প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে, জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালে, বাংলাদেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে এবং ১০৯ জন আহত হয়েছে। এ তথ্য বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী শনিবার (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠবে, তেমনি নির্মাণ হবে একটি সুশৃঙ্খল জাতি।
জানান, মিরসরাই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অভাব রয়েছে। এব্যাপারে তিনি দাবি করেন যে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী নিহত হচ্ছে এবং অনেকে আহত হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী পরিসংখ্যান অনুযায়ী বললেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় হাজির ৩৬০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারায় এবং ১০৯ জন আহত হয়।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ছাত্রবাহী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪৫ জন নিহত হয়। এটি দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই ঘটনার পরেও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।
এর ফলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরি হয়নি। প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে।
সংগঠনের তথ্যানুসারে জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত হয় এবং ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন প্রাণ হারায় এবং ১১ জন আহত হয়। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।
মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন প্রাণ হারায় এবং ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হন।
দেশের শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচটি সুপারিশ জানিয়েছেন। সুপারিশগুলো হলো—
১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা।
২. প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের সব গুরুত্বপূর্ণ পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।
৪. মহাসড়ক সংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে 'রোড সেফটি গার্ড' নিয়োগ দেওয়া এবং লাল পতাকা ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা।
৫. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন