০৫:১৩ পি.এম
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এই কারণে দুর্ভোগে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার কাটিয়া, কামালনগর, পলাশপোল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড়, সুলতানপুর, বদ্দীপুর কলনি, মধুমল্যার ডাঙি, মাঠপাড়া, মাছখোলার নিম্নাঞ্চলগুলোর গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের পাশের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেকের বসতঘরে পানি জমছে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের জিয়া হল এলাকার বাসিন্দা অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু জানান, কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত পুরো সড়ক পানির নিচে ডুবে গেছে। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকগুলো সঠিকভাবে চলতে পারছে না। হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বৃষ্টি হলেই এমন অবস্থা তৈরি হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। বাধ্য হয়ে আনসার-ভিডিপি ক্যাম্প ঘুরে আদালতে বা বড় বাজারে যাতায়াত করছি।’
কাটিয়া এলাকার ফারুক হোসেন সোহাগ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে সড়কগুলোতে পানি জমে যায়। পৌরসভার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন খনন করে রেখেছে কিন্তু কাজ শেষ না করায় বিপাকে পড়েছি আমরা। তিনি বলেন, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে রান্না ঘরে পানি জমে আছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। পৌরসভার ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত হয়ে রয়েছে।
অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে এবং কোথাও ড্রেনের ধারণক্ষমতা খুবই কম। ফলস্বরূপ, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে খাল ও নদী পুনঃখননের কাজ চলছে। সড়ক সংস্কারও করা হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হবে। প্রাণসায়ের খালে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে শহরের সব ড্রেন সচল করে ওই খালের সাথে সংযুক্ত করা হবে। চলতি বছর শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে, এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না
একই অবস্থা কলারোয়া, তালা, আশাশুনি উপজেলায়ও দেখা যাচ্ছে। অতি বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ঘের ও পুকুরে পানি বেড়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জুলফিকার আলী রিপন বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ৩০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এখন বেশ কয়েক দিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন