১১:৩৭ পি.এম
নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের মাধ্যমে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএ এর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ এর মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯% হুবহু মিলে গেছে। ইতিমধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে এসে পৌঁছেছে। পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার প্রস্তুতি চলছে। এ সম্পর্কে পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করার পর অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের নমুনা ম্যাচ করেছে। আমরা গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। তদন্তে কোনো ধরনের গ্যাপ না থাকার জন্য কয়েকজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তিন-চার দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারব।’ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর জানিয়েছেন, নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষকের ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে রাষ্ট্রপক্ষের পিপির মতামত নেওয়া হয় এবং তিনি এ বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যাবে এবং আদালত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মামলার নথিসূত্রে জানা যায় যে, চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং শরীরের পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা তাকে বাড়িতে ফিরে আসতে বলেন। পরে ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আমান পালিয়ে যান। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি সমস্ত দায় অস্বীকার করে শিশুটির পরিবারের দিকে আঙুল তুলেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। এই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করায় র্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিলে ১৭ মে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা ২৯ জুলাই সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে আসামি মাদরাসাশিক্ষক কারাগারে রয়েছেন এবং নবজাতকসহ শিশুটি সিলেটের সেফ হোমে অবস্থান করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন