১১:২৩ পি.এম
ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেছেন, সর্বজনীন পেনশন বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম অবলম্বন এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশন সেবার আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আজ মাদারীপুরে দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পেনশন স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষভাবে বার্ধক্যে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে।’
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে পেনশন স্কিমে সঞ্চয় করতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স হলে পেনশন হিসেবে সেই অর্থের সুবিধা পাবেন। জীবনের যেই সময়ে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন, তখন এই পেনশন একজন নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো পেনশন গ্রাহক ৬০ বছর বয়সের আগে মারা যান, তবে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। আয়-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যেকোনো গ্রাহকের নিয়মিত চাঁদা দানে অসুবিধা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী চাঁদার পরিমাণ কম-বেশি করার সুযোগও রয়েছে।
ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরই ফিরে দেওয়া হবে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে এ ধরনের পেনশন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পেনশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।’
এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব শরীফ নজরুল ইসলাম। আলোচনা সভার শুরুতে জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অতিথিদের স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
আলোচনা সভায় আগত অতিথি এবং অংশগ্রহণকারীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয়ের কথা তুলে ধরেন। পরে, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসব প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করেন।
বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় দেশের সব জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা বজায় রাখার প্রয়োজন।
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়। মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংকের স্টল উপস্থিত ছিল।
এছাড়া, ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ সকাল ১০টায় মাদারীপুর জেলার সমন্বিত অফিস প্রাঙ্গণের সামনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়ক ঘুরপথে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মোড় হয়ে ১০ তলা সমন্বিত অফিস প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের
পরে, ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন ড. মো. সুরাতুজ্জামান। এরপর সরকারি সমন্বিত ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন