০৯:৩৩ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরবর্তী ধাপ নিয়ে। বিপরীতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হবে না।
গত রবিবার, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের শুরুতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল ১৫ দফা নথি গ্রহণ করে না।’ তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা রেখে কথা না বলার জন্য একই বক্তব্য পুনরায় তুলে ধরেন।
নেতানিয়াহুর এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ গাজায় যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
তবে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, হামাসের অস্ত্র পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী কোনো প্রত্যাহার করবে না। তার ভাষায়, হামাসের সব অস্ত্র, শুধু ভারী অস্ত্র নয়, হালকা অস্ত্রসহ প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত হওয়া উচিত।
হামাস, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিষয়ে বলেছে, তারা রোডম্যাপের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেইসঙ্গে, নেতানিয়াহুকে পরিকল্পনা মেনে চলতে চাপ দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
গাজা নিয়ে নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের কারণে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির সাধারণ নির্বাচন এখন ১২ সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে। বিভিন্ন জরিপে নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি কঠিন বলে উঠে এসেছে।
ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে একাধিক দলের সমন্বয়ে জোট গঠন করতে হয়। নেতানিয়াহুর জন্য নির্বাচনের পরবর্তী জোটের হিসাব এখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় থাকতে হলে তাকে ডানপন্থী মিত্রদের সমর্থন প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা সমর্থন করে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী মিত্ররা প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে। গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পূর্বের সিদ্ধান্তও বাতিলের দাবী জানিয়েছে।
তবে, নেতানিয়াহুর অবস্থানকে শুধু ডানপন্থীদের খুশি করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। ইসরায়েলি ভোটারদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক ধারণা রাখলেও তারা মনে করেন গাজা নিয়ে ইসরায়েলের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল পদক্ষেপ।
ওদিকে, গাজায় ট্রাম্পের পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন না হয়, তবে হামাস আবারও অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারে এবং ২০২৩ সালের মতো আরেকটি হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা দেন ট্রাম্পের গাজা বিষয়ক শীর্ষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। তার মতে, পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন বড় হামলা রোধের নিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউ এই যুক্তিকে সহজে গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান
এদিকে, গাজায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা সংযম এবং লক্ষ্য নির্ধারণের নীতিতে পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা। তিনি আরো জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে সহযোগিতাও চলছে।
কিন্তু গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার জন্য এসব কূটনৈতিক হিসাব খুব বেশি স্বস্তির নয়। যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আলোচনায় তারা কার্যত নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষমতা থেকে দূরে রয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন
আরও পড়ুন: সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন