কর্তৃপক্ষ এটি জানতে পারে, তখন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর কর্তৃপক্ষ ন্যাচারালাইজড সিটিজেনশিপ কেড়ে নেওয়ার আইন কার্যকর করতে অধিকতর মনোযোগী হলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এটি আরও তীব্র করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থি, অর্থাৎ ইসরায়েলের আগ্রাসী কার্যকলাপের বিরোধীতাকারীরাও সম্প্রতি যেকোনো পদক্ষেপের ভিকটিম হয়েছেন।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন যে, নিউজার্সির ‘ম্যাগনাভিশন’ নামক স্ট্যাফিং কোম্পানির মালিক হিসেবে নীরাজ শর্মা ১১ ভারতীয়কে এইচ-১বি ভিসায় (উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী) যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন এবং মিথ্যা ও ভুয়া ডক্যুমেন্ট সাবমিট করেছেন। এর পাশাপাশি, ২০১৭ সালে নাগরিকত্ব গ্রহণের ইন্টারভিউ’র সময়ও তিনি মিথ্যাচার করেছেন এবং দক্ষ কর্মীর জন্য জাল ডক্যুমেন্ট জমা দিয়েছেন। ১৭ জনের মধ্যে অন্যরা হলেন মেক্সিকান, হাইতিয়ান, কলম্বিয়ান এবং কিউবার নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত এটর্নী জেনারেল টোড ব্ল্যাঙ্ক বলেছেন, এ ধরনের অপকর্মে লিপ্তদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। গুরুতর অপরাধী অভিবাসীরা অতীতের জঘন্য অপরাধ গোপন করা ছাড়াও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক অথবা মাদক পাচার ও যৌন হয়রানির সাথে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়গুলোর ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার
এ প্রসঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কোআইন মুলিন বলেন, এ ধরনের ন্যাচারালাইজড সিটিজেনদের শনাক্ত করে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন